বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

প্রতিপ্রস্তাব

সবান্ধব সত্যজিৎ মনে করতেন, শব্দের অতিপ্রয়োগ দৃশ্যসৌন্দর্যের ক্ষতি করে। গানের প্রয়োগও যথাসম্ভব কম থাকা উচিত। অন্যদিকে ঋত্বিক ঘটক একেবারে বিপরীত মত পোষণ করতেন। তাঁর কাছে শব্দই ব্রহ্ম।

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

পর্ব ৩৩

সিনেমা বোঝার ধারাপাত

পঞ্চাশ দশকে আমরা যখন সিনেমার আবর্তসংকুল ঘটনাবলি নিয়ে কথা বলি তখন বোধহয় ফিল্ম সোসাইটির দিকে একটু ভালভাবে তাকানো উচিত।
সত্যি কথা বলতে কী, সত্যজিৎ রায়, চিদানন্দ দাশগুপ্ত, রাধাপ্রসাদ গুপ্ত, বংশী চন্দ্রগুপ্ত, হরিসাধন দাশগুপ্ত প্রমুখ সিনেমা-উত্তেজিত তরুণ যখন ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটির পত্তন করছেন স্বাধীনতার বছরেই; তখন থেকেই ছায়াছবির দৃশ্যগত ও কাহিনিগত বাস্তবতা ও সঙ্গতির প্রশ্নটি জোরালো হয়ে উঠেছে।
বম্বেতে ১৯৩৭ সালে ও ১৯৪৩ সালে দুটি ফিল্ম ক্লাব তৈরি হয়েছিল, যথাক্রমে অ্যামেচার সিনে সোসাইটি অব ইন্ডিয়া ও বম্বে ফিল্ম সোসাইটি। কিন্তু বম্বের সোসাইটিদুটি খানিকটা শৌখিন চিত্র প্রদর্শক সংস্থা হিসেবেই কিছুদিন কাজ করে। তারা ঠিক যে অর্থে লুই দেলুক ১৯১৯ সালে ফরাসি সংস্কৃতিতে ফিল্ম ক্লাবের পত্তন করেন, তেমন ছিল না। অন্যদিকে, ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটি সত্যিই রুচি পরিবর্তনের বাসনায় চলচ্চিত্র ও শিল্পের সম্পর্ক, চলচ্চিত্রশিল্পের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস আলোচনার প্রবর্তন করে। সাহিত্য ও সমাজের সঙ্গে চলচ্চিত্রের প্রকৌশলগত আত্মীয়তা ও বিরোধ পরীক্ষা করা তাদের অন্যতম কর্মপদ্ধতি ছিল। দিলীপ গুপ্তের সৌজন্যে সিগনেট প্রেস যে ‘চলচ্চিত্র’ নামক সংকলনটি প্রকাশ করে, তার প্রায় সব লেখকই ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। আজ সহজেই দাবি করা যায় যে, এই আলোচনা ও নিবন্ধসমূহ শুধু ভারতে চলচ্চিত্রবিদ্যার ভিত তৈরি করেনি, ‘পথের পাঁচালী’ বা ‘অযান্ত্রিক’ জাতীয় ছবি ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটির তর্কবিতর্ক ছাড়া সম্ভব ছিল না। আজ পর্যন্ত আমরা ‘ভাল’ ছবি বলতে যা যা বুঝি, তার সিঁড়িগুলি তৈরি করে দিয়েছিল এই সোসাইটি।
যেমন সোসাইটির সদস্যরা বিএফআই থেকে দীর্ঘমেয়াদি ধারে পাওয়া ‘ব্যাটেলশিপ পোটেমকিন’ (১৯২৫) ছবিটি বার বার দেখতেন। চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন আইজেনস্টাইনের মন্তাজ রীতির। এই ছবি দিয়েই সোসাইটির যাত্রা শুরু। তাছাড়া এই সোসাইটি নানা গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতাসভার আয়োজন করেছে। যেমন রুশ অভিনেতা নিকোলাই চেরকাসভ, ফরাসি পরিচালক জঁ রেনোয়া ও হলিউডের জন হাসটন এই সোসাইটিতে বক্তৃতা করেছেন। তার পর সোসাইটির সদস্যদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তরের আসরেও মিলিত হয়েছেন।
তাছাড়া তাত্ত্বিকভাবেও নানা ভাবনাচিন্তাকে প্রশ্রয় দেওয়া হত। যেমন ধরা যাক, ছবিতে শব্দ ও গানের ব্যবহার। সবান্ধব সত্যজিৎ মনে করতেন, শব্দের অতিপ্রয়োগ দৃশ্যসৌন্দর্যের ক্ষতি করে। গানের প্রয়োগও যথাসম্ভব কম থাকা উচিত। অন্যদিকে ঋত্বিক ঘটক একেবারে বিপরীত মত পোষণ করতেন। তাঁর কাছে শব্দই ব্রহ্ম। লেখক কমলকুমার মজুমদারও গান সম্বন্ধে সত্যজিতের মতামত মেনে নেননি। তিনি মনে করতেন, গান আমাদের জীবনের শ্বাসবায়ুর মতো স্বাভাবিক। সম্ভবত পৃথিবীতে একমাত্র বাঙালি হিন্দুরাই শ্মশানেও গান গায়। ছবিতে বাস্তবতার বিন্যাস কীভাবে হতে পারে, এ নিয়েও সোসাইটির সদস্যরা ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেননি।
অথচ সামাজিক স্তরে চল্লিশ দশকের শেষে ও পঞ্চাশের প্রথমে সাহিত্য বা চিত্রকলা নিয়ে যেমন প্রবন্ধ লেখা যায়, চিন্তার কারুকাজ বোনা যায়, তেমন যে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও হতে পারে— এই ধারণাটিরই কোনও রূপরেখা ছিল না। চিদানন্দ দাশগুপ্ত জানাচ্ছেন যে, এই কল্পনাও “নাক-উঁচু শিক্ষিত মহলে হাস্যকর, ছাপোষা বাঙালির কাছে অবিশ্বাস্য; সিনেমা মহলের কাছে নিষ্কর্মা যুবকদের খামখেয়াল।” যদি সমাজের কোনও কেষ্টবিষ্টুকে বোঝাতে হয় সোসাইটির প্রতি অনুগ্রহের প্রত্যাশায়? চিদানন্দ শিল্প, বিজ্ঞান ও শিক্ষা-সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ এনে সে চেষ্টাও করেছিলেন। এবার চিদানন্দবাবুর ভাষাতেই বলি— “একটু আশান্বিত হয়ে উঠেছি, এমন সময় তিনি বললেন : দেখুন মশায়, সে হয় না। সিনেমার সঙ্গে আর্ট বা সায়েন্স, শিক্ষা বা কালচারের কোনও সম্পর্ক নেই। সস্তা এন্টারটেনমেন্ট ছাড়া সিনেমার মধ্যে আর কী আছে বলুন?”

দুর্দশার এখানেই শেষ নয়। এমনকি সিনেমা আলোচনার জন্য ঘর পাওয়াও ছিল বিরাট সমস্যা। চিদানন্দ দাশগুপ্তই জানাচ্ছেন যে, দু-একটি বাড়িতে সোসাইটির মিটিং করতে গিয়ে কী বিপত্তি হয়েছিল। চলচ্চিত্র যেন ‘নিষিদ্ধপল্লি’, সেখানে প্রকাশ্যে যাওয়ার পথ নেই। দুটি মজার উদাহরণ তিনি দিয়েছেন। ‘‘জনৈক সভ্যের বাড়িতে তেতলার ঘরে সোসাইটির আলোচনাসভা বসেছে। একজন সভ্য দেরিতে এসেছেন, ঠিক কোথায় সভা হচ্ছে জানেন না, ভাবছেন কাকে জিজ্ঞেস করে নেওয়া যায়। এমন সময় দুই হাতে দুই জলের বালতি নিয়ে সিঁড়ির মুখে দেখা দিলেন এক ভদ্রমহিলা।
ভদ্রলোক : দেখুন, এখানে ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটির মিটিং হচ্ছে?
মহিলা : কীসের মিটিং? ফিলিমের? ওসব ফিলিম-টিলিম এখানে হয় না।
ভদ্রলোক : কিন্তু আমাকে তো এই ঠিকানাই দেওয়া হয়েছে— দেখুন তো এই বাড়িই কিনা!
মহিলা : নম্বর তো এই বাড়িরই দেখছি।
ভদ্রমহিলার ভুরু কুঁচকে উঠল। হঠাৎ তাঁর মনে পড়ল উপরে কিছু লোকের জটলা দেখে এসেছেন। মিনিট কয়েকের মধ্যে আমাদের সভায় বোমা ফেটে পড়ল, জানো। দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে মহিলা কাংস্যবিনিন্দিত কণ্ঠে চিৎকার করে উঠলেন। এসব ফিলিম-টিলিম এখানে চলবে না বলে দিচ্ছি। যতসব ইয়ে এসে জুটেছে।
এইরকম নানা গণ্ডগোল দেখে বহু চেষ্টায় বালিগঞ্জ পাড়াতে একটি ঘর ভাড়া করা হল। সেই ঘরে যাতায়াতের পক্ষে যে পথটা সুবিধের সেটা মূল বাড়িওয়ালার পথ। একদিন সভা যখন মাঝপথে পৌঁছেছে, তখনই ঘরে হঠাৎ মূল বাড়িওয়ালার আবির্ভাব। তিনি শুনেছেন আমরা নাকি ফিলিমের লোক। আমাদের দেখে এমনি বেশ ভদ্রই মনে হচ্ছে, কিন্তু স্ত্রী-পুত্র নিয়ে তিনি বাস করেন। ফিলিম-টিলিম তো এখানে চলবে না। বিশেষত যাতায়াতের পথ যখন একই। ‘ধরুন আপনারা ঢুকছেন, আর আমার স্ত্রী উপর থেকে নামছেন, তখন যদি ক্ল্যাশ করে তাহলে কী হবে?’
এবাড়িরও পাট চুকল।’’
সুতরাং সিনেমা তখনও পর্যন্ত ভদ্রসমাজের পক্ষে মানহানিকর। তাতে উপেন্দ্রকিশোরের নাতি ও সুকুমার রায়ের ছেলে জড়িত আছেন কিনা তা জেনে সমাজের কিছুমাত্র মাথাব্যথা হচ্ছে না। এমনকি সিনেমা মহলেও ফিল্ম ক্লাব নিয়ে নানা সন্দেহ। হলমালিকরা ভাবতেন, ফিল্ম সোসাইটি বোধহয় কোনও একটা ব্যবসা! আর যাঁরা আরও একটু শিক্ষিত তাঁরা মনে করেন, এসব ক্লাবের কোনও দাম নেই, সবই বইপড়া বিদ্যে। অথচ ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটির তরুণরা প্রাণপণে বুঝিয়ে যেতেন সিনেমা কোনও বাগানবাড়িতে বাবু ও তাঁর রক্ষিতাদের বিলাস নয়। কোনও তেল-নুনের ব্যবসাও নয়।
ইতিমধ্যে দুটি বড় ঘটনা ঘটল। কলকাতায় পরপর পা রাখলেন দুই বিরাট মাপের পরিচালক— রেনোয়া ও পুদভকিন। প্রথমজন সত্যজিৎ রায়কে ও দ্বিতীয়জন ঋত্বিককুমার ঘটককে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছেন। ফরাসি চলচ্চিত্রকার জঁ রেনোয়া কলকাতায় এসেছিলেন তাঁর প্রস্তাবিত ছবি ‘দি রিভার’-এ শ্যুটিং করতে। সত্যজিৎ, সুব্রত মিত্র খানিকটা শিক্ষানবিশের মতো রেনোয়ার দলে ভিড়ে যান। তাতে লাভ হল, মার্কিন চলচ্চিত্রের বাইরে যে বাস্তবের সীমানা আরও অনেক দূর প্রসারিত, একথা তাঁদের মগজে প্রবেশ করে। রেনোয়ার ‘লা রেগলে দ্য জ্যু’ ছবিটি তরুণ সত্যজিৎকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করেছিল যে ষাট দশকের শুরুতে ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ ছবির চিত্রনাট্য রচনার সময় সত্যজিৎ রায় রেনোয়ার প্রতি তাঁর ঋণ গোপন রাখেননি।
বিখ্যাত রুশ পরিচালক পুদভকিনের বক্তব্য কমিউনিস্ট পার্টির তরুণ চলচ্চিত্রকর্মী ঋত্বিক ঘটককে গভীরভাবে টানে। পুদভকিনের সংবর্ধনাসভায় পুদভকিন-আইজেনস্টাইন-আলেকজান্দ্রভ স্বাক্ষরিত ‘শব্দ বিষয়ক বিবৃতি’-কে সমর্থন করে ঋত্বিক কিছু কথা বলেন। আসলে তখন দেশি সিনেমার বাইরে শুধুই হলিউড ছবির নীল নকশা ফিল্ম সোসাইটির কর্মীদের কিছুটা ক্লান্ত করে ফেলেছিল। সত্যজিৎ রায়ও আইজেনস্টাইনের ‘ইভান দি টেরিবল’ দেখে এতদূর উত্তেজিত হন যে রাত্রে দুঃস্বপ্নে তাঁর দমবন্ধ হয়ে আসে। সত্যজিৎ অবশ্য পরিহাসচ্ছলে একে পান চিবোনোর ফলাফল বলেই বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এই ছবিতে আলোছায়ার বিন্যাস যে তাঁর মর্ম স্পর্শ করেছিল তার প্রমাণ ‘পথের পাঁচালী’-তে ইন্দির ঠাকুরণের ছায়া, যা রূপকথা শোনানোর সময় আইজেনস্টাইনের ধরনে ব্যবহৃত হয়েছে। নিমাই ঘোষের ‘ছিন্নমূল’ ছবিটি দেখে পুদভকিন হতবাক হয়ে যান। উদ্বাস্তুজীবনের এই দলিলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেই স্ট্যালিন-যুগে পুদভকিন ‘প্রাভদা’ পত্রিকায় একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লেখেন। এই রচনা যেমন নিমাই ঘোষ, তেমন ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলনের পথে একটি বিশেষ স্মারক হয়ে ওঠে।

অনেকটা এই কারণেই কলকাতা ফিল্ম সোসাইটির কর্মীরা ১৯৫২ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে কিছু ছবি নির্বাচনের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এই উৎসবে ইতালীয় নববাস্তববাদের ছবি দেখানো হল। অন্তত দুটি ছবি— ডি সিকার ‘বাইসাইকেল থিভস’ ও রসেলিনির ‘রোম, ওপেন সিটি’ আমাদের চেতনার ভিত্তিমূলে নাড়া দিয়ে গেল। কীভাবে সাইকেল চুরির মতো একটি তুচ্ছ ঘটনা মুসোলিনির সমুদ্রশাসনের দম্ভকে ছাপিয়ে যায়, তা আমরা বুঝতে পারলাম। ক্যামেরাকে যে স্টুডিওর বাইরে নিয়ে যাওয়া যায়, অপেশাদার অভিনেতারাও যে জীবনের এলোমেলো ছন্দে স্বাভাবিক হয়ে পড়েন, একথা জানবার পর এই উপমহাদেশে ছবি বানানো ধারণাটাই পাল্টে যায়। এইজন্যেই বিখ্যাত পোলিস চলচ্চিত্রবিদ গেয়র্গ ত্যেপলিৎজ প্রথম আন্তর্জাতিক উৎসবকে আমাদের ছবির ইতিহাসে ‘মোড় ঘোরানো মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রথম বদল এল হিন্দি ছবিতে। বিমল রায়ের ‘দো বিঘা জমিন’ ছবিতে বলরাজ সাহানি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে পিচগলা রাস্তায় হাতেটানা রিকশা চালালেন। এমন আগে কখনও হয়নি। আর তার পরেই তো বিশ্ববন্দিত ‘পথের পাঁচালী’। একটি শিশুর চোখ দিয়ে দেখা নড়বড়ে গ্রামীণ জীবন, কাশবনের সৌন্দর্য, নাটকীয়তাহীন গল্প। সত্যজিৎ রায় নিজেও বহুবার ‘বাইসাইকেল থিভস’ ছবিটির প্রতি তাঁর ঋণ প্রকাশ করেছেন। আরও পরে ঋত্বিক ঘটক যখন ‘অযান্ত্রিক’ তৈরি করবেন, মৃণাল সেন ‘বাইশে শ্রাবণ’ ও রাজেন তরফদার ‘গঙ্গা’— তখন বোঝা যাবে ফিল্ম সোসাইটির সূত্রে বাস্তবের নতুন ব্যাখ্যা সিনেমার অনেক গভীরে শিকড় ছড়িয়ে দিয়েছে।
কিন্তু এই প্লাবনও ক্যালকাটা ফিল্ম সোসাইটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারল না। আসলে তাদের প্রাণপুরুষ সত্যজিৎ রায় সিনেমায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তাঁর সহযোগীদের সোসাইটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ধৈর্য ও সংগঠন ছিল না। ‘পথের পাঁচালী’-র সাফল্য অবশ্য নতুন করে সদস্যদের প্রাণে আবেগ সঞ্চার করেছিল। এই সময় ভারত সরকারের অতিথি হিসেবে বিবিসি থেকে প্রখ্যাত ভাষ্যকার মারি সিটন এদেশে এলেন। ইনি সত্যজিৎ-সহ অন্যদের সোসাইটির কর্মসূচি প্রণয়নে অনুঘটকের ভূমিকা নিলেন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগও শুরু হল। ১৯৫৬-র শুরুতে সোসাইটি সিনেমা হলে মার্ক ডনস্কয়ের গোর্কির আত্মজীবনীর তিন পর্বের ছবির অন্তিম অংশ ‘পৃথিবীর পাঠশালায়’ দেখিয়ে সোসাইটির পুনর্যাত্রা শুরু হল। তবে তার সেই জৌলুস আর ফিরে এল না।

অঙ্কন : সৌজন্য চক্রবর্তী

(পরের পর্ব তৃতীয় মঙ্গলবার)

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৩

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৪

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৫

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৬

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৭

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৮

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৯

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১০

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১১

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১২

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৩

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৪

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৫

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৬

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৭

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৮

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ১৯

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২০

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২১

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২২

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৩

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৪

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৫

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৬

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৭

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৮

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ২৯

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৩০

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৩১

প্রতিপ্রস্তাব পর্ব ৩২

Comments are closed.