বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৭

‘মেঘে ঢাকা তারা’ (১৯৬০) আর ‘মহানগর’ (১৯৬৩) তাঁকে অমরত্বের দরজায় পৌঁছে দিল। আমাদের জীবনে যে ঝড়ের রাতে এত অভিমানী, এত স্নেহশীল অগ্রজ থাকতে পারে, অনিল চট্টোপাধ্যায়ের ‘শংকর’ না থাকলে আমরা জানতে পারতাম?

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনিল উপমারহিত

অবাক লাগে যে প্রায় একই সময়ে বাংলা ছায়াছবির পর্দায় সক্রিয় ছিলেন চারজন চট্টোপাধ্যায়। প্রথম দু’জন— উত্তম ও সৌমিত্র যথেষ্ট আলোচিত। কিন্তু দ্বিতীয় দু’জন— অনিল ও বিশ্বজিৎ কীরকম আলো-আঁধারিতে আড়ালে রয়ে যান। বিশ্বজিৎ তবু বম্বের নায়ক হয়েছিলেন, অনিল তো কলকাতারই মূলত। এক অনাবিল ও উচ্ছল উপস্থিতির স্বাক্ষর পর্দায় থেকে গেল অথচ অনিল একবারও দূর-নক্ষত্র হতে চাইলেন না। তাঁর জীবন যেন যুধিষ্ঠিরের রথের চাকা, কখনও মাটিতে দাগ রাখে না। বাংলা সিনেমার ইতিহাস তাঁকে অসামান্য সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করবে কিন্তু কখনওই নায়ক হওয়া সত্ত্বেও তারকা ভেবে পত্রিকার পাতা ভরিয়ে দেবে না।
আসলে পঞ্চাশ দশক তো বটেই, এমনকি সত্তর দশকেও বাংলা ছায়াছবির উঠোন এতটাই প্রশস্ত ছিল যে অনিল চট্টোপাধ্যায় নানা প্রান্ত থেকে কথা বলতে পারতেন। আমরা দেখেছি তাঁকে নানা চরিত্রে। নায়কের জন্য নির্দিষ্ট আসন তাঁর নেই। উত্তমকুমারের ব্যক্তিগত জীবনের মতো কোনও মোহিনী আড়াল অনিলের জীবনে ছিল না। বসুশ্রী কফিহাউসের দোতলায় একটা টেবিল রবিবারের দুপুর পর্যন্ত তো বটেই, এমনকি কাজের দিনের সকালেও অনিল চট্টোপাধ্যায়ের ইজারায়। হাজরা মোড়ের পানের দোকানে তাঁর তুমুল অট্টহাসি এখনও স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ে। অর্থাৎ অনিল চট্টোপাধ্যায় চলচ্চিত্রে ও জীবনে সর্বসাধারণের ছিলেন। দূরত্ব রাখার স্বভাব তাঁর কোনওদিনই ছিল না। যখন এমএলএ, তখনও তাঁর কানছোঁয়া হাসি। তাঁর ভিজিটিং কার্ডে অন্তত পঁচিশটি সংস্থার নাম ছিল যাতে তিনি কোনও না কোনওভাবে যুক্ত, কাউকেই তিনি উপেক্ষণীয় ভাবেননি। তাঁর জীবনে ও তাঁর ছবিতে সব অভিজ্ঞতাই পাশাপাশি সাজানো। গুরুত্বের পর্ববিন্যাস অথবা সম্পাদনা তিনি করতে চাইতেন না। ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ ছবির ওই একটুকরো চরিত্র আর ‘মহানগর’-এর নায়ক তাঁর কাছে সমান গুরুত্বের ছিল। যেমন তিনি ঋত্বিক ঘটকের ‘নাগরিক’ ছবির প্রায় তুচ্ছ একটি দৃশ্যে আর ‘মেঘে ঢাকা তারা’-য় বিরাট সাফল্যের মধ্যে নম্বর কম-বেশি করলে অসন্তুষ্ট হতেন। অনিল নিজের জীবনকে অভিনীত চলচ্চিত্র থেকে আলাদা করতে জানতেন না। যেমনটা ছিলেন উত্তমকুমার বা প্রমথেশ বড়ুয়া। গল্‌ফ ক্লাব রোডের ভাড়াবাড়ি থেকে একটি রিকশা করে সরাসরি তিনি স্টুডিওপাড়ায় গিয়ে সত্যজিৎ রায়ের ‘তিন কন্যা’ ছবির পোস্টমাস্টার সাজতেন।

অনেকটাই প্রবাসী বাঙালির ঘরানা নিয়ে অনিল চট্টোপাধ্যায় এসেছিলেন অভিনয়ের জগতে। দিল্লির ছেলে। যাকে বলে ভাল ছাত্র— তাই। উত্তর ভারতে সিনিয়র কেমব্রিজ পরীক্ষায় প্রথম হয়ে পড়তে আসেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। তখনও উর্দু বা হিন্দি যতটা আয়ত্তে ততটা বাংলা তাঁর ধাতে নেই। এমনকি কম্পালসারি বাংলায় পরীক্ষার খাতায় ‘ব্রাহ্মণ’ কথাটা লিখতে পারছিলেন না, সহপাঠীর খাতা দেখে চেষ্টা করছিলেন বলে স্যারের বকা খান। ‘‘বাংলা ছাঁদে ‘হ্ম’ লেখা কীরকম কঠিন বলো?’’ অনিলদা আড্ডার ফাঁকে এক একসময় বলতেন, “হতে পারি আমরা ব্রাহ্মণ, কিন্তু দিল্লির স্কুলে তো এসব বাংলা বানান ছিল না।” উর্দু ছিল। ১৯৯১ সাল, তখন তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে। মেটিয়াবুরুজে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করছিলেন, অবাক হয়ে স্বয়ং জ্যোতি বসু জানতে চেয়েছিলেন, “এত চোস্ত উর্দু শিখলেন কোথায়?”
লেখাটা প্রত্যেকেই লেখে তার নিজের ধরনে। এক বছরের ছোট উৎপল দত্তের মতোই তাঁর শুরু শেক্সপিয়র দিয়ে, একই কলেজে। উৎপল যখন জিওফ্রে কেন্ডালের থেকে পাঠ নিচ্ছেন, অনিল তখন এরিক এলিয়টের পাঠশালায়। ছাত্রজীবনে অনিল চট্টোপাধ্যায় উৎপল দত্তের মতোই ‘ডিবেট’-এ অংশ নিতেন।
সিনেমার সংসারে অনিল চট্টোপাধ্যায় খুব অজ্ঞাতকুলশীল আগন্তুক ছিলেন না। মামাবাড়ি ছিল প্রবাসী বাঙালির স্বর্গরাজ্য ভাগলপুরে। বনফুল, তপন সিংহ থেকে দিব্যেন্দু পালিত পর্যন্ত বাঙালির শিল্প-সংস্কৃতির অনেকেই ভাগলপুরের মানুষ। সেই শহরেরই মানুষ অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উৎসাহে অনিল টালিগঞ্জ পাড়ায় পা রাখেন। অভিনেতা হিসেবে নয়, সহকারী পরিচালক হিসেবে। অনিলবাবুর উচ্চাশাও ছিল পরিচালক হওয়ার। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র পিনাকী মুখার্জির পরিচালনা তাঁকে কিছুটা উৎসাহও দিয়েছিল। তবু ‘যোগ বিয়োগ’ (১৯৫৩), ‘ঢুলী’ (১৯৫৪) বা অসবর্ণা (১৯৫৬) তাঁকে প্রযোজকদের কৃপাদৃষ্টি এনে দিল না। প্রেসিডেন্সির অর্থনীতির স্নাতক সত্যজিৎ রায় পরিচালক হতে পেরেছিলেন, সেন্ট জেভিয়ার্সের অর্থনীতির স্নাতক অনিল চট্টোপাধ্যায়ের উচ্চাশা পূর্ণ হয়নি। কিন্তু তারও আগে জীবনের প্রথম সিনেমায় অভিনয় তিনি সেরে ফেলেছেন ঋত্বিক ঘটকের প্রথম ছবি ‘নাগরিক’-এর (১৯৫২) ইন্টারভিউ দৃশ্যে এমএ পাস তরুণ কর্মপ্রার্থী হিসেবে।

প্রথম নায়ক হতে পারলেন ১৯৫৫ সালে প্রেমেন্দ্র মিত্র পরিচালিত ‘ময়লা কাগজ’ ছবিতে। নায়িকা ছিলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। রীতিমতো চুক্তিবদ্ধ পেশাদার অভিনেতা হিসেবে দেখা দিলেন নরেশ মিত্রের ‘উল্কা’ (১৯৫৭) ছবিতে। রোমান্টিক চরিত্র সুধীরের ভূমিকায়। আর তার পরেই ঋত্বিকের ‘অযান্ত্রিক’ (১৯৫৮)। ছবিতে অল্পবয়েসি তরুণীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রেমিকের ভূমিকায় তাঁর অতিচতুর রোদচশমা পরিহিত মুখ, ছোট্ট হলেও কি ভুলে যাওয়ার অভিনয়? তাতেও অনিল স্বাক্ষর রেখে গিয়েছিলেন নিজের প্রতিভার। চিনে কলমের আঁচড়ের মতো অসম্ভব সুন্দর রেখাচিত্র এঁকেছিলেন সত্যজিৎ রায়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’-য় (১৯৬২), বখে যাওয়া কনিষ্ঠপুত্রের চরিত্রে।
একদিন তাঁর সঙ্গে আড্ডার ফাঁকেই উঠে এসেছিল এসব কথা। মফস্বলের এক ডাকবাংলোয় বসে তিনি বলেছিলেন, “আরে মানিকদাকে বললাম, হোটেলের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসা তো! আমরা তো পার্ক স্ট্রিটে আড্ডা মারা লারেলাপ্পা জ্যাভেরিয়ান ছেলে— এক চান্সে মেরে দেব, দেখে নেবেন… তো হল কী, পরেছিলাম সে যুগের চালু সাদা টাইট চোঙা প্যান্ট। স্টান্ট দেওয়ার জন্য ওয়াইল্ড মেয়ার হোটেলের শেষ তিনটে সিঁড়ি থেকে পাথুরে জমিতে লাফ দিলাম। মানিকদা বোধহয় আতঙ্কে ছিলেন। সুব্রতদার হাতে শট ওকে হল। কিন্তু বিপত্তি অন্য জায়গায়… পেছনে হাত দিয়ে দেখি প্যান্ট ফাঁক হয়ে গেছে… এই অবস্থায় কোনওক্রমে নীচে দর্জির দোকানে সেলাই করাতে গিয়ে দেখি অন্য একটা সিনেমা ইউনিটের দুটো মেয়ে কথা বলছে… আমি তো সোজা ট্রায়াল রুমের পর্দার আড়ালে।” হো হো করে হেসে ফেলেছিলেন অনিলদা।
‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’-র সময়ে হিন্দি ছবি ‘অফিসার’-এরও শ্যুটিং চলছিল দার্জিলিংয়ে। অনিল চট্টোপাধ্যায় এরকম : শাপভ্রষ্ট দেবশিশু। যেন কোনও পাপ তাঁকে স্পর্শ করে না, যেন তাঁকে মলিন হতে নেই। আর প্রতিটি মুহূর্তে, জীবনের প্রতিটি বাঁকে যেন শুধুই অপেক্ষা করে আছে অন্তহীন বিস্ময়। ‘কোমল গান্ধার’ ছবিতে তাঁর অভিনীত ঋষি চরিত্রের মতোই “বিস্ময়ে তাই জাগে, জাগে আমার গান” বলতে পারেন তিনিও। এদিক থেকে দেখলে অনিল প্রায় ফরাসি নবতরঙ্গের অন্যতম প্রধান নট জঁ পিয়ের লেয়োকে সহযাত্রী ভাবেন। দু’জনেই নায়ক, অথচ পার্শ্বচরিত্র সাজতে দ্বিধা নেই। দু’জনেই নানাভাবে সিনেমার শিখরে পৌঁছেছেন, কিন্তু স্টার হতে চাননি বা পারেননি গোপনীয়তার অভাবে। লেয়ো ও অনিল দু’জনেই মিছিলে হেঁটেছেন, রেস্তোরাঁয় আড্ডা মেরেছেন ও তার ফাঁকফোকরে অভিনয় করেছেন। গোদার ও ত্রুফোর নির্দেশনায় কাজ করেছেন লেয়ো, আর অনিল সত্যজিৎ-ঋত্বিকের পরিচালনায়। জঁ-পল বেলমন্দো বা উত্তমকুমার কিছুতেই মায়াবী কুয়াশা ছিঁড়ে জনসাধারণের পাশে হাঁটবেন না। নায়ক হতে গেলে আড়াল লাগে। অনিল তো পর্দায় বিশ্বাস করতেন না। না সিনেমার পর্দা, না জীবনের আড়ালে। অন্তত চারটি হিন্দি ছবি ‘ফারার’, ‘সন্নাটা’, ‘পার’ ও ‘অন্ধি গলি’-তে তিনি অভিনয় করেছেন। দূরদর্শন ধারাবাহিক ‘নকাব’-এ তাঁর অভিনয় বেশ সুখ্যাতি কুড়িয়েছে। ছবি আঁকতেন, সুদর্শন। ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। এমন জনপ্রিয় নায়ক হয়েও হঠাৎ তেষ্টা পেলে বারাসত মোড়ের কাছাকাছি রাস্তায় ডাবের জল খেতে নেমে পড়তেন, গ্ল্যামার-হানির কথা তাঁর মাথায় আসত না।

এইজন্যই হয়তো ‘মেঘে ঢাকা তারা’ (১৯৬০) আর ‘মহানগর’ (১৯৬৩) তাঁকে অমরত্বের দরজায় পৌঁছে দিল। আমাদের জীবনে যে ঝড়ের রাতে এত অভিমানী, এত স্নেহশীল অগ্রজ থাকতে পারে, অনিল চট্টোপাধ্যায়ের ‘শংকর’ না থাকলে আমরা জানতে পারতাম? রাগ হংসধ্বনিতে এ টি কাননের গাওয়া গান ঋত্বিক ঘটক পিকচারাইজ করার সাহস দেখিয়েছিলেন অনেকটাই অনিল চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায়। একদিন ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ছবিটার কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, “কোনও প্লে-ব্যাক মেশিন তো ছিলই না, উপরন্তু ক্ল্যাসিকাল গান— আমিই ঋত্বিকদাকে সাজেস্ট করেছিলাম যখনই ক্যামেরা ক্লোজশটে আসবে তখনই হাত নেড়ে মুখ আড়াল করে দেব… ম্যানেজ হয়ে যাবে।” সুপ্রিয়া-অনিল অভিনীত ওইরকম ভাই-বোনের চরিত্র বা ওইরকম অভিনয়ের আর কোনও দৃষ্টান্ত আর কি পাওয়া যাবে চলচ্চিত্রে? অথবা মহানগর ছবিতে যে স্বপ্নমদির, কিঞ্চিৎ ঈর্ষাপরায়ণ প্রেমিক ও ব্যাঙ্ক কেরানি সুব্রত মজুমদারকে পাওয়া যায় সে তো ষাট দশক জুড়ে সংসারী মধ্যবিত্ত যুবকের ছাঁচ হয়ে গেল! মশারির মধ্যে আর স্টিফেন হাউসের সামনে অনিল চট্টোপাধ্যায়ের আশঙ্কা ও অহংকার বাঙালির যৌবনকে অনেক বড় পরিসরে টেনে এনেছিল সেদিন। মাধবীকে পাশে নিয়ে তিনি যেন প্রমাণ করতে পেরেছিলেন— নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়।
বাঙালির আখ্যান তখন অনেক বড় পরিসরে ডানা মেলতে জানত। কী অসামান্য অভিনয়সৌকর্যে তিনি অনায়াসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন উত্তমকুমারের সঙ্গে ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ (১৯৫৯) ও ‘জতুগৃহ’ (১৯৬৪) ছবিতে। আর পড়ন্ত বেলায় উত্তমকুমার আবার দেখলেন ‘অমানুষ’ (১৯৭৪) ছবির দারোগা অনিল চট্টোপাধ্যায়কে। ঋত্বিক ঘটকের ‘কোমল গান্ধার’ (১৯৬১) আর তপন সিংহের ‘নির্জন সৈকতে’ (১৯৬৩) মেজাজের দিক থেকে কত আলাদা, কিন্তু অনিল দুই পরিচালকের হাতেই শরতের সাদা হালকা খুশির মেঘ! এখন রূপকথা মনে হয় যে তিন চট্টোপাধ্যায় একই সঙ্গে কতবার আমাদের মুগ্ধ করেছেন! এই অনিল আবার ‘দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন’ (১৯৭০) হতেও জানতেন। মৃণাল সেন, গৌতম ঘোষ, অপর্ণা সেন, উৎপলেন্দু চক্রবর্তী— অনিল চট্টোপাধ্যায় কাউকেই নিরাশ করেননি। ‘একদিন অচানক’ কেন যে চলে গেলেন! আমাদের গরিবিয়ানার অহংকারও রইল না আর। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন যে বাঙালি মধ্যবিত্ত দেখতে জানত, যার প্রৌঢ়ত্ব শুধু হরমোন বিপর্যয় ছিল না— তেমন এক সোনালি বিকেলের শেষ পদাতিক ছিলেন তিনি।

ছবি : ইন্টারনেট

(পরের পর্ব তৃতীয় শনিবার)

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৩

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৪

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৫

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৬

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৭

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৮

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৯

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১০

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১১

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১২

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৩

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৪

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৫

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৬

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৭

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৮

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৯

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২০

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২১

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২২

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৩

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৪

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৫

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৬

মতামত জানান

Your email address will not be published.