বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১২

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জবরদস্তি কর্তৃত্ব ফলানোর রোগে ফ্রান্সের নিজেরই হাত পুড়েছে। ক্রমশ আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাচ্ছে। এখন সময় এসেছে। দাবি উঠেছে, ঔপনিবেশিক চুক্তি বাতিল করে আইভরি কোস্ট আক্ষরিক অর্থে স্বাধীন হোক।

পীযূষ রায়চৌধুরী

অস্থির আইভরি কোস্ট

আইভরি কোস্টের সমার্থক চেলসির ফুটবল হিরো দিদিয়ের দ্রোগবা। দেশের সব থেকে বড় আইকন। যিনি ২০০৬-এ দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলের ফাইনাল পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর মানুষ দ্রোগবাকে মনে রাখবে এই জন্য যে গৃহযুদ্ধ থামাতে দেশের প্রেসিডেন্ট জিবাগবোকে স্বৈরাচারী বলে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তিনি। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে কিছুদিনের জন্য গৃহযুদ্ধ থমকে ছিল। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস। ২০১১ সালে জোর করে জিবাগবোকে গদিচ্যুত করার পর ‘গুইবারৌয়া’-তে দ্রোগবার বাবার বাড়ি বিদ্রোহীরা পুড়িয়ে দেয়। কারণ দ্রোগবা আর প্রেসিডেন্ট জিবাগবো একই সম্প্রদায়ের।

দেশের আইকন, চেলসির ফুটবলার দিদিয়ের দ্রোগবা।

ক্যারাভ্যানে লাইবেরিয়া বসতির শেষ প্রান্ত ‘গান্টা’ পেরিয়ে সীমান্তে আইভরি কোস্ট অভিবাসন দপ্তরে অপেক্ষায় আমরা। পর্যটকদের ভিড় না থাকলেও শরীরের তাপমাত্রা নেওয়া, বীজাণুনাশক জলে পা ধোয়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে বেলাশেষ। কোনও ইবোলা ভাইরাস আমদানি করেছি কিনা তার পরীক্ষা। ভিসা পেয়েছি ‘রাবা’-তে, অনলাইনে। খরচ ৬৮ ইউরো। বায়োমেট্রিক টেস্ট, ফিঙ্গার প্রিন্ট, ছবি সব কিছু আইভরি কোস্ট এমব্যাসিতে। ইয়ালো ফিভার টিকার সার্টিফিকেট না থাকলে মূল্য ধরে দিলে বর্ডারেই ব্যবস্থা হবে। রাত কাটিয়েছি ইমিগ্রেশন চৌহদ্দিতে। আইভরি কোস্ট মানে নিরাপত্তা সমস্যা। সীমান্তের কুড়ি-পঁচিশ কিলোমিটারের মধ্যে আর্মড মিলিশিয়ারা ডাকাতি করে, এমনই একটা ধারণা ছিল আমাদের। যদিও ২০১৫-র পর তেমন কোনও ঘটনার কথা শোনা যায়নি। স্টিভ বাদাড়ে রাত কাটানোর ঝুঁকি নেয়নি।
জায়গাটা সমুদ্রতল থেকে পাঁচশো মিটার উঁচুতে। আবহাওয়া মনোরম। লাইবেরিয়া ভ্রমণের জন্য সময়সূচিতে হপ্তাখানেক পিছিয়ে ছিলাম। কয়েকজনের ঘানা ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে আসছে। তাই আইভরি কোস্টে সংক্ষিপ্ত সফর। দক্ষিণে বাণিজ্য রাজধানী ‘আবিজান’ ছিল পথপঞ্জির বাইরে। কারণ সময়াভাব ও ভয়। তখন গৃহযুদ্ধের এপিসেন্টার আবিজানে মিলিটারি ও পুলিশের বিক্ষোভ চলছিল। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় আহত বা হতাহত হলে চিকিৎসা বিমা অকেজো। গৃহযুদ্ধ শেষ হলেও উত্তর-দক্ষিণের মধ্যে রেষারেষি তখনও অব্যাহত।
প্রথম শহরতলি ‘ডানানে’। চেক পয়েন্টে আবার স্ক্রুটিনি, পুলিশ পাসপোর্টের কপি ও প্রত্যেকের ছবি নিল। কেমন যেন অবিশ্বাসের বাতাবরণ। গৃহযুদ্ধের অপ্রীতিকর প্রভাব তখনও বর্তমান।
মূলত যিশুর দেশ হলেও প্রতিবেশী দেশ ‘বুরকিনা ফাসো’ ও ‘মালি’ ইসলামপন্থী। তাই দেশের উত্তর অংশে ইসলামের প্রভাব। আমাদের যাত্রাপথ পশ্চিম দিকে ‘মান’ হয়ে রাজধানী ‘ইয়ামুসুক্র’। পথে পড়ল ‘সাসান্দ্রা’ নদী। তার ওপর বাঁধ ও লেক ‘বোনো’। লেকের পাশে মাছ বিক্রি হচ্ছে। অনেকদিন বাদে ধানখেত দেখলাম। কমলা ও আনারসের বাগান, কাসাবা খেত। এখানেও পিঠে শিশুকে বেঁধে মেয়ে পসারি বিক্রি করছে নানারকম ফল। দামে সস্তা। এই প্রথম দেখলাম পরপর কাঠ চেরাইয়ের করাতকল। জঙ্গল ধ্বংস হচ্ছে। ঢাউস ক্যারাভ্যান দেখে একদল বাচ্চা উচ্ছ্বাসে চেঁচাতে চেঁচাতে প্রায় এক কিলোমিটার ক্যারাভ্যানের পিছন পিছন দৌড়োলো। গরম, আর্দ্রতায় হাঁসফাঁস অবস্থা। রাঙামাটির কাঁচারাস্তা, উড়ো ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে শরীর। ‘ডুয়েকোরে’-তে কয়েকজন ক্যারাভ্যান থেকে নেমে গেল। ওরা যাবে ‘টাই ন্যাশনাল পার্ক’-এ। পরে ‘আবিজান’, ‘গ্র্যান্ড বাসঁন’ ঘুরে হপ্তাখানেক বাদে ঘানায় দলের সঙ্গে যোগ দেবে।

বাঁদরের মাংস বিক্রি।

‘মান’ ব্যস্ত শহর। ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে ‘কেইব্লা’-তে সে রাতের মতো বুশ ক্যাম্প। ‘গ্র্যান্ড মার্সে’ (Grande Marche) ফরাসি ভাষায় বাজার। আগামী কয়েক দিনের খাবার কিনতে আমরা হাটেবাজারে ঘুরছি। নোংরা, ঘিঞ্জি, ঠাসাঠাসি ঝুপড়ি দোকানপাট। লোকারণ্য। ছোট ছোট ফুড স্টলে (মাকিস), ইঁদুর, বাঁদর, বাদুড় (fruit bat), বিভিন্ন বুশ মিট বিক্রি হচ্ছে। বাদুড়, বাঁদর ইবোলা মহামারির কারণ। প্রতিবেশী দেশে মড়কে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। এখানে থোড়াই কেয়ার। ওরা বিশ্বাস করে না বুশ মিট এর জন্য দায়ী। কয়েক পুরুষ ধরে মানুষ এইসব মাংস খেয়ে যাচ্ছে। কখনও নাকি কারও কিছু হয়নি। ইঁদুরের চাহিদা বেশি। উনুনে সেঁকা মেঠো ইঁদুর, স্মোকড বাঁদর, বাদুড়ের রোস্ট ওদের কাছে ডেলিক্যাসি। দু’জন ঝলসানো বাঁদরের ঠ্যাং দাঁতে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে। ক্রিস ফরাসিতে জিজ্ঞেস করল, Comment est le gout? (how is the taste?)।
Tres bon (Very good)।
Pourquoi mangez vous de la viande de brousse (why are you eating bush meat?)
J’ai faim (I am hungry)।
le singe est la cause epidemie d’Ebola? (monkey is the cause of Ebola epidemic)।
on ne pense pas (we don’t think so)।
হস্তশিল্পের দোকানে রয়েছে বুনো শুয়োরের (wart hog) দাঁত, কুমিরের মাথার খুলি, অ্যান্টিক মুখোশ, উটপাখির হাড়ের মালা। বাজার ছাড়িয়ে ফাঁকা জায়গায় একজন একটা শিম্পাঞ্জি বাচ্চার ঠ্যাং ধরে ঝুলিয়ে বেশ গর্বের সঙ্গে দেখাচ্ছে।
en vente ? (for sale?)।
oui (yes)।

খোলাবাজারে শিম্পাজির বাচ্চা বিক্রি।

রাত গভীর। তাঁবুতে জেগেই ছিলাম। দূর থেকে গানবাজনার আওয়াজ ভেসে আসছে। আফ্রিকার উদ্দাম তালছন্দ। হঠাৎ অন্ধকারে হেডলাইট জ্বালিয়ে একটা ট্যাক্সি এসে থামল। যে চারজন ‘ডুয়েকোরে’-তে নেমে গিয়েছিল, বিধ্বস্ত অবস্থায় ফিরে এসেছে। চোখে-মুখে আতঙ্ক। ‘Parc national de Tai’ থেকে আবিজানে যাওয়ার পথে বাসে বন্দুক ঠেকিয়ে ওদের সব কিছু লুটে নিয়েছে ডাকাতরা। ঘড়ি, সেলফোন, টাকাপয়সা। কেউ বাধা দেয়নি। বিদেশিরা সফ্‌ট টার্গেট। বাস ওদের পুলিশ ফাঁড়িতে নামিয়ে দেয়। পুলিশ নির্লিপ্ত। ভাবটা, এ তো হয়েই থাকে। তবে ফেরার ট্যাক্সি পেতে সাহায্য করেছে। ভাগ্যিস মার্কের লুকোনো সেলফোনের হদিশ পায়নি। স্টিভের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনেক কষ্টে ক্যাম্প সাইট খুঁজে পেয়েছে।
আইভরি কোস্ট— ফরাসি ভাষায় খটোমটো ‘কোট ডি ভিওয়ার’। ফ্রান্সের উপনিবেশ হয় ১৮৯৩-এ। স্বাধীন ১৯৬০ সালে। ফ্রান্সের অনুগত ফেলিক্স হৌফুয়েট বৈগ্নি স্বাধীন দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ‘৯৩ পর্যন্ত দণ্ডমুণ্ডের অধীশ্বর। স্বজনপোষণ ও ভ্রষ্টাচারে দেশশাসন হলেও জাতিধর্ম বিভেদ না করে প্রশাসন চালিয়েছেন। কয়েক বছর সামরিক শাসনের পর ২০০০ সালের নির্বাচনে জিতে লরেন জিবাগবো দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে অশান্তি শুরু।
তারপর ১৯৯৯ থেকে ২০১১, দীর্ঘ একযুগ ধরে উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে জাতিগত বিভেদ তৈরি হল। ফ্রান্সের প্ররোচনায় গৃহযুদ্ধে জেরবার দেশ। পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ ডুবতে থাকল।
জিবাগবো গিনির প্রেসিডেন্ট সেকু টুরের মতো দেশকে ফরাসি প্রভাব মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। ফরাসিরা কর্তৃত্ব ধরে রাখতে মরিয়া। দেশটায় প্রাকৃতিক তেল, খনিজ সোনা, হিরের সম্ভার। কফি ও কোকো চাষে পৃথিবীর সেরা। বাণিজ্যের অঢেল সম্ভবনা। অতএব ফ্রান্সের ধ্বজাধারী কুয়াট্টারাকে সামনে রেখে দেশ চালানোর বাসনা। একটা গণভোটে কুয়াট্টারাকে জিতিয়ে আনা দরকার। ফরাসি ষড়যন্ত্রে লোকহাসানো মিউনিসিপ্যাল নির্বাচন হল। জিবাগবো মেকি নির্বাচন বয়কট করলেন। ভোট দিলেন শতকরা তিরিশজন। বিরোধী না থাকায় কুয়াট্টারা নির্বাচিত। জিবাগবো নির্বাচন মানলেন না। যুদ্ধ শুরু। নিরীহ মানুষকে ধরে কচুকাটা করেছিল দুর্বৃত্তরা। রাজনৈতিক বিচ্ছেদের সঙ্গে ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজনও হয়ে গেল। পশ্চিম আফ্রিকার সব থেকে সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশটাকে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে ফরাসিরা যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাঙ্ক, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, সব কিছুর নিয়ন্ত্রণে ফরাসিরা। জল, বিদ্যুৎ, পরিবহণ, বন্দর, তেল শোধনাগার, পরিকাঠামো উন্নয়ন— সাবেক সব কিছুর প্রশাসক ফরাসিরা। দেশীয় রাজপুরুষরা আজ্ঞাবহ দাস। জাতীয়তাবাদী জিবাগবোর গুনাহ, উনি ফরাসি লাগাম আলগা করার চেষ্টা করেছিলেন।
ফ্রান্সের চাহিদা ছিল কুয়াট্টারাকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে আর বিদ্রোহীদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিতে হবে। শান্তিরক্ষার্থে জিবাগবো ফ্রান্সের ভয়ঙ্কর প্রস্তাব মেনে নিলেন। মন্ত্রিসভায় বেশিরভাগ অর্ধশিক্ষিত ও দুর্নীতিপরায়ণ। দাবি মোটা বেতন, বাড়ি, গাড়ি, স্বজনদের চাকরি। প্রশাসনিক কাজ বিঘ্নিত। প্রধানমন্ত্রী কুয়াট্টারা প্রেসিডেন্ট জিবাগবোকে মানছেন না। প্রতি কাজে বাধা। সম্পূর্ণ জঙ্গলরাজ কায়েম। রাজস্ব আদায় করছে তোলাবাজরা। উত্তর থেকে শিক্ষিত শ্রেণি ডাক্তার, শিক্ষক, রাজপুরুষরা পালালেন। দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য ক্রমশ দক্ষিণে ছড়িয়ে গেল। জিবাগবোর পক্ষে দেশ চালানো অসম্ভব হয়ে উঠল। আবিজানে ব্যাপক লুটপাট, খুনখারাপি চলল সাধারণ মানুষের ওপর। রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিবাহিনী হস্তক্ষেপ করল, মদত দিল ফরাসি সেনা। কিন্তু শান্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে বিরাট অভিযোগ উঠেছিল। সেটা এইরকম— যেহেতু শান্তিবাহিনীর অধিকাংশই মুসলিম দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, জর্ডন, মরক্কোর এবং সশস্ত্র বিদ্রোহীরাও মূলত মুসলিম তাই তারা নাকি একযোগে নানা কুকর্ম চালিয়েছে। কুকাজের বিচার হয় মাঝে মাঝে কিন্তু সাজা বিশেষ হয় না।
ফ্রান্সের তর সইল না। ২০০৬-র মার্চে জিবাগবোকে আঘাত করার পরিকল্পনা হয়ে গেল। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট সিরাক চেয়েছিলেন নির্বাচনের আগেই কুয়াট্টারা প্রেসিডেন্ট হোন। আগে বার তিনেক চেষ্টা বিফলে গেছে। দেশের উত্তরে প্রশাসন বলে কিছু নেই। অঞ্চলটা কুয়াট্টারার ব্যক্তিগত জায়গির। মানুষ সন্ত্রস্ত। ফ্রান্সের তত্ত্বাবধানে ভোটার রেজিস্ট্রেশন শুরু। বিদেশি ভাড়াটে গুন্ডাদের নাম ভোটার লিস্টে। প্রকৃত নাগরিকদের নাম বাদ।
দেশের পঞ্চাশতম স্বাধীনতা দিবসে ঘোষণা হল নির্বাচনের দিন। ২০১০-এর ৩১ অক্টোবর। প্রহসনের নির্বাচনে উত্তরে একতরফা ছাপ্পা ভোট পড়ল। গুন্ডাদের আতঙ্কে অনেকে ভোট দিতে গেল না। তবুও গণনায় জিবাগবো এগিয়ে। সাংবিধানিক আদালতের ঘোষণায় জিবাগবো জয়ী। কিন্তু ফ্রান্স, ইউনাইটেড নেশন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, পর্যবেক্ষক হিলারি ক্লিনটন দাবি করলেন, জিতলেও জিবাগবোকে গদি ছাড়তে হবে দেশের স্বার্থে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে আফ্রিকার কিছু দেশ জিবাগবোর পেছনে দাঁড়াল। এরপরের ইতিহাস মারাত্মক। বিভিন্ন প্রান্তে জিবাগবোর সমর্থকদের গণহত্যা, ধর্ষণ, লুট, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ শুরু। হামলায় কুয়াট্টারার গুন্ডাবাহিনী। তাদের নিরাপত্তায় ফ্রান্স আর শান্তিরক্ষা বাহিনী। আবিজানে রাস্তায় রাস্তায় মারপিট। খুনজখমে ঘায়েল হল সরকার বিরোধী আর অনুগত, উভয় পক্ষই। বিদ্রোহীদের বেয়াদবি বন্ধ করতে সামরিক বাহিনী পথে নামল। ফ্রান্স আক্রোশে জবাব দিল। এয়ারপোর্ট দখল করে এয়ারফোর্সের সব বিমান ধ্বংস করল। জিবাগবোকে ধরতে প্রেসিডেন্টের বাসস্থান হোটেল আইভয়ার-এর দিকে এগোল। আবিজানের মানুষ হোটেলের বাইরে জড়ো হয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় সশস্ত্র ফরাসিদের বাধা দিল। কোনও সতর্কীকরণ ছাড়া সরাসরি গোলাগুলি চলল প্রতিবাদীদের ওপর। হোটেলের ওপরের অংশ স্নাইপারের গোলায় ধ্বংস হল। বহু মানুষ প্রাণ হারাল, গুরুতর আহত অগুনতি। নিষ্ঠুর, অনুভূতিহীন হত্যালীলা। বিশ্ব স্তব্ধ কিন্তু বিবৃতিদানে সাবধানী।
রাজশক্তির যুদ্ধে ধুরন্ধরের জয়। জিবাগবোকে আবিজান থেকে পাচার করা হল উত্তরের এক জেলে। জিবাগবোর স্ত্রী আর সরকারের যত মন্ত্রী-পারিষদ, সবাইকে জেলে পোরা হল। অনুগত সেনারা ঘানায় পালিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইল। কুয়াট্টারা নিজেকে আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন। গুন্ডা, বদমাশ, অপরাধীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা ও প্রশাসন গঠিত হল।
অপরাধীরা আগের সরকারের আধিকারিক, মেয়র, দেশপ্রেমিক ও সাধারণ মানুষকে ধরে ধরে কচুকাটা করল। আজ আইভরি কোস্ট একইভাবে ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে। কুয়াট্টারা ব্যক্তিগত জীবনে একজন অর্থনীতিবিদ। কোনও রাজনৈতিক ভিত্তি নেই। একমাত্র যোগ্যতা হল ওর স্ত্রী ফরাসি। তাই ফ্রান্সের নেকনজরে। গৃহযুদ্ধে ফরাসিদের ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি হয়েছে। ওরা ক্ষতিপূরণ চাইল। কুয়াট্টারা দাবির চাইতেও বেশি পুষিয়ে দিলেন।
অপরাধীদের শাস্তি হল না। দেশে বিক্ষোভ, অসন্তোষ বাড়ছে। নাগরিকদের ওপর যে জঘন্য অপরাধ হয়েছে, মানুষ ভোলেনি। সাম্প্রতিককালে হেগ আন্তর্জাতিক আদালত জিবাগবোকে নিরপরাধ ঘোষণা করেছে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জবরদস্তি কর্তৃত্ব ফলানোর রোগে ফ্রান্সের নিজেরই হাত পুড়েছে। ক্রমশ আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাচ্ছে। এখন সময় এসেছে। দাবি উঠেছে, ঔপনিবেশিক চুক্তি বাতিল করে আইভরি কোস্ট আক্ষরিক অর্থে স্বাধীন হোক।
মান থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে রাজধানী ইয়ামুসুক্র। সেখানে প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স হৌফুয়েট বৈগ্নি-র মস্তবড় প্রাসাদে বিলাসী জীবন। অবাধ ক্ষমতায় পেলেন বেহিসেবি অপচয়ের ছাড়পত্র। ১৯৮৩-তে রাজসিক খেয়ালে নির্মাণ করলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা, ইয়ামুসুক্রতে। বললেন, ক্যাথেড্রালটি তার ব্যক্তিগত উপহার পোপ জন পলকে। একই বছরে রাজধানী আবিজান থেকে ওর জন্মস্থান ইয়ামুসুক্রতে সরিয়ে আনলেন। যথেচ্ছ অপব্যয়ে শহরকে সাজালেন মানুষকে অনাহারে রেখে।

ব্যাসিলিকা, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা।

৩৭ হেক্টর জমিতে তিরিশ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গির্জা। নাম— লেডি অফ পিস। নির্মাণ খরচ রাক্ষুসে ২০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার। রোমের ভার্সাইয়ে সেন্ট পিটার্স চার্চ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন ফেলিক্স। একই ধাঁচে ধনুকের মতো খিলানওয়ালা ব্যাসিলিকা। পোপ জন পল টু-এর ছোঁয়ায় পবিত্র হয় ‘৮৯ সালে। সেন্ট পিটার্স নির্মাণ করতে রোমের লেগেছিল ১০৯ বছর আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে এই অত্যাশ্চর্য গির্জার সৃষ্টি মাত্র তিন বছরে। সাড়ে চার হাজার দক্ষ কারিগরের নিরবিচ্ছিন্ন প্রয়াস। স্টিল, মার্বেল, স্বচ্ছ রঞ্জিত কাচ, মেহগনি কাঠের দুরন্ত ব্যবহার। গম্বুজের উচ্চতা ১৩৮ মিটার, সেন্ট পিটার্সের থেকে দু’মিটার বেশি। গম্বুজের মাথায় সোনার গ্লোব। গির্জাকে বেড় দেওয়া দুটো বাহুকে ঠেকনা দিয়েছে ১২৮টি বিশাল স্তম্ভ। বাহুর ওপর চারটি ছোট গম্বুজ। সেগুলো নিউ টেস্টামেন্ট গসপেলের প্রচারক ম্যাথিউ, মার্ক, লিউক আর জন-এর প্রতীক। উন্মুক্ত স্থানে মার্বেল মেঝেতে ধর্ম আর শান্তির দূত ঘুঘু পাখির নকশা।

গির্জার বাহুকে ঠেকনা দেওয়া স্তম্ভ।

গম্বুজের নীচে বৃত্তাকার প্রার্থনার জায়গাটি বিশাল, একসঙ্গে কুড়ি হাজার মানুষের উপাসনাস্থল। লিফ্‌টে চড়ে এগারো তলার অলিন্দে যাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রার্থনা স্থানের দৃশ্য চমকপ্রদ। গম্বুজের দেওয়াল নীল। ৪০ মিটার ব্যাসরেখার স্কাইলাইট। দ্বিতীয় অলিন্দ স্কাইলাইটের নীচে। সেখানে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। পুরো উপাসনাস্থল স্বচ্ছ রঙিন কাচে মোড়া। ২৪টি জানলা। প্রত্যেকটি জানলার কাচে বুটি দিয়ে খচিত বাইবেলের গল্প। দ্বিতীয় অলিন্দ ঘিরে বারোটি জানলায় বারোজন ধর্মপ্রচারকের প্রতিচ্ছায়া অঙ্কিত। বসবার জন্য দামি কাঠের বেঞ্চে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রন্ধ্র। প্রথম সারির একটা আসন প্রেসিডেন্টের জন্য। তার নামে ফলক লাগানো। প্রতিটি আসনের লালগদি ফাইবার গ্লাসে আবৃত যা অনাবশ্যক শব্দকে শুষে নেয়।

ব্যাসিলিকার প্রার্থনাস্থল।

উপাসনাস্থলের কেন্দ্রে সোনার পাতে মোড়া ক্রশ। কাটগ্লাসের ঝাড়লন্ঠন। গম্বুজ থেকে আলো ঠিকরে নীলকান্তমণি জহরতে তৈরি বেদির ওপর পড়েছে। দুটো চ্যাপেল বা ঠাকুরঘর। প্রথম চ্যাপেলে মার্বেল পাথরের মেরি। সেন্ট পিটার্সে মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর সৃষ্টি মেরির অবিকল প্রতিরূপ। পার্থক্য শুধু, বাঁ হাতের পরিবর্তে ডান হাত উঁচুতে তোলা। বাঁ হাতের বন্ধনীতে শিশু যিশু, আফ্রিকার সংস্কৃতি মেনে পরিবর্তন। দ্বিতীয় চ্যাপেলে জোসেফের শ্বেতপাথরের স্ট্যাচু। খোদাই করা কাঠে মেরির মূর্তি। মেরি এখানে আফ্রিকার মানবী। শিল্পী একজন মুসলিম। মূর্তির মুখে বিষণ্ণতা কিন্তু দূর থেকে দেখলে মুখে স্মিত হাসি। সেন্ট জাঁ পল টু-এর মার্বেলের মূর্তিও রয়েছে। যিনি মৃত্যুর আগে বার তিনেক এই ব্যাসিলিকায় ঘুরে গেছেন। ২০১৩ সালের যাজকতন্ত্রে তিনি সন্ত হন। পাপ স্বীকার করার কক্ষ রয়েছে বারোটি। নৈবেদ্যর বাক্সে অর্ঘ্য দেবার সময় বাতি জ্বলে ওঠে। পুজোর বেদির ওপর রাখা ‘ব্রেড অ্যান্ড ওয়াইন’। প্রার্থনা স্থানের ডানদিকে দীক্ষা দেওয়ার পবিত্র জলাধার। গির্জায় ঢোকার চব্বিশটি দরজা।

ক্যাথেড্রাল ‘লেডি অফ পিস’।

শহর থেকে দূরে এক নিরিবিলি জায়গায় গির্জা। যাতায়াতে অসুবিধে। পৃথিবীর বৃহত্তম ও সব থেকে জাঁকজমকপূর্ণ গির্জায় প্রতি রবিবার বড়জোর চারশোজন উপাসনায় যোগ দেন। রট আয়রনের বেড়ায় ঘেরা ক্যাম্পাস। মূল দ্বার থেকে ব্যাসিলিকা এক কিলোমিটার দূরে। হেঁটে যেতে হয়। গির্জার পশ্চিমে মহামান্য পোপের থাকার জন্য বিশাল বাড়ি। গির্জার পিছনে কুমিরভর্তি জলাশয়। কুমিরকে খাওয়ানোর অনুষ্ঠান দেখা হল না।

চার্চের মধ্যে ইন্টিরিয়র।

একইসঙ্গে মুগ্ধ ও বিরক্ত হবার দাম পড়ল দু’হাজার সিএফ এ বা দুশো টাকা। গাইডকে জিজ্ঞেস করলাম, এই পাণ্ডববর্জিত জায়গায় গির্জা বানানোর বিপুল পরিমাণ টাকা যোগাল কে?
গাইডের মুখে হালকা তির্যক হাসি। বললেন, ঈশ্বর।
হৌফুয়েট বৈগ্নি ছিলেন আফ্রিকার অল্পকয়েক বিদ্বান ও কুসংস্কারমুক্ত শাসকের অন্যতম। পশ্চিম বিশ্বে তার পরিচয় ছিল ‘সেজ অফ আফ্রিকা’। ফ্রান্সের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার আমলে দেশ কিছুটা উন্নতি করেছিল। মারা গেলেন ১৯৯৩ সালে, পেছনে রেখে গেলেন বিপুল ঋণ।
স্টিভ সবার ইয়ালো ফিভার ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট সম্ভবত লাইবেরিয়া-গিনি বর্ডারে ভুলে ফেলে এসেছিল। অরিজিনাল সার্টিফিকেট দরকার সব জায়গায়। ব্যাপক বিপদের আশঙ্কা ছিল। ইয়ামুসুক্রর ইমিগ্রেশন অফিস থেকে ফটোকপি দেখিয়ে কপালজোরে নতুন সার্টিফিকেট পেলাম। সহযোগিতার খেসারত কত, স্টিভ আমাদের জানায়নি।
ঘানার দিকে যাওয়ার সময় ‘ইওয়াউরে’ অঞ্চলে সারি সারি কফি, কোকো প্ল্যান্টেশন। চেক পয়েন্ট থেকে একশো মিটার দূরে শ্রমিক বস্তি। কোকো বাগিচা ধ্বংস করে পরপর খাত, পরিখা খুঁড়ে হাজারখানেক নারী-পুরুষ কোদাল, গাঁইতি, বাটালি, হাতুড়ি দিয়ে পাথর ভেঙে, মাটি কেটে আকরিক সোনা খুঁজছে। বিনা লাইসেন্সের গোল্ড মাইন। একসময়ের রিবেল কম্যান্ডাররা এখন আইভরি আর্মির বড় মানুষ। এরা এখন অবৈধভাবে মাইনিং থেকে সোনা পাচারের বিপুল ফায়দা তুলছে। এর জন্য সরকারকে কোনও ট্যাক্স দিতে হয় না। শ্রমিকদের ছিঁচকে চুরি আটকানোর জন্য বড় বড় চোরদের হয়ে টহলদারিতে ব্যস্ত বন্দুক-সহ সিকিওরিটি গার্ড। সারা দেশটাই এখন অস্ত্রাগার। দুর্বৃত্তদের কাছে রয়ে গেছে গোলাবারুদ, বন্দুক। উদ্ধার হয়নি। যখন-তখন আবার বিক্ষোভ, অশান্তি শুরু হতে পারে।

বিনা লাইসেন্সের গোল্ড মাইন থেকে আকরিক সোনা খুঁজছেন শ্রমিকরা।

পুলিশ চেক পয়েন্টে ক্যারাভ্যানের কাগজপত্র পরীক্ষা হচ্ছে। সেখানে কোকো আবাদে বিশ্রাম করছিল কয়েকজন খনক। সবাই তরুণ। শরীর ও পোশাকে কাদামাটির আস্তরণ। বছর পঁচিশের এক ছোকরার বাড়ি ঘানায়, এসেছে কাজের খোঁজে। ইংরেজিতে বলল, কোকো প্ল্যান্টেশনে অমানুষিক খাটুনি। মজুরি কম। ওদিকে বেআইনি স্বর্ণখনিতে শ্রমিকদের কুকুরের মতো জীবন। যেদিন কিছু পাওয়া যায় না সেদিন অনাহারে থাকতে হয়। খাদানের ভেতরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু এ ছাড়া উপায়ই বা কী? অন্য কাজ কোথায়?
আইভরি কোস্টের আর এক নাম ‘চকোলেট কান্ট্রি’, কোকোর গুণফল। বিষুবরেখার কাছে গরম আর্দ্র আবহাওয়া, দোআঁশ মাটি কোকো চাষের উপযোগী। একইসঙ্গে আইভরি কোস্টের অবস্থান ‘বিরিমিয়ান গ্রিন স্টোন বেল্ট’-এ। রূপান্তরিত আদিম আগ্নেয়শিলার রং হালকা সবুজ। পাথরে মিশে আছে আকরিক সোনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইভরি কোস্টের মাটির নীচে প্রায় দুশো টন সোনা মজুত আছে। সেই কারণে কোকোর দেশে এখন গোল্ড রাশ। কোকোর আবাদি জমি এখন স্বর্ণ খাদান। মুনাফায় মত্ত লোভী ক্ষমতাবানরা। পরিণাম, দেশে বেকারির বৃদ্ধি।
তখন আমরা ঘানা সীমান্তের কাছে। কোকো বাগানের পাশে আমাদের বুশ ক্যাম্প। অস্থির আইভরিতে শেষ রাত। কোকোর শুঁটি চাপাতি দিয়ে কেটে কেটে জড়ো করছে কয়েকজন। শিশুশ্রমিকই বেশি। ক্যারাভ্যান দেখে ওরা কৌতূহলী। গ্রামের লোক ভিড় করেছে। পুলিশ এল খোঁজখবর করতে। আমরা বিদ্রোহী না সরকারপক্ষ, সরেজমিনে তদন্ত। গৃহযুদ্ধের পর দেশি- বিদেশি সবাই ওদের সন্দেহের আওতায়। জেরা চলল অনেকক্ষণ। সবার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করল, পরদিন ফেরত দেবার কথা বলে। পাসপোর্ট হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি সত্ত্বেও স্টিভ ওদের ইচ্ছাকে মেনে নিল।

কোকো বাগিচায় শিশুশ্রমিক।

সকালে পাসপোর্ট ফেরত পেতেই স্বস্তি। প্রথমে দক্ষিণ-পূর্বে ‘আবেরগৌরৌ’, পরে উত্তর-পূর্বে ‘আগ্নিবিলেক্রৌ’ অঞ্চল পিছনে ফেলে ক্যারাভ্যান চলল ঘানা ফ্রন্ট লাইনে। অরণ্যঘেরা কাদামাটির রাস্তায় কালাশনিকভ নিয়ে কয়েকজন ফৌজি দাঁড়িয়ে ছিল আইভরি কোস্ট লেখা সাইনবোর্ডের সামনে। সাজসজ্জা রিবেল মিলিশিয়ার মতো। তবে ওরা আমাদের গাড়ি আটক করেনি।

কালাশনিকভ নিয়ে ফৌজি, দেখতে রিবেল মিলিশিয়ার মতো।

দেশে ঘানার ভিসা জোগাড় করতে পারিনি। মনে ভীতি ছিল, বর্ডারে আটকে না যাই। সঙ্গে ছিল অপ্রচলিত অনলাইন পেপার ভিসা। গ্লাডিস সুইঙ্গার ঘানার আক্রা ইউনিভার্সিটির অঙ্কের প্রফেসর, আমার গিন্নি পলির বন্ধু। গ্লোবাল এনজিও ‘আর্থ ওয়াচ’-এর ‘কোকো ফার্মিং অ্যান্ড বায়ো ডাইভার্সিটি’-র একটা প্রোগ্রামে কিছুদিন পলি আক্রায় ছিল। তখনই গ্লাডিসের সঙ্গে পরিচয়। আমি ঘানার ভিসা ছাড়াই আফ্রিকায় ঢুকে পড়েছি। গ্লাডিস আমার হয়ে পেপার ভিসার ব্যবস্থা করে অনলাইনে পাঠিয়ে দিয়েছে। ভিসার ফি দেড়শো ডলার জমা করে দিয়েছিল আক্রার ভিসা অফিসে। ঘানায় অন অ্যারাইভাল ভিসার চল নেই। সবার স্টিকার ভিসা, আমার পেপার ভিসা। সীমান্ত অফিসে ঘানার ইমিগ্রেশন অফিসারের সন্দেহ হল। সন্দেহ নিরসনে দীর্ঘ জেরা। আক্রার ভিসা অফিসের সঙ্গে ঘন ঘন ফোনালাপ চলল আমার ফোন থেকে। অফিসের ফোন অচল। অফিসারের সেলফোনে ক্রেডিট নেই। গ্লাডিসের সঙ্গেও কথা হল একপ্রস্থ। দীর্ঘ ছ’ঘণ্টা পর যখন অল ক্লিয়ার ম্যাসেজ এল তখন বাইরে অন্ধকার। উৎকণ্ঠার অবসান। পাসপোর্টে এন্ট্রি স্ট্যাম্প মেরে অভিবাসন অফিসার বললেন, ওয়েলকাম টু গানা।
রাতের আস্তানা সীমান্ত চৌকির ক্যাম্পাসে।

ছবি : লেখক

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ২

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৩

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৪

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৫

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৬

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৭

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৮

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৯

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১০

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১১

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১৩

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১৪

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১৫

1 Comment
  1. Mita Datta says

    সাম্প্রতিক কালের বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ সাহিত‍্যটি পড়ার জন‍্য অতঃপর এক মাসের অপেক্ষা। 🌿

মতামত জানান

Your email address will not be published.