বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ২

আলজেসিরাস ও জিব্রলটার আর ওপারে সিউটার মধ্যেকার খাঁড়ির কাছে এই ক্যাম্প সাইট। বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখানে। আছে বার-রেস্তোরাঁ, সন্ধেবেলায় সঙ্গ দেওয়ার জন্য সুন্দরী নারী। আমাদের দু’রাতের ডেরা এখানে। নম্বর দেওয়া তাঁবু বণ্টন হল। পছন্দমতো সঙ্গী নির্বাচন করে তাঁবু লাগানোর পর্ব শেষ। আমি একা।

পীযূষ রায়চৌধুরী

ব্রিটিশ ছিটমহল জিব্রলটার

বিমানবন্দরের বাইরে জিম ওয়েসিসের প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা বিভিন্ন দেশের একুশজন প্ল্যাকার্ড ঘিরে একত্র হলাম। প্রায় সবাই সাদা চামড়ার মানুষ। আমি একমাত্র তৃতীয় বিশ্বের। আরও একজন এশিয়াবাসী আছে— জাপানি। আলাপ হল দলনেতা স্টিভের সঙ্গে। আমাকে হেসে বলল, ও, তুমি সেই ইন্ডিয়ান যে ঘানার ভিসা পাওয়ার জন্য নাজেহাল হয়েছ? আমি মুচকি হেসে হ্যান্ডশেক করলাম। সবার মুখেই হাসি মিশ্রিত কৌতূহলের আলতো ছোঁয়া। প্রচলিত শিষ্টাচার মেনে পরিচয় আদানপ্রদান হল। বিভিন্ন বয়সের এক পাঁচমিশেলি দল। আমি বরিষ্ঠদের দলে। পিঠে ভারী স্যাকটা তুলে এবার নির্দেশমতো হাঁটা। জিব্রলটার বিমানবন্দর ঘেঁষা স্পেনের বর্ডার ‘লা-লিনিয়া-ডি-লাকনসেপশান।’ মিনিট দশেক হেঁটেই ইমিগ্রেশন চেকে হাজির। দলের কারওই বিশেষ সমস্যা হল না বর্ডার পেরিয়ে স্পেন ভূখণ্ডে ঢুকতে। আমি আটকে গেলাম। আমার ভিসা ভাল করে চেক করার পর ওরা ছাড়পত্র দিল। তৃতীয় বিশ্বের মানুষ হিসেবে প্রথম আঁচটা টের পেলাম।

উইনস্টন চার্চিল রানওয়ে, পিছনে জিব্রলটার রক।

কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের বাহন। ওপরে ছাউনি দেওয়া হলুদ রঙের বিরাট এক রেনল্ট ট্রাক। যে কোনও রাস্তায় বা ভূমিখণ্ডে চলার উপযোগী এই ক্যারাভ্যানটিকে অভিযানের পক্ষে উপযোগী করে তোলা হয়েছে ইংল্যান্ডের সমারসেটের ওয়ার্কশপে। ‘কারনেট’ (carnet De Passages En Douane) হল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহিঃশুল্কের এক নথিপত্র যেখানে গাড়ির মালিক অস্থায়ীভাবে কোনও গাড়িকে যে কোনও দেশে আমদানি করতে পারেন। এককালীন একটা নির্দিষ্ট মূল্য ধরে দিলে পরবর্তী সময়ে এটা করমুক্ত। অনেকটা গাড়ির পাসপোর্টের মতো। এই গাড়ি আমদানির দলিল ছাড়া একবার গাড়ি বিদেশের মাটিতে ঢুকে পড়লে তাকে বের করার ক্ষেত্রে প্রচুর সমস্যা হতে পারে। আমাদের ক্ষেত্রে ওয়েসিস আগে থেকে সব ব্যবস্থা করে রেখেছিল। বর্তমানে কারনেট ফি ৬০০ ইউ এস ডলার।

আমাদের ক্যারাভ্যান।

ক্যারাভ্যানে এবার জায়গা দখলের পালা। সিটের নীচে লটবহর রাখার কুঠুরি। দু’জনের জন্য একটা কুঠুরি বরাদ্দ। প্রথম দিকে দলের একুশজনের মধ্যে কিছুটা ধস্তাধস্তি চলল পছন্দসই জায়গা পাওয়ার জন্য। হাসিঠাট্টায় আপসে ঝগড়া। আমি একটু তফাতে দাঁড়িয়ে দ্বিধাগ্রস্তভাবে। শেষে উগনুসের সঙ্গে যুগ্ম শরিকানায় একটা কুঠুরি পাওয়া গেল। আইসল্যান্ডের উগনুস নিজের মালপত্র অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে রাখার পর দেখি আমার বোঁচকা-বুঁচকি রাখার জায়গা আর বিশেষ অবশিষ্ট নেই। মাল নিয়ে বোকা বোকা মুখ করে দাঁড়িয়ে আছি। ওর হাবভাবে মনে হল, আনন্দে থাকার ভাল উপায় অন্যের জন্য উদ্বিগ্ন না হওয়া। স্টিভ আধ ঘণ্টা সময় দিয়েছে মালপত্র গোছানোর, তাই সবার ক্ষেত্রে রাশ আওয়ার। আমি রাশ আওয়ারে অচল।
গাড়ি চলেছে আলজেসিরাসের দিকে। আলজেসিরাস স্পেনের এক বন্দর শহর। ট্রাকের মধ্যে প্রাথমিক আলাপচারিতা চলছে। আমি একটু গুটিয়ে আছি। বহু ব্যবহারে বিবর্ণ রুকস্যাক আমার দু’পায়ের ফাঁকে। তার ওপর ক্যামেরার ব্যাগ। দু-একজন আমাকে দেখে মজা পাচ্ছে। তখনও কারও নাম জানি না। সামনে বসা একজন আমার দুরবস্থার কারণটা আঁচ করে বলল, মালপত্র রাখার জায়গা খুঁজে বার করব, ট্রাক থামলে। উগনুসের অপ্রয়োজনীয় মালপত্র সরিয়ে দেওয়ার পর বাকি জায়গায় কোনওমতে আমার স্যাকটাকে রাখতে পারলাম। দীর্ঘ লম্বা সফর। দিন কে দিন এই তোষাখানা নিয়ে যে চুলোচুলি হবে তার একটা অগ্রিম আন্দাজ পাচ্ছি।
‘লা কাসিটা’— ব্যাকপ্যাকার্সদের জন্য ছিমছাম ক্যম্পিং সাইট। বর্ডার থেকে প্রায় সতেরো কিলোমিটার দূরে। স্পেনে গৃহযুদ্ধের সময় ১৯৩৬ সালে মিলিটারিদের একটা ক্যাম্প ছিল এখানে। পরে নিজের জমি ফেরত পাওয়ার পর মালিক ১৯৭৮ সালে এই ট্যুরিস্ট ক্যাম্প সাইট গড়ে তোলেন। আলজেসিরাস ও জিব্রলটার আর ওপারে সিউটার মধ্যেকার খাঁড়ির কাছে এই ক্যাম্প সাইট। বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখানে। আছে বার-রেস্তোরাঁ, সন্ধেবেলায় সঙ্গ দেওয়ার জন্য সুন্দরী নারী। আমাদের দু’রাতের ডেরা এখানে। নম্বর দেওয়া তাঁবু বণ্টন হল। পছন্দমতো সঙ্গী নির্বাচন করে তাঁবু লাগানোর পর্ব শেষ। আমি একা। নিঃসঙ্গ। আমার তাঁবুর ভাগীদার হতে কেউ রাজি নয়। আসামি কে? কালো চামড়া না তৃতীয় বিশ্ব?

লা ক্যাসিটা ক্যাম্পে ক্যারাভ্যান।

ওয়েসিসের তরফে কেটি রয়েছে দলের সঙ্গে কিছু দিনের জন্য। ওর সম্মতিতে কোনও ব্যবস্থা না হওয়া অবধি ট্রাকের মেঝেতে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। প্রথম রাতেই গোলমাল। ট্রাকের মধ্যে পার্টি। ওয়েলকাম ড্রিঙ্কে অতিরিক্ত মদ্যপানে অনেকেই বেসামাল। নেশা করে সংযত থাকার মধ্যে যে কোনও আনন্দ বা বীরত্ব নেই, অনেকেই সেটা ভাল করে বোঝে। মদের ফোয়ারায় সবাই অগণতান্ত্রিক। রাত গভীর হচ্ছে কিন্তু তখনও তামাশা বিস্তর। ক্লান্ত শরীর, শুয়ে পড়ার ইচ্ছে কিন্তু উপায় নেই। ক্যারাভ্যানে যে সবার অবাধ প্রবেশ।
স্টিভ মাথায় লম্বা, কৃশতনু । চলনে-বলনে স্মার্ট। মনোযোগে লালিত একগাল অমনোযোগী লম্বা কাঁচাপাকা দাড়ি যে পুরুষমানুষের ক্ষেত্রে ঈশ্বরের আশীর্বাদ তা স্টিভের গর্বিত আচরণে স্পষ্ট। জন্মসূত্রে ব্রিটিশ কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। দীর্ঘ চল্লিশ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে চাকার ওপর জীবন। স্টিভের জীবনদর্শনে তৃতীয় শ্রেণির শাসক হওয়ার চাইতে প্রথম শ্রেণির গাড়োয়ান হওয়া অনেক বেশি সম্মানের। লম্বা ক্লান্তিকর মেরু তরাইয়ের ঝুঁকিপূর্ণ মরুযাত্রায় একুশজন ভ্রামণিকের অদৃষ্ট স্টিভের দক্ষতা ও চালনার ওপর নির্ভরশীল। দলের সঙ্গে দ্বিতীয় কোনও চালক নেই। অসুস্থ হয়ে অব্যাহতি পাওয়ার অধিকার নেই। দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের আকস্মিক দুর্দশাগ্রস্ত করা হচ্ছে ক্ষমাহীন অপরাধ। এরকমই একটা বাহবাহীন সংকটময় জীবিকায় বাঁধা স্টিভের ভবিতব্য। ভবঘুরেমির নিট ফল দাম্পত্যজীবনে দুর্ভিক্ষ। কোনও সহকারী না থাকায় স্টিভই দলনেতা। কেটি ও জিম হপ্তাখানেকের মধ্যে বিদায় নেবে।
ট্রাকের বিভিন্ন কুঠুরির বিভিন্ন কাজ। কোনওটাতে পানীয় জল, আবার কোনওটাতে পৃথকভাবে রান্নার জলের জেরিক্যান। বাসনকোসনের জন্য অন্য কুঠুরি। বসার জন্য ক্যাম্বিসের চৌকি, জ্বালানি কাঠ রাখার জায়গা, কুটনো কোটার টেবিল, ছুরি, চামচ, থালাবাটির জন্য আলাদা আলাদা প্রকোষ্ঠ। সব কিছুই অত্যন্ত সংগঠিত ও সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো। তাঁবুর জন্য আছে আলাদা দেরাজ। ট্রাকের পাটাতনের নীচে থরে থরে সাজানো বিভিন্ন ক্যান্ড ফুড। চাল, ডাল, মশলা বা অন্য শস্য। সবজি রাখার আলাদা কম্পার্টমেন্ট। সব কিছুর জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা। আর আছে কুঠুরিতে গোপন সিন্দুক। তার মধ্যে যাত্রীরা প্রয়োজনে টাকাপয়সা বা অন্য কোনও মূল্যবান সামগ্রী রাখতে পারে। সারা যাত্রাপথে সন্ত্রাসবাদী হামলা বা দুর্বৃত্ত আক্রমণে টাকাপয়সা লুঠ হতে পারে। সাবধানের মার নেই।

ক্যাম্পিং।

লোহার পোলে বাঁধা তাঁবুগুলো বেজায় ভারী। তাঁবু লাগানো ও ব্যবহারের পর খোলসবন্দি করার একটা ডেমনস্ট্রেশন হল। ট্রাক-জীবনের নিয়মানুবর্তিতার এক সংক্ষিপ্ত ধারাবিবরণী স্টিভ ওর পেশাগত দক্ষতায় পেশ করল। কুক গ্রুপ ঠিক হল। প্রতি গ্রুপে তিনজন। সপ্তাহে একদিন করে রান্নার দায়িত্ব তাদের। ক্যারাভ্যান ঝাড়পোঁছ বা ঠিক রাখার দায়িত্ব সবার এবং রোজকার কাজ।
লা ক্যাসিটার ক্যাম্পে প্রথম দিন কেটে গেল ক্যাম্পিংয়ের বর্ণপরিচয়ে। দ্বিতীয় দিনে অখণ্ড অবসর। সবাই যাবে সীমানা পেরিয়ে জিব্রলটারে। ট্যাক্স ফ্রি পোর্ট। সস্তায় প্রয়োজনীয় প্রসাধন কেনা বা প্রয়োজনীয় কর্মটি সারতে হবে ওখানে। আমার কিছু পাউন্ডের দরকার, ওটা জিব্রলটারে এটিএম থেকে সংগ্রহ করব। ইউরোর দরকার হলে সীমানার এপারে স্পেনে পাওয়া যাবে। স্টিভ আমাদের বর্ডার অবধি পৌঁছে দিয়ে ওখানে অপেক্ষা করবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসে ফেরার ক্যারাভ্যান ধরতে হবে। স্পেন ও ব্রিটিশ ভিসায় মাল্টিপল এন্ট্রি ছিল তাই জিব্রলটারে দ্বিতীয়বার ঢুকতে বাধা নেই।
কী করে যেন একসঙ্গে হেঁটে বর্ডার পেরিয়েও একা হয়ে গেলাম। ইংল্যান্ডের মানুষ ভোট দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্রেক্সিটে জিব্রলটারের মানুষ ক্ষুব্ধ। স্পেন বর্ডারে তাদের অবাধ বাণিজ্য, অবাধ যাতায়াত ধাক্কা খাবে। এমনিতে গায়ের জোরে জিব্রলটার ছিনিয়ে নেওয়ায় দু’দেশের মধ্যে একটা বৈরি মনোভাব আছে। জিব্রলটারের চিফ মিনিস্টার ফ্যাবিয়ান পিকার্ডো এর মধ্যে সতর্ক করে বলেছেন কীভাবে জিব্রলটারের সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন মার খাবে। এতে সাধারণ মানুষ হতাশ। দেখলাম সরকারি বাড়িগুলোয় ইউনিয়ন জ্যাকের সঙ্গে ই-ইউ ফ্ল্যাগ নিজেকে জাহির করে উড়ছে। রাস্তায় লাল পোস্টবক্স বা লাল ফোন বুথ কিংবা হাতে বন্দুক নিয়ে পুলিশের টহলদারিতে ইউনিয়ন জ্যাকের প্রভাব এখনও আছে। তবে কত দিন থাকবে? প্রতিবেশী স্পেনের মানুষের অবস্থাও খারাপ। বেকার সমস্যার অনেকটা সুরাহা হত জিব্রলটারের বাজার অর্থনীতিতে। বহু স্প্যনিশ শ্রমিক জিব্রলটারে আসেন কাজের ধান্দায়। এদেরই জন্য জিব্রলটারের উপচে পড়া সমৃদ্ধি। জিব্রলটারের মানুষের উৎস-শিকড় কখনই ইংল্যান্ডে গ্রথিত নয়। মলটিস, স্প্যানিশ, মরোক্কান, জিউস— এদের নিয়েই একটা জাতি-মিশেল। কথ্য ভাষা ইংরাজি, স্প্যানিশ উচ্চারণে।
একটা বুলেভার্ডে ম্যাকডোনাল্ড রেস্তোরাঁয় বসেছিলাম। প্লেটে হ্যামবার্গার আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সঙ্গে চিরাচরিত কোক। হঠাৎ রাস্তায় লোকেদের মধ্যে একটু চঞ্চলতা। দু-একজন ক্যামেরা নিয়ে দৌড়োদৌড়ি করছে। একটা বাড়ির সামনে গাড়ি থেকে চিফ মিনিস্টার ফ্যাবিয়ান পিকার্ড নামলেন আর সঙ্গে সঙ্গে জিব্রলটারের জাতীয় সঙ্গীত বেজে উঠল। বাড়ির ছাদে জিব্রলটারের নিজস্ব পতাকা উড়ছে। চোখের সামনে একটা প্রতীকী ঘটনা ঘটে গেল। জিব্রলটার ব্রিটিশ ছিটমহল হলেও তার একটা স্বতন্ত্র পরিচয় আছে। পশ্চিম বিশ্বে আর একটা হংকং। রেস্তোরাঁয় সামনে বসা মানুষটি আমার কৌতূহল দেখে জিজ্ঞাসা করলেন আমি কোন দেশের লোক? ইন্ডিয়া থেকে এসেছি শুনে বললেন, তোমার চেহারাটা অ্যারাবিক মুরদের মতো। আমি তোমাকে মরক্কোর লোক ভেবেছিলাম। জিজ্ঞাসা করে জানলাম দু-একজন ভারতীয় ব্যবসায়ীর এখানে জামাকাপড়ের দোকান আছে। তবে উনি ইংরেজদের ওপর ভীষণ খাপ্পা। নীল চোখ আর সোনালি চুলের মানুষরা এখানে ব্রাত্য। জিব্রলটারের স্থানীয় মানুষ এখানে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। ভিন্ন নাগরিক অধিকার, এমনকি একই কাজের জন্য ভিন্ন বেতন।

‘সান রোক’ শহর।

পাহাড়ের গায়ে ঠাসাঠাসি করা অতি সুসজ্জিত এক অভিজাত শহর। নাম ‘সান রোক’। রক অফ জিব্রলটারের মাথায় উঠে এলাম দামি কেবল্‌ কারে চড়ে। আলজেসিরাস ও জিব্রলটারের মধ্যে এক কুলুঙ্গির ভেতর উপছে পড়া নীল জলরাশি। ওপর থেকে দেখা এয়ারপোর্টের রানওয়েটা জিভ বের করে সমুদ্রের শরীর চাটছে। একবারে অভিনব তিনশ ষাট ডিগ্রি ভূ-দৃশ্য একলপ্তে স্পেন, আফ্রিকা, ভূমধ্যসাগর ও জিব্রলটার ঘিরে। মাত্র চোদ্দ কিলোমিটার ব্যবধানে রয়েছে আফ্রিকা ও ইউরোপের উপকূল। ওপর থেকে দেখছি পিলার অফ হারকিউলিসের কাছে একটি মেয়ে ব্যাগ থেকে বের করে কিছু একটা খাচ্ছিল। মুহূর্তে অতর্কিত আক্রমণ। একদঙ্গল বাঁদর ওঁত পেতে ছিল কাছেপিঠে। মেয়েটার ঘাড়ের ওপর উঠল একজন, আর একজন ছোঁ মেরে হাতের প্যাকেট কেড়ে নিয়ে চম্পট। মেয়েটা স্প্যনিশ ভাষায় চিৎকার করছে— ‘মনোস মনোস।’ এই লেজহীন বার্বারি ম্যাকাকি স্পিসিসের বাঁদররা হিংস্র নয়। বিলুপ্তির পথে এদের বসবাস মূলত আলজেরিয়া ও মরক্কোয়। কিন্তু জিব্রলটারে এদের নিরুপদ্রব বংশবৃদ্ধি। আলাদা হাঁড়ি নিয়ে এদের জমাটি নিশ্চিন্ত সংসার। মানুষের সংস্পর্শে আসতে পছন্দ করে। পর্যটকদের ঘাড় এদের খুব পছন্দ। পর্যটকরাও অনুরক্ত এই কারণে।
কিছু পাউন্ডের দরকার ছিল। এটিএম থেকে বেরোল জিব্রলটার পাউন্ড। এই কারেন্সি আর কোথাও চলবে না। আর এক বিপদ। শেষে ব্যাঙ্ক থেকে পাল্টে ব্রিটিশ পাউন্ড নিলাম। আলাদা জাতীয় সঙ্গীত, আলাদা কারেন্সি, ভিন্ন জাতীয় পতাকা, ইংরাজি ছাড়া ভিন্ন ভাষার মানুষ, তবুও জিব্রলটার ব্রিটিশ ছিটমহল। ইংল্যান্ডের অধিকৃত শেষ লুঠের মাল।
বর্ডারে এসে স্পেনের ইমিগ্রেশনে আটকে গেলাম। ওরা আমাকে স্পেনে ফেরত যেতে দেবে না। জিব্রলটারে ঢোকার সময় ভুলবশত পাসপোর্টে এক্সিট স্ট্যাম্প পড়েনি। তার মানে জিব্রলটারে আমার অবৈধ প্রবেশ। স্পেনের মাল্টিপল এন্ট্রি থাকা সত্ত্বেও তখন আমি নন-স্টেট পর্যটক। স্প্যানিশ ভাষায় বকাবকি শুরু হল। ভাষা না বুঝলেও গোলমাল কিছু একটা হয়েছে বুঝতে পারছি। আমি যে নির্দোষ, কথায় বোঝাতে পারছি না। একটা অনভিজ্ঞ হাবাগোবা ভারতীয়কে নিয়ে অকর্মা কিছু অফিসারের অনর্থক হয়রানি। আইসল্যান্ডের উগনুস, যে অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে দেরাজে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েনি, হঠাৎ এহেন ক্ষেত্রে ত্রাণকর্তা হয়ে তার আবির্ভাব। নৃতত্ত্বর পিএইচডি ছাত্র উগনুস ভাঙা স্প্যানিশে আমার অবস্থানটা ওদের বোঝাতে সমর্থ হল। অবশেষে অপাপবিদ্ধ আমি বেকসুর খালাস।

সিউটা— স্পেন

১৫ নভেম্বর। ভোরবেলায় লা ক্যাসিটা ক্যাম্পে বাড়তি উত্তেজনা। আজ আমরা ফেরি করে জিব্রলটার প্রণালী পেরিয়ে মরক্কোয় প্রবেশ করব, আফ্রিকা ভূখণ্ড স্পেনের ছিটমহল সিউটা হয়ে। আর সেখান থেকেই আমাদের ট্রান্স আফ্রিকা ওভারল্যান্ড এক্সপিডিশনের শুরু। ‘কুইন্‌সওয়ে-কুয়ে’ মারিনা থেকে আমাদের ব্যালিয়ারিয়া ফেরির দক্ষিণমুখী যাত্রা এক মহাদেশ থেকে আর এক মহাদেশে। প্রায় তিরিশ কিলোমিটারের আড়াআড়ি দূরত্ব জিব্রলটার উপসাগরে। গন্তব্য সিউটা। পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত জলপথ।

জিব্রলটার থেকে সিউটা যাওয়ার পথে জিব্রলটার রক।

প্রথম দিকে উত্তর-পশ্চিমী মৃদুমন্দ বাতাসে ফেরির অনায়াস স্বছন্দ ভ্রমণ। জিব্রলটার রককে পেছনে ফেলে কালচে নীল ফেনিল জলরাশির ঢেউয়ের ওপর ফেরির ডলফিন গতি। বাণিজ্যিক জাহাজ, ট্যাঙ্কার, ছোট মোটর-চালিত ডিঙি, সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ও আকর্ষণীয়ভাবে ভেসে থাকা পেশী দেখিয়ে রয়াল নেভির জলযান। রক থেকে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাওয়ার গতি বাড়তে থাকল। এবার হঠাৎ অভিমুখ পালটে হাওয়া দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বইতে শুরু করল। শৃঙ্খলাভঙ্গ করে অস্থির ঢেউয়ের পেল্লাই জলতরঙ্গ পুবমুখী হয়ে ভূমধ্যসাগরে পাড়ি। একঝাঁক শুশুক। কারও দেহের পাশে নীল ডোরাকাটা, কোনওটার আবার কুপির মতো নাক। ফেরির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অবিশ্বাস্য গতিতে সাঁতরে চলেছে। নিয়মিত বিরতিতে নয়নমনোহর রোমহর্ষক অ্যাক্রোবেটিক লাফ। লম্বা লেজ পাইলট হোয়েল, আমাদের উত্তেজিত করে একেবারে ফেরির কাছে উপস্থিত। উদ্দাম স্বচ্ছ নীল জলের হালকা চাদর তার গায়ে। পথপ্রদর্শক তিমি তার লেজের পাখনা ওপর-নীচে করে দেহের ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে। দু’পাশে সামান্য মোচড় দেওয়া দেহভঙ্গি। মাঝে মাঝে তীব্র প্রশ্বাস বিস্ফোরণ। আকাশের গায়ে সহস্র জলজ রামধনুর গুঁড়ো ছড়িয়ে আত্মগরিমায় মুখর। সমুদ্রের জল এখন রূপান্তরিত ডিঙি। তিমি চলেছে ডিঙিনৌকায় চড়ে। তার ব্যক্তিত্বে অন্তহীন বিজ্ঞতা। ছোটবেলায় দেখা মবিডিক সিনেমাটার কথা মনে পড়ছে। ক্রমাগত অনুসরণ করেও ক্যাপ্টেন আহাব মবিডিক নামের অতিকায় স্পার্ম হোয়েলটিকে কবজা করতে পারেননি।

কুপি-নাক ডলফিন।

তরঙ্গের মূর্ছনায় ফেরির মধ্যে টালমাটাল অবস্থা। আমি ছিলাম ফেরির ছাদে হাতে ক্যামেরা নিয়ে। প্রবল সামুদ্রিক ঝঞ্ঝার শাসানি ফেরিকে ঠেলে আরও পুব দিকে নিয়ে চলেছে। শেষমুহূর্তে স্লগ ওভারে ফেরির স্রোতের বিরুদ্ধে গুঁতিয়ে এগিয়ে যাওয়া। ছবি তোলা দুঃসাধ্য হয়ে উঠল। মহাদেশ পালটে যাওয়ায় দৃষ্টি দূরে আফ্রিকার উত্তরে মরক্কোর ‘জেবেল মুসা’ পাহাড়ে। তার কোলে সিউটা বন্দর। জলযানদের আশ্রয় মারিনা হারকিউলিসে। আবছা আত্মপ্রকাশ। আকাশে জুভেনাইল স্পটেড ঈগলের ডানা মেলে নিঃশব্দ পরিক্রমণ। মাস্তুলের ওপর গাংচিলের চরকি পাক। কখনও তাদের হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের জলে চকিতে আকস্মিক ডুব দিয়ে। আবার কখনও মুখ তুলে আরও উঁচুতে চাওয়া। ঘণ্টা দেড়েকের উত্তেজনার শেষে আমরা সিউটায়।
সিউটা হল আফ্রিকায় স্পেনের জিব্রলটার। মরক্কো ঘেঁষা একটুকরো ভূমিখণ্ড টিকালো নাকের মতো পুব দিকে ভূমধ্যসাগরে নিমগ্ন। মাত্র কুড়ি বর্গ কিলোমিটারের এক উপদ্বীপ। মাদ্রিদ স্পেনের দক্ষিণ উপকূলে জিব্রলটারকে আবার নিজের আস্তিনের তলায় দেখতে চেয়ে তাদের দাবিকে তীব্র করছে। আবার পাশাপাশি আফ্রিকার উত্তর তটভূমিতে সিউটার ওপর মরক্কোর ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করছে। স্পেনের এ এক অদ্ভুত দ্বিচারিতা। ঔপনিবেশিক গাজোয়ারিতে কবজা করা সিউটা সেই ১৬৪০ সাল থেকেই স্পেনের পাওয়া জায়গির। জিব্রলটার ও সিউটা— এই দুই ছিটমহলই পাহাড়ের ঘেরাটোপে সুরক্ষিত এবং ইউরোপের শেষ উপনিবেশ। মজার ব্যাপার হল, স্থানীয় স্প্যানিশরা জিব্রলটারকে স্পেনের সার্বভৌমত্বে দেখতে চায় না। অপর দিকে সিউটাতে থাকা মিশ্র আইবেরিয়ান আফ্রিকার জনগণ স্পেনের নাগরিক হয়েই থাকতে চায়।
সুসজ্জিত শহরের বুলেভার্ডে রাস্তার দু’পাশে সারবেঁধে খেজুর গাছ। ইমারতের স্থাপত্যে ইউরোপীয় রুচি। আন্দুলিসিয়ান বাতাবরণে আর এক ইউরোপীয় শহর। বার্সিলোনার রাস্তাঘাটের সঙ্গে অনেক মিল। বাড়িগুলোয় খুঁটিতে বাঁধা সোনালি ও গাঢ় লাল জাতীয় পতাকা সমুদ্রের হালকা বাতাসে পতপত করে উড়ছে। এক তরুণের সঙ্গে বুলেভার্ড টি-শপে আলাপ হল। সাদা চামড়ার অ্যারাবিক মুর। সে বলল, আমরা কখনই চাই না সিউটা মরক্কোর সঙ্গে যুক্ত হোক। যদিও আমি বেকার তবুও ওপারে থাকা আমাদের মুসলিম ভাইদের থেকে আমরা এখানে ভাল আছি।
জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার চলে কীসে?
দ্যাখো, সিউটা ফ্রি পোর্ট। স্মাগলারদের স্বর্গরাজ্য। সস্তার জিনিস মরক্কোয় পাচার করি। যদিও হ্যাপা আছে। ওপারে আমার ভাইরা যত সিউটাকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য চেঁচামেচি করছে, তত এখানকার পুলিশ কড়া হচ্ছে। ধরপাকড় করছে।
উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে সিউটার আর এক ছোট বোন মেলিল্লাও স্পেনের সার্বভৌমত্বে। এই দুটো জায়গাই হল স্পেন-মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ফ্লাশ পয়েন্ট। ২০০৭ সালের নভেম্বরে রাজা জুয়ান কার্লোস রাজকীয় সফরে এলেন এই দুই শহরে। ব্যাস, মৌচাকে ঢিল পড়ল। মরক্কোয় প্রতিবাদের ঝড়। কালবৈষম্যে দখল করা অঞ্চলকে স্পেনের রাজকীয় স্বীকৃতির বিরুদ্ধে মরক্কোর প্রধানমন্ত্রী আব্বাস এল ফাস্সি মুখ খুললেন— এই দুটো শহরই মরক্কোর মাটির অংশ, এটা কালবিলম্ব না করে এখনই ফেরত দিতে হবে। রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ রাবাতে স্পেনের রাজদূতকে ডেকে অসন্তোষের কথা জানালেন। স্পেন অনড়। এক সমান্তরাল নৈতিকতার প্রশ্নে স্পেনও মুখ খুলেছিল যখন ২০১৬ সালে লন্ডনের রাজপরিবার থেকে ওয়েসেস্কের আর্ল আর কাউন্টেস এলেন জিব্রলটারের হীরকজয়ন্তী পালন করতে।

সিউটা সীমান্তে গাড়ির লাইন, মরক্কোয় ঢোকার আগে।

আমাদের দলের সবাই পশ্চিম বিশ্বের লোক। মরক্কোর ভিসা এদের লাগে না। ফ্রি এন্ট্রি। আমি এক হতভাগ্য যাযাবর। দিল্লিতে মাথা কুটে মরেছি এরই জন্য। শহরের মধ্যে রয়াল সিটি ওয়াল পেরিয়ে আমাদের ক্যারাভ্যান যখন সিউটা মরক্কোর লাগোয়া বর্ডারের মধ্যে বেওয়ারিশ নো ম্যান্‌স ল্যান্ডে এল তখন দেখি, পরপর গোটা দুয়েক প্রায় কুড়ি ফুট উঁচু তারের জালের দেওয়াল। তার ওপর কাঁটাতার দিয়ে সিউটা বর্ডার সুরক্ষিত। রয়েছে মোশন ডিটেক্টর। স্বয়ংক্রিয় টিয়ার গ্যাসের ক্যানিস্টার, ফ্লাড লাইট দিয়ে একদম নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা। অনেক হতভাগ্য শুধুমাত্র একটু ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য দেওয়াল টপকে স্পেনে যাওয়ার চেষ্টায় গুলি খেয়ে মারা গেছে অথবা সাংঘাতিকভাবে রক্তাক্ত হয়েছে। সিউটার ফারো টিভিতে দেখেছিলাম, কয়েকটি তরুণ— শরীর তাদের স্পেনের ফ্ল্যাগে মোড়া— উঁচু ধাতব তারের পাঁচিল টপকে লাফাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে হাড়গোড় ভাঙা অবস্থায় স্পেনে পৌঁছে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। কিন্তু তারা আর্তনাদের মতো চিৎকার করে যাচ্ছে— ফ্রিডম ফ্রিডম। সীমান্তে সিউটার রেড ক্রস স্বেচ্ছাসেবীদের অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। প্রতিদিন শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় করে থাকে বর্ডারের কাছে। চোরাপথে স্পেনে পৌঁছনোর জন্য। ওপারে আছে তাদের স্বপ্ন। তারা স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরতে চায়।

ছবি : লেখক

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৩

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৪

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৫

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৬

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৭

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৮

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ৯

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১০

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১১

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১২

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১৩

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১৪

কালো মানুষ সাদা কথা পর্ব ১৫

১৪ Comments
  1. piya banerjee says

    khub valo laglo…

  2. Rukmini Mazumder says

    লেখাটা পড়তে পড়তে মনে হল, গদ্য নয়, চোখের সামনে যেন স্পষ্ট সব ছবি দেখতে পাচ্ছি। ঠিক যেন একটা সিনেমা! একটা সময়ে মনে হল, লেখকের সঙ্গে আমিও যেন পাড়ি দিয়েছি অজানাকে জানতে, অচেনাকে চিনতে…আমিও চলেছি আলজেসিরাসের দিকে, আমিও যেন পৌঁছে গিয়েছি লা কাসিটার ক্যাম্পে, জিব্রলটার রককে পেছনে ফেলে আমিও এগিয়ে চলেছি…

  3. Polly Roychowdhury says

    আফ্রিকা নিয়ে এই লেখা খুবই সমৃদ্ধ। আগামীর অপেক্ষায়।

  4. আলী আকবর says

    পড়লাম। সিউটা পৌঁছেগেছি-তোর লেখনীর চোখ দিয়ে আর ইতিহাসের তথ্যবহুল ঘটনার মধ্য দিয়ে। তারের বেড়ার ওপারে কি আছে জানার অপেক্ষায় রইলাম।

  5. Sharba Ghosh Nath says

    জমে উঠেছে jibraltor

  6. Susmita Khan says

    নেশাগ্রস্তের মত পড়লাম।থামা মুস্কিল।কি সুন্দর সহজ,সরল গড়ানে এগিয়েছে লেখাটা।উপভোগ্য লেখা সমৃদ্ধ করছে।পরের পর্বের অপেক্ষায়

  7. KKDe says

    Well done.Nicely described travel part as if I m with u.regards.kkde

  8. Manasi Sinha says

    অসাধারণ লেখা! মুগ্ধ হয়ে পড়ছি।

  9. Goutam Mitra says

    Apurbo lekha khub valo laglo jeno Manasvramon korlam lekhak ke anek dhanyobad emon sundar lekha upohar deoar jannye.

  10. Kibria says

    Yes it was good.

  11. Jaya Roy says

    খুব সুন্দর বিন্যাস

  12. আশিস চক্রবর্তী says

    খুব ভালো লেগেছে । এ’রকম লেখা আরো পড়তে চাই । অবশ্যই ” সুখপাঠ ” -এ ।

  13. prakriti says

    ato sundor vromon kahini,lekhok jakhon Gibralter pronali par hochchilo ami aankchilam Gibralter sobuj rasta,bazar,r vumodhyasagarer dheu gulo k.parbo gulo theke nijeke soratei parchilam na.j dese konodin jaini sekhane ghure beranor swad nite parchilam.khub sundor.

  14. Mainak Thakur says

    ভাল লাগল। ইউরোপ, আফ্রিকাকে নতুন করে জানছি।

মতামত জানান

Your email address will not be published.