বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

পেরুস্কোপ

ভীষণ ছবি তুলতে ইচ্ছে হল। ব্যাকড্রপে কর্ডিয়েরা ব্লাঙ্কা আর সামনে একটা গাছের ডালে তিনটে বাচ্চা। ছবি দারুণ হবে। কাছে গেলাম। পারমিশন চাইলাম, কী রে, তোদের ছবি তুলব? কিছুতেই রাজি হয় না।

অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৩

২৩ জুন, মার্কারা

২৩ জুন সকালে মার্কারায় পৌঁছনোর পর চার্চে ফাদার রিচির ঘরে আমার ব্যাগ রেখে পথেঘাটে একেবারেই উদ্দেশ্যবিহীনভাবে খানিক হেঁটে বেড়িয়েছিলাম। চার্চে একজন জিজ্ঞেস করেছিলেন যাবে না কি পাশের ছোট শহর কারউয়াজে? আমি চেজারের বন্ধু। ওখানে গেলে তোমার একটু ঘোরাও হবে। চাইলে তোমার সোলো ট্রেকের জন্য টুকটাক কিছু খাবারদাবার কিনেও নিতে পারো। ওখানে দোকানপাট আছে ভালই।
বিকেলে চার্চে ফিরতেই ফাদার রিচি বলেছিলেন, আজ পেরুর ম্যাচ, ওয়ার্ল্ড কাপ বলে কথা, মিস করা যাবে না। তুমি এক কাজ করতে পারো, সরাসরি ডন বসকো মাউন্টেন গাইড স্কুলে চলে আসতে পারো। আমাদের চার্চে তো টিভি নেই। তাই খেলা দেখার ইচ্ছে এবং সময় হলে আমরা ওখানেই যাই। আমিও সময়মতো পৌঁছে গেছিলাম। ফ্রান্সের কাছে পেরু ম্যাচটা হারলেও ব্যবধান ছিল কেবল ১-০ এবং পেরু সেবারের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছিল। মনখারাপের মধ্যেই সবাইকে বিদায় জানিয়ে চার্চে ফেরার সময় একজন পরিচয় দিয়েছিল সে চেজারের আর এক বন্ধু (চেজারের অনেক বন্ধু) এবং জানিয়েছিল, চেজার আগামীকাল ফিরবে, তবে ফিরতে সন্ধে হবে।

মাউন্টেন গাইড স্কুলে বসে বিশ্বকাপের খেলা দেখা।

পরদিন অর্থাৎ ২২ জুন সকালে উঠে দেখি ঘর ফাঁকা। ফাদার রিচি সম্ভবত আলো ফোটার আগেই বেরিয়ে গেছেন। মর্নিং পার্সন আমিও। তাই আমিও উঠে পড়লাম। ডাইনিং হলে নামতেই এক কাপ গরম চা নিয়ে বসে পড়লাম টেবিলে। একে একে আরও লোকজন আসতে শুরু করল। বুয়েনস দিয়াস, কে তাল? (সুপ্রভাত, খবর কী?) এরকম মৃদু সম্ভাষণ গরম চায়ের কাপ থেকে ওঠা ধোঁয়ায় মিশে যেতে লাগল। কয়েক মিনিট যেতে না যেতেই আমার মনে হল, কেউ গান না গাইলেও, কোনও বাদ্যযন্ত্র না বাজলেও, যেন একটা অদ্ভুত সুর, এক বিচিত্র ছন্দ ডাইনিং হলে ভেসে বেড়াচ্ছে। ঠিক যেন এক প্রভাতী সিম্ফনি। নিজের চায়ের কাপ থেকে চোখ তুলে মাঝে মধ্যেই আমি দেখছিলাম আমাকে ঘিরে বসে থাকা মানুষগুলোর দিকে। ওদের চোখেমুখে কী যেন এক গভীর কিন্তু সরল বিশ্বাস খোদাই করা ছিল। আরও একটা নতুন দিন আরম্ভ হচ্ছিল ছোট্ট গ্রাম মার্কারায়। দরিদ্র কেচুয়া কয়েকজন গ্রামবাসী চার্চের ডাইনিং হলে বসে চা খাচ্ছিলেন। চা খাওয়া হয়ে গেলে ওঁরা যে যার কাজে লেগে পড়বেন। কেউ ঝাড়ুদার, কেউ মেথর, কেউ মিস্ত্রি। বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। চার্চে অনেক কাজ লেগেই থাকে প্রায় বারো মাস। চার্চে কাজ করলে পয়সা রোজগার কম হলেও দু’বেলা খাবারটা পাওয়া যায়। আমি বুঝতে চাইছিলাম, ঈশ্বরে অনুরাগ, না কি রুজিরুটির তাগিদ— এই দুইয়ের কোনটা এই দরিদ্র মানুষগুলোকে রোজ টেনে আনছে এই চার্চে?

কারউয়াজ শহর।

গ্যালিলিও থেকে ডারউইন কিংবা আর একটু অন্যভাবে ভাবলে ফ্রেঞ্চ রেভলিউশন থেকে রাশিয়ান রেভলিউশন— ঐতিহাসিকভাবে বার বারই আমরা দেখেছি আধুনিক বিজ্ঞান ও বাস্তববাদী চিন্তাধারার সঙ্গে ধর্মের সংঘাত। ধর্মের নামে এইসব সংঘাতের ইতিহাস এত দীর্ঘ এবং রক্তাক্ত যে আজ এখন সে কথা বরং তোলাই থাক। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইওরোপীয়রা একে অপরকে কচুকাটা করেছিল। সেই মারদাঙ্গার মন্ত্র ছিল ‘আমার ঈশ্বরই আসল ঈশ্বর, তোমার ঈশ্বর নকল’। যাইহোক, সেইসব রক্তাক্ত যুদ্ধের শেষে এক নতুন ধারণার জন্ম হয়েছিল, যাকে বলা হয় The Enlightenment। ধারণাটি ছিল যে ভিন্ন মতের মানুষের সঙ্গেও— তা সে ভিন্নতা ধর্মের হোক বা দর্শনের, বিজ্ঞানের হোক বা সংস্কৃতির— মানুষ শান্তিতে একসঙ্গে বাস করতেই পারে। সেই মন্ত্রেই লুকিয়ে রয়েছে সামূহিক কল্যাণ। বিংশ এবং একবিংশ শতাব্দীতে ইওরোপে বিজ্ঞান ও ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে অষ্টাদশ শতাব্দী জুড়ে চলতে থাকা হিংসার পরবর্তী বোধোদয় বলা যেতে পারে। The Enlightenment— এই পশ্চিমী মডেল ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর কলোনিয়ালিজমের কল্যাণে বাকি পৃথিবীতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেই বোধোদয়েরও যে এক্সপায়ারি ডেট আছে সে তো আজকের বিশ্ব আবার বুঝিয়ে দিচ্ছে এবং ভারতবর্ষ সেই ধর্মান্ধ উন্মাদনার দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে।
যাইহোক, আমি বুঝতে পারছিলাম, নিজেকে সমাজ বহির্ভূত বাউণ্ডুলে বললেও, সমাজ সম্পর্কে কৌতূহল আমার এখনও যথেষ্ট রয়েছে। তাই কেবল ‘কী সুন্দর পাহাড় আর কী দারুণ খাবার’ করার জন্য আমি ভবঘুরে হইনি। মার্কারা গ্রামে জন্ম নেওয়া এইসব প্রশ্নের উত্তর যে আগামী দেড় মাস ধরে পেরুতে আমি খুঁজে বেড়াব তাতে সন্দেহ নেই।
বিকেলবেলা চেজার এসে পৌঁছল। চেজার সম্পর্কে কয়েকটা কথা এই প্রসঙ্গে খানিক বলে নিই। চেজার হল পেরুভিয়ান, সে এই মার্কারা গ্রামেরই ছেলে। পাহাড় ভালবাসতে বাসতে আজ প্রফেশনাল মাউন্টেন ক্লাইম্বার এবং গাইড হয়ে উঠেছে। ওর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল যখন আমরা কাঞ্চনজঙ্ঘার সাউথ সামিটের পূর্ব গিরিশিরার ওপর অবস্থিত জেমু পিক অভিযানে গিয়েছিলাম। জেমু পিক হল ৭৭৩০ মিটার উচ্চতার একটি আনক্লাইম্বড পিক। বলা যেতে পারে, পৃথিবীর উচ্চতম আনক্লাইম্বড শিখরের একটি হল এই জেমু। তিস্তা নদীর অন্যতম উৎস যে জেমু গ্লেসিয়ার তার নামেই এই শৃঙ্গের নামকরণ। এই এক্সপিডিশনের সময় আমি চেজারের সঙ্গে প্রায় দেড় মাস কাটিয়েছিলাম। তালুঙের দুর্ভেদ্য জঙ্গলে এবং টংসিয়ংয়ের মোরেন ও হিমপ্রপাতে একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা একেবারে অন্য মাত্রার। আর সেটার কারণেই একটা দারুণ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। পাহাড়ের বন্ধুত্ব যখন হয় তখন এই পর্যায়েরই হয়। যাইহোক, চেজার বিকেলে এসে পৌঁছল। ও পরামর্শ দিল, সান্তাক্রুজ ট্রেলেই যখন যাবে তখন আমার গাড়ি করেই একটা দিন পরে চলো। তাহলে গাড়িভাড়াটা অন্তত বাঁচবে। শুনলাম, চেজার কয়েকজন আমেরিকানকে আলপামায়ো পিক ক্লাইম্ব করাতে নিয়ে যাচ্ছে। সেই পথেই পড়বে আমারও গন্তব্য। বলা বাহুল্য, চেজার আমার মতোই একজন মাউন্টেন গাইডের কাজ করে থাকে।

কর্ডিয়েরা ব্লাঙ্কা।

একদিন দেরি করে অর্থাৎ ২৩ জুনের জায়গায় ২৪ জুন ট্রেকিং শুরুর তারিখ হয়ে শাপে বর হল বলা যায়। কারণ চেজারের সঙ্গে অনেকদিন পর বেশ অনেকটা সময় কাটানো যাবে। গল্প করা যাবে। আবার, চেজার যে গাড়িটা করে আমেরিকানদের নিয়ে যাবে তাতে চেপে বসে আমি ডেস্টিনেশনে চলে যেতে পারব বলে আমার গাড়িভাড়াটা বেঁচে যাবে। এটা একটা মস্ত ব্যাপার। প্রথম দিনের হাঁটাটা আমি চেজারের সঙ্গেই হাঁটতে পারব। তাছাড়া ওরা যা ভালমন্দ রান্না করে খাবে তা আমিও পাব। কারণ, তার পরদিন থেকে তো আমাকে নিজেকে রান্না করে খেতে হবে, সেইজন্য আমি হালকা থাকার জন্য কিছু নুডলস আর স্যুপের প্যাকেট ছাড়া আর কিছু নিইনি। তবে হ্যাঁ, কফি তো অবশ্যই নিয়েছি। গতকাল কারউয়াজে বাজার করতে গিয়ে এসবই কিনেছি।
সন্ধের মুখে চেজার জানাল, ভলিবল খেলা শুরু হচ্ছে, আমাকে যোগ দিতেই হবে। মার্কারার মাউন্টেন গাইড স্কুলে যতজন পর্বতারোহী ছিল তাদের সকলকেই ডেকে নেওয়া হল। পাঁচজন পাঁচজন করে টিম হল। আমাকেও নেওয়া হল। আমি চেজারকে অনেক বোঝালাম যে সেই পনেরো বছর আগে শেষ ভলিবল খেলেছি, আর টাচে নেই। চেজার বলল, তাতে কিছু আসে-যায় না। নেট টাঙানোর পর শুনলাম, মূল খেলা ছাড়াও এর আলাদা একটা, অতিরিক্ত একটা উত্তেজনা আছে। টাকা বাজি ধরে খেলতে হবে। সকলকে পকেট থেকে এক সোল করে জমা দিতে হবে। আমাদের টিমের প্রত্যেকে এক সোল করে পাঁচ সোল জমা দিল। অপরপক্ষও তাই। সব মিলে দশ সোল জমা হল। যে দল জিতবে শেষ পর্যন্ত, তারাই দশ সোল পেয়ে যাবে। বেস্ট অফ থ্রি ম্যাচ।
প্রথমটা আমরা জিতে গেলাম। নিজেই অবাক হয়ে দেখলাম আমি কেমন করে যেন খানিক খেলতে পারছি। কিন্তু পরের দুটো গেম আমরা লাগাতার হেরে গেলাম এবং হারায় যে আমার আলাদা অবদান আছে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ, আমি একেবারেই খেলার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সেটা স্বাভাবিক, কারণ পনেরো বছর আগে কালিপোখরিতে সেনা জওয়ানদের সঙ্গে আমি শেষ ভলিবল খেলেছি। তখন আমি গ্রিনল্যান্ড যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তার পরে এই। এখন মজাটা হচ্ছে, যখনই আমি কোনও চূড়ান্ত রিমোট জায়গায় অভিযানে যাচ্ছি, কেমন করে যেন ভলিবলটা এসে পড়ছে। ফুটবল খেলতে বলতে পারত। স্কুলে একসময়ে নিয়মিত ফুটবল খেলতাম। এখনও হয়তো খেলতে দিলে ভলিবলের চেয়ে ভাল খেলতে পারতাম।
যাইহোক, জিতি বা হারি, ভলিবল খেলে শরীরে জড়তা অনেকখানি কেটে গেল। রাত্তিরে আমি আর চেজার একসঙ্গে খেতে গেলাম বাইরে। আর চার্চের এই সুশৃঙ্খল জীবন ভাল লাগছিল না। তিন দিন তো এইভাবে কেটেছে। খালি স্যুপ খাওয়া আর পাস্তা খাওয়া! একঘেয়ে ব্যাপার। বাইরে গিয়ে আমরা ফ্রায়েড চিকেন, চিপস আর একটা করে বিয়ার নিয়ে বসলাম। অসাধারণ সুন্দর বিয়ার, নাম কুজকেনা। পেরুর বিখ্যাত হুইট বিয়ার। সেটা খেয়ে চেজার ঘুমোতে চলে গেল। আমারও রাতের ঘুম হল জবর।

অবশেষে দেখা চেজারের সঙ্গে। অনেকদিন পর বিয়ার।

২৩ তারিখ সকালে উঠে প্রথম কাজই ছিল চেজারের বাড়ি যাওয়া। যে টেন্টটা আমি ওর থেকে নেব সেটা ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখে নেওয়া। আমরা দু’জনে মিলে এক বার টেন্ট খাটিয়ে দেখে নিলাম যে সব ঠিকঠাকই আছে। টেন্টের আউটার ব্যাগটা শুধু হারিয়ে গেছে। তাতে অবশ্য কিছু অসুবিধে নেই। টেন্টটা বেঁধেছেঁদে ব্যাগে পুরে ফেললাম। তার পর চেজার ব্যস্ত হয়ে পড়ল ওর ক্লায়েন্ট টিম নিয়ে বেরোনোর গোছগাছের কাজে। আর আমি বেরিয়ে পড়ে নদী পার হয়ে উল্টো দিকে, পাহাড়ের দিকে হাঁটা লাগালাম। এই হল কর্ডিয়েরা নেগ্রা। ঢাল বেয়ে খানিক ওঠার পর একটা সরু পায়ে চলা পথ পেয়ে গেলাম। চেজারের কাছে শুনেছিলাম একটা ছোট্ট গ্রাম আছে ওখানে। পায়ে পায়ে হেঁটে একসময় পৌঁছেও গেলাম গ্রামে। অপূর্ব সুন্দর গ্রাম। ছবির মতো একেবারে। একদম আমাদের হিমালয়ের কোলে কোনও গ্রামের মতোই লাগছিল। তবে এই গ্রামটা যেন খুব বেশি পরিষ্কার। দূরে পাহাড় দেখতে পাচ্ছিলাম। পূর্ব দিকে উয়াস্কারান থেকে উয়াইউয়াস পর্যন্ত টানা কর্ডিয়েরা ব্লাঙ্কা রেঞ্জটা দেখা যাচ্ছিল।

সান্টা নদী। এই নদীই আলাদা রেখেছে কর্ডিয়েরা নেগ্রা এবং কর্ডিয়েরা ব্লাঙ্কাকে।

ভীষণ সুন্দর কাটল দিনটা। বসে রইলাম কিছুক্ষণ। অনেক ছবি তুললাম। যখন নেমে আসছি, দেখি একটা গাছের ডালে তিনটে বাচ্চা বসে আছে। আমার ভীষণ ছবি তুলতে ইচ্ছে হল। ব্যাকড্রপে কর্ডিয়েরা ব্লাঙ্কা আর সামনে একটা গাছের ডালে তিনটে বাচ্চা। ছবি দারুণ হবে। কাছে গেলাম। পারমিশন চাইলাম, কী রে, তোদের ছবি তুলব? কিছুতেই রাজি হয় না। ওদের যে বড় দিদি রয়েছে সে কিছুতেই রাজি নয়। সে দিদি আবার দু-একটা ভাঙা ইংরেজিও বলে। স্কুলে ইংরেজি শিখছে। ছবির ব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছে। তখন খালি মনে হচ্ছে, হাতে যদি একটা বড় চোঙাওলা লেন্স থাকত তবে দূর থেকে ছবি তুলে নিতে পারতাম। পরে অবশ্য মনে হল, এই যে ছবিটা তোলা হল না এবং আফশোসটা মনে রয়ে গেল, এটাও বেশ সুন্দর একটা ব্যাপার। সব কিছুই ছবিতে ধরে ফেললে চলে! কিছু তো মনের মধ্যেই রাখতে হয়।

কর্ডিয়েরা নেগ্রা থেকে দেখা কর্ডিয়েরা ব্লাঙ্কাকে। সামনে নিচে নদীর ওপরে মার্কারা গ্রাম।

ফিরতি পথে ভাবলাম, আগামীকাল সকালে চেজারের গাড়ি করে বেরিয়ে পড়ব সান্তাক্রুজ-কাসাকাম্পা ট্রেক রুটে। প্রথম দিন চার-পাঁচ ঘণ্টা হেঁটে চলে যাব প্রথম ক্যাম্পসাইট ইয়ামা কোরালে। সেখান থেকে হেঁটে দু-তিন দিন লাগবে পুন্তা ইউনিয়ন গিরিপথ পেরিয়ে ওপাশের ভ্যালিতে পৌঁছতে। তার পর আবার হেঁটে ও থেমে ফিরে আসব উয়ারাজে। পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ভ্যালির শীতল হাওয়া আর এই ভাললাগা মনে মনে পাঠিয়ে দিলাম বঙ্গোপসাগরের দিকে, কলকাতা শহরের দিকে, আমার বন্ধুদের উদ্দেশে।

ছবি : লেখক

পেরুস্কোপ পর্ব ১

পেরুস্কোপ পর্ব ২

মতামত জানান

Your email address will not be published.