বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

আমহার্স্ট স্ট্রিট নকটার্ন : বিশুদ্ধানন্দ সরস্বতী মারোয়াড়ি হাসপাতাল

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়


আমাকে চমকে দিয়েছিল বড় শহরের ফুটপাথের মানুষ
শান্ত একটা খিদে রঙা আলো সন্ধে সাড়ে আটটাকে রাত করে তুলতে চাইছে
কলকাতা ১৯৯৬— গোটা মানচিত্র একটা খাঁচাভর্তি পাখি
একটা গুলিতে ঝাঁঝরা প্রাচীন দুর্গের দেওয়াল
আমি বালিতে মুখ গুঁজে পালিয়ে যেতাম লোকাল ট্রেন
শিশু শ্রমিকে ঠাসা কামরা কবিতার কাজে লাগে না
শুধু আলোয় পড়ে নেওয়া দার্শনিকতা
আমার নিজের ছায়ায় ভরা ব্যাগ
ভিতর থেকে আঁচড়ে চলেছে কিশোর বিড়াল


ইতিহাসই সেই ঘিনঘিনে জন্তু
শহরের প্রকৃত কঙ্কাল তার নিকাশ ব্যবস্থা জুড়ে
ইতস্তত ছুটে চলা আমাদের লুকোনো অস্বস্তি

সমস্ত রকমের উনুন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষুধা
সমস্ত রকমের বাসন কথা বলছে জলের ভাষায়

আমি বারবার ছিটকে যাচ্ছি
স্বপ্ন আর ইতিহাসের যৌথ আক্রমণ থেকে

আমার চামড়ায় বিঁধছে অস্বীকারের নৈঃশব্দ্য
আমার সমস্ত পালানোয় নৈঃশব্দ্যের অস্বীকার


আমার অভ্যাসে পরিণত হচ্ছিল বড় শহরের ফুটপাথের সংসার
অথচ সময় পেরোতে পারছিলাম না
কোনও বাতাসই উপড়ে আনতে পারছিল না
সেইসব পরিবারের পিঠ ঠেকাবার দেওয়ালে আটকানো সিনেমার পোস্টার

শুধু প্রাচীন হাসপাতালের সেই গাঁথুনি জুড়ে
ঘড়ির কাঁটার মধ্যেকার উন্মাদনার জীবাশ্ম

এই সন্ধে সাড়ে আটটা ও তার রাত হয়ে উঠতে চাওয়ার শান্ত হিংস্রতা
ফালাফালা করে দিচ্ছিল ঘরমুখী সমস্ত পেশির দ্রুতি

অঙ্কন : দেবাশীষ সাহা
মতামত জানান

Your email address will not be published.