বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

ছত্র-মহিমা

ছত্র সবল আকারে যষ্টিরূপেই পরিণত হয়; এবং সে যষ্টি দ্বারা আক্রমণ ও আত্মরক্ষা উভয় কার্যই সম্পন্ন হয়। কি? ছাতি দিয়ে আক্রমণ করা যায় না? খুব যায়। আচ্ছা, ছাতি নিয়ে আয়, আমি তোদের একবার ‘ছাতি পেটা’ ক’রে দেই।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়

শোন্ ভাই, আজ তোদের আমি ছত্রের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করব। বেশ মন দিয়ে শুনিস্।
আমি সে দিন বসে ভাবছিলাম যে, কি আশ্চর্য ব্যাপার, যে বাষ্পীয় যান, তাড়িত বার্তাবহ, ফনোগ্রাফ ইত্যাদির আবিষ্কর্তার নাম মানব-ইতিহাসের পৃষ্ঠায় ‘জ্বলন্ত অক্ষরে’ লিখিত রয়েছে, অথচ ছত্র এমন একটা আশ্চর্য আবিষ্কার, তাহা প্রথম কাহার মস্তিষ্ক আশ্রয় করেছিল, সে সম্বন্ধে কোন বিবরণী নাই। সে কোন্ মৌলিক ভাগ্যবান্ মহাপুরুষ, যাঁহার মস্তক থেকে এই ধারণার জ্যোতিঃ বিকীর্ণ হ’য়ে শেষে ছত্রাকারে ছড়িয়ে পড়েছিল, তাহা কেহ জানে না।— হে অজ্ঞাত, অপরিখ্যাত মহর্ষি, তোমায় কোটি কোটি নমস্কার।
আমার মনে হয়, এই ভারতবর্ষই এই আবিষ্কারের জন্মভূমি। যে জন্মভূমি শব্দ নাটকে থাকলে পুলিশ সে নাটক অভিনয় করতে দিতে অনিচ্ছুক, এ সে জন্মভূমি নয়। ইহার মধ্যে রাজবিদ্বেষ নাই। এ অতি নিরীহ জন্মভূমি। আমার বলার উদ্দেশ্য যে, ভারতবর্ষেই ছাতির প্রথম আবিষ্কার হয়। কি? তার প্রমাণ চাও? কথা আরম্ভ না হ’তেই প্রমাণ? কি প্রমাণ— নৈলে আজ কোন কথা বিশ্বাস করবে না? আচ্ছা, প্রমাণ দিচ্ছি।
প্রথমতঃ, আমাদের দেশের চাষারা এই ছাতির আবিষ্কারের বহু পূর্ব হ’তে এক প্রকার টুপী ব্যবহার করত, তার নাম টোকা। তারপরে আমরা দেখি যে, শ্রীরামচন্দ্রের মস্তকে রাজছত্র ছিল। প্রত্নতত্ত্ববিদগণ এবং সংস্কৃত ইতিহাস তার সাক্ষ্য দিবে।
এ আবিষ্কার এত পুরাতন, কিন্তু আশ্চর্য! সুবিখ্যাত উদ্ভাবনগুলির প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে সন্দেহ করি না। বাষ্পীয় যান বিপুল ভার বহন ক’রে, ক্ষণকালের মধ্যে যোজন অতিক্রম করে; কিন্তু সেটা তৈয়ার করবার সরঞ্জামটা ভেবে দেখ দেখি! কত মুদ্রা ব্যয়, কত কৌশল, কত পরিশ্রম দরকার হয় একখানি বাষ্পীয় যান তৈয়ার করবার জন্য; কিন্তু ছত্র একগাছি বেত, তাহার উপরে সংলগ্ন কয়টি লোহার শিক, তাহার উপরে গজখানেক কাপড়! কি সহজ, সুসাধ্য, সুলভ।
অথচ তার উপকারিতা!— উঃ! যদি আমার বাসুকির সহস্র মুখ— অন্ততঃ স্বয়ম্ভুর চতুর্মুখ থাকিত ত একবার বর্ণনা করিবার চেষ্টা করিতাম— একমুখে কি করিব!
বাষ্পীয় যান বিরাট ব্যাপার; কিন্তু সে একটি মাত্র কাজ করে। সে অল্প সময়ের মধ্যে কাছের জিনিস দূরে নিয়ে যায়। ছত্র এরূপ কোন ব্যাপার সংসাধন করে না। কিন্তু সে যা করে, তাহা— একাদিক্রমে চতুর্দশ পুরুষ সংসাধন করতে পারে না।
প্রথমতঃ দেখ বালকবৃন্দ! ছত্র মানুষের মাথা রক্ষা করে। ডারউইনাদি বৈজ্ঞানিকগণ মনুষ্যজাতি যে বানর জাতির চেয়ে উচ্চ জন্তু, তা সরলভাবে স্বীকার করেছেন। তাঁহাদিগের জয় হৌক! যাক্, সে কথা যাক্। কি বলিতেছিলাম;— হাঁ হাঁ, মানুষে শ্রেষ্ঠ জন্তু আর— মনোযোগ দিয়ে শোন। কি প্রমাণ? প্রমাণ চাও?— কি, ‘জন্তু’ কথায় আপত্তি করিতেছ? উক্ত বৈজ্ঞানিকগণ স্পষ্টভাবে ছাপার অক্ষরে লিখিয়াছেন যে মানব— এক জন্তু!— কি? এই বৈজ্ঞানিকগণ এক এক জন্তু! আমি জন্তু? অবশ্য মনুষ্য মাত্রেই যদি জন্তু হয়, তবে উত্তম পুরুষ, মধ্যম পুরুষ ও অধম পুরুষ— সকলেই জন্তু। কি হেসে উঠিলে যে!— ও! অধম পুরুষ নয়— প্রথম পুরুষ! বটে বটে!— ভুলিয়া গিয়াছিলাম। দেখ আমার বিশ্বাস, এই স্থানে বৈয়াকরণেরা একটু ভুল করেছেন। উত্তম, মধ্যম ও অধম পুরুষ— ইহাই বলা তাঁহাদের উদ্দেশ্য ছিল, কেবল ভদ্রতার খাতিরে সেরূপ বলিতে পারে নাই। উত্তম মানে ভাল (আমি চিরকালই ভাল,— হ’তেই হবে), তাহার পর তুমি মধ্যম (নিশ্চয়ই, নইলে শান্তিভঙ্গের সম্ভাবনা), আর বাকি সব (জনান্তিক) অধম;— শুদ্ধ ভদ্রতার খাতিরে প্রথম।
এর আবার প্রমাণ কি? ওঃ, তুমি বলছ, প্রমাণ নহিলে বিশ্বাস করবে না— উত্তম! এই উক্তির প্রমাণ উক্ত বৈজ্ঞানিকগণ দিয়াছেন। প্রথমতঃ মানুষ ছাড়া অন্য কোন জন্তু রেঁধে খায় না। কুকুর রাঁধা জিনিস খায়; কিন্তু নিজে রেঁধে খায় কি? দ্বিতীয়তঃ, মানুষ ছাড়া অন্য কোন জন্তু হাসতে জানে না।— কি? কুকুর হাসে! না, তাকে হাসি বলে না। তাকে জিভ বের ক’রে থাকা বলে। মর্কটে-মর্কটে দাঁত খিঁচোয়— হাসে না। হাসি কাকে বলে?— হাসি বলে হাস্যকে।— অর্থাৎ?— অর্থাৎ কোন মনোভাবে দুটি ওষ্ঠপ্রান্ত সমভাবে কর্ণদ্বয়ের দিকে প্রসারণের নাম হাস্য। দাঁত বেরোনো হাসির অঙ্গ নয়। তবে হাসতে গেলে দাঁত বেরোয় (অর্থাৎ যদি দাঁত থাকে)। তবে দেখলে, মানুষ হাসে, আর কোন জন্তু হাসে না। তৃতীয়তঃ, মানুষ অস্ত্র ব্যবহার করে, আর কোন জন্তু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে না। চতুর্থতঃ, মানুষ কথা কইতে পারে, আর কোন জন্তু— কি? টিয়া? টিয়া কথা কয় না। শেখা বুলি উচ্চারণ করে মাত্র। টিয়া যদি কথা কয়, তা হ’লে গ্রামোফোনও কথা কয়।
মানুষ দু’পায়ে হাঁটে;— পাখি? তা যে বলবে, তা আগেই বুঝেছি। পাখি দু’পায়ে হাঁটে বটে, কিন্তু পক্ষহীন অন্য কোন জানোয়ার হাঁটে না। পঞ্চমতঃ, মানুষ গান গায়, আর কোন জন্তু গান গায় না। কি? গাধা গান গায়? তোমারই মত গায় বটে! তার উপর প্রমাণের সেরা প্রমাণ হচ্ছে— এটা কোন বৈজ্ঞানিক বলেন নি, আমি নিজে ভেবে বের করিছি!— প্রমাণের সেরা প্রমাণ শোন, কান উচ্চ ক’রে শোন! প্রমাণের সেরা প্রমাণ হচ্ছে মানুষ কবিতা লেখে, আর কোন জানোয়ার কবিতা লেখে না।
মুষড়ে গেলে! তবে স্বীকার কচ্ছ যে, মানুষ শ্রেষ্ঠ জানোয়ার! তার অব্যবহিত পরেই— মানুষের শ্রেষ্ঠ অঙ্গ হচ্ছে মাথা। তার আবার প্রমাণ কি?— তার প্রমাণ মাথায় মস্তিষ্ক আছে, সে সমস্ত শরীরকে জ্বালায়। মাথা হচ্ছে শরীরটার রাজধানী, যেমন ভারতবর্ষের কলিকাতা। হাঁ— সেটা এখন দিল্লীতে উঠে গিয়েছে বটে। কি? হাঁ, ঠিক বলেছ ভাই। মানুষের মাথা শ্রেষ্ঠ অঙ্গ না হ’লে উপর দিকে থাকবে কেন? তারও একটা প্রমাণ যে এই মুণ্ডটার মধ্যে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ই আছে। আর কোন অঙ্গে নেই। তার আরও একটা প্রমাণ হচ্ছে এই যে, অন্য কোন অঙ্গ কেটে নিলে মানুষ বাঁচে, কিন্তু মাথা কেটে নিলে মানুষ বাঁচে না। কি?— কে বাঁচে না?— মানুষ— মানুষ। বললাম না?— ও! মাথা কেটে নিলে মানুষ কোনটা— মাথাটা? না অঙ্গটা?— কূট! কূট! তুমি বড় গোলমাল কর। না হয় ও-প্রমাণটা ছেড়ে দিলাম।
তাহ’লে এতদূর পর্যন্ত প্রমাণ করেছি যে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জন্তুর শ্রেষ্ঠ অঙ্গ হচ্ছে— মাথা! এখন দেখ, ছাতি মানুষের মাথা রক্ষা করে, রেলগাড়িতে করে না, গ্রামোফোনও করে না? পাগড়ি? হাঁ, পাগড়ি কি মুকুট, মাথা ঠেকায় বটে, কিন্তু তারা সে রকমে মাথা রক্ষা করতে পারে না— যেমন ছাতিতে ঠেকায়। কি রকমে?— নানা রকমে?— নানা রকমে। শোন।
প্রথমতঃ ছাতি রৌদ্র নিবারণ করে, তজ্জন্যই ছত্রকে আতপত্র বলে, পাগড়িতে, কি সোলার টুপিতে রৌদ্র নিবারণ করে, বাতাস বন্ধ করে বটে, কিন্তু তারা মাথার সঙ্গে এমন একটা নিকট ঘনিষ্ঠতা করে যে, মাথা নিজেই চটে গরম হয়ে ওঠে— বাহিরের রৌদ্রে সে প্রায় অত গরম হয় না। ছত্র মস্তক হ’তে সাহেবের আর্দালির মত— দূরে থাকিয়া এরূপ সসম্ভ্রমে মস্তককে রক্ষা করে যে, তাহাতে মস্তক অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়।
তারপরে এই ছত্র— যা রৌদ্র নিবারণ করে, তাই আবার বৃষ্টি নিবারণ করে। ঠিক বিপরীত। রৌদ্র দাহ করে কিন্তু স্নিগ্ধ করে না। বৃষ্টি স্নিগ্ধ করে কিন্তু দাহ করে না। কিন্তু ছত্র— কি? দাহও করে না, স্নিগ্ধও করে না? তা করে না বটে কিন্তু উভয়কেই সমভাবে নিবারণ করে। তদুপরি যদি শিল পড়ে, ত সে দুর্যোগেও ছাতি মাথাকে সযত্নে ঘিরে রক্ষা করে। এমন এই এক ছাতি। তৃতীয়তঃ, ছাতি আরও এক কাজ করে। অভাবপক্ষে এই ছাতিকেই লাঠির আকারে পরিণত করা যায়। কুকুর, শেয়াল, এমন কি বাঘ পর্যন্ত এই ছত্র দিয়ে তাড়ান যায়। কি? বাঘ তাড়ান যায় না? তবে তোরা ‘পশ্বাবলি’ পড়িসনি। তাতে কি আছে?— তাতে আছে যে কয়েকজন সাহেব মেম বনভোজন করতে যান, এমন সময়ে এক বাঘ এসে তাঁদের আক্রমণ করেন। সকলে এই বিপরীত বনভোজনের আয়োজন দেখে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেন। তখন এক প্রত্যুৎপন্নমতি সাহেব— একটা ছাতি নিয়ে বাঘের মুখের কাছে এরূপ ক্ষিপ্রভাবে খুলেছিলেন যে, ব্যাঘ্র মহোদয় এ নূতন যন্ত্রের অভ্যুদয়ে তৎক্ষণাৎ বিপরীত দিকে প্রস্থান করল। ছাতি না থাকলে সে দিন আর বনভোজন হ’ত না, হ’ত? কি রকম ক’রে? ও! সাহেবের বনভোজন না হ’য়ে বাঘের বনভোজন হ’ত।— বেশ বলিছিস্। নাতিনীরা চিরকাল দেখিছি নাতিশ্রেণীর চেয়ে রসিক হয়। আমি তার জন্য চিরকাল নাতির চেয়ে নাতিনীর পক্ষপাতী।— কিহে ভায়া, তুমি বিশ্বাস কর না? কি বিশ্বাস কর না? নাতিনী, না বাঘ?— এই গল্পটা?— কেন? বিশ্বাস করতে পারই না ভায়া। ও! তুমি বলছ— যে দিনে দুপুরে বাঘ এসে ওরকম আক্রমণ করে না। তকে কি রকম এসে আক্রমণ করে?— দিনে বাঘ আসে না! তবে শোন। আমি এক দিন ঘড়ি ধরে এগারটা বেজে সাড়ে চব্বিশ মিনিটে প্রাণনগরের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ঠাকুরগাঁ থেকে আসছি, এমন সময়ে ঈশান-কোণে চেয়ে দেখলাম একটা ঝোপের ভিতরে একপাল বাঘ চ’রে বেড়াচ্ছে। কতগুলো? শ দুই তিন হবে!— কি? হ’তেই পারে না। আচ্ছা শ দু’তিন না হৌক, ত্রিশ বত্রিশটা ত হবেই।— অসম্ভব? বাঘ পাল বেঁধে বেড়ায় না?— তবে ক’টা বাঘ ছিল তুমি বলতে চাও?— পাঁচটা? দুটো? একটা? তাও নয়? তবে ঝোপের মধ্যে কি যেন একটা নড়েছিল।— কি হাসছ যে! নড়েও নি? তুমি ত ভায়া বেজায় নাস্তিক! কিন্তু বনভোজনের গল্পটা সত্য?— মাথা নাড়ছ যে? প্রমাণ চাও? তবে শোন। এতক্ষণ সেটা দেই নি! শুনলে মুষড়ে যাবে। তবে শোন। সেদিন আমিও সে বনভোজনে গিয়েছিলাম। কেন গিয়েছিলাম?— দেখ ভায়া, জেরা ক’র না। ধ’রে নাও গিয়েছিলাম। Let it be granted। হাঁ, এটা postulate।— কি? মাথা নাড়ছ যে?— আচ্ছা ভায়া, বিশ্বাস করলেই বা! আচ্ছা, না হয় ছাতিতে বাঘ তাড়ান যায় না। কুকুর শেয়াল ত তাড়ান যায়?— তা হ’লেই হ’ল!
অতএব ছত্র সবল আকারে যষ্টিরূপেই পরিণত হয়; এবং সে যষ্টি দ্বারা আক্রমণ ও আত্মরক্ষা উভয় কার্যই সম্পন্ন হয়। কি? ছাতি দিয়ে আক্রমণ করা যায় না? খুব যায়। আচ্ছা, ছাতি নিয়ে আয়, আমি তোদের একবার ‘ছাতি পেটা’ ক’রে দেই। শীঘ্রই মীমাংসা হরে যাবে। সব কথারই তর্ক।— হাঁ, বলে, যেতে দে!
ছত্র আর কি করে? ছাতা মুড়ে গাছতলায় মাথার নিচে বালিস ক’রে শোয়া যায়!— বালিশের কাজ ঠিক হয় না বটে। তা না হৌক, কিছু হয় ত।
আর একটি ছত্রের প্রয়োজনীয়তা আছে— সে শ্রেণী বিশেষের কাছে। সে শ্রেণীটি অধমর্ণ সম্প্রদায়। তারা যখন অঙ্গীকৃত ঋণ পরিশোধ করা সম্বন্ধে হতাশ ভাব অবলম্বন করে— তখন মহাজনের বাটীর সম্মুখ দিয়ে যেতে এই ছত্রই তাদের লজ্জা নিবারণ করে। যে দিকে মহাজন, সেই দিকে ছত্রটি কৌশল সহকারে ফিরালে সেই ঋণীর মনে অনেক শান্তির আবির্ভাব হয়— যা হরিনামে হয় না।
একেবারে এত গুণ কার?— অথচ দাম একটি মুদ্রা মাত্র। এত সহজ, এত সুন্দর! মানুষও কৃতজ্ঞভাবে ছত্রের যথোচিত আদর করে। তাই সে তাকে মাথায় ক’রে রেখেছে। ছত্র সম্মানের চিহ্ন। তাই পুরাকালে ভারতবর্ষে রৌদ্র বৃষ্টি না লাগলেও স্বাধীন রাজার মাথার উপর রাজছত্র বিরাজ করত, এবং এখনও করে, তাই ‘একছত্র ভূপতি’— সম্মানের বিশেষণ। হে ছত্র, তোমায় কোটি কোটি নমস্কার।
আমার মনে হয় যে, পৃথিবীর ছত্র ঐ আকাশ। শুদ্ধ তার দামটা দেখা যায় না। কিন্তু দণ্ড আছে। সে দণ্ডটি কি? সে দণ্ডটি মাধ্যাকর্ষণ। ঐ বিরাট দিগন্তব্যাপী, নক্ষত্রখচিত মহাছত্র, এই বিপুল মেদিনীকে ধ্বংসের গ্রাস থেকে রক্ষা করছে।
সে ছত্রধারী স্বয়ং ভগবান।

গ্রন্থাবলী। আশ্বিন ১৩৭১ বঙ্গাব্দ।।

(বানান ও যতিচিহ্ন অপরিবর্তিত।)

মতামত জানান

Your email address will not be published.