বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

রাসেল রায়হানের কবিতাগুচ্ছ

ঘুঘু

পাখিদের মধ্যে তুমি ঘুঘু ভালবাসতে। বলতে, কী মিহি তুষারদানা ছড়িয়ে থাকে!
পরের জন্মে তোমার বুকের মাঝে ঘুঘু হয়ে বসে থাকব। আর তোমাদের ভিটের কাছে উড়ে এসে বসতে বসতে মনে হবে, গেরস্তের বাড়ি ঘুঘু চরা ভাল নয়।
পরজন্মেও আর তোমার কাছে আসা হবে না।

নাচ

‘এ তবে ময়ূর! আমি অন্ধভাবে ভেবেছি অপ্সরা!’
—এরা যদি উড়ে আসে অভ্রময় সুস্বাদু পালকে
অথবা ঝড়ের সাথে যদি আসে পঙ্খিরাজ ঘোড়া
সবাই দেখেছে যাকে— জন্মান্ধ শাদ্দাদের চোখে।
সেসব ময়ূর আর ঘোড়াগুলি কোন পৃথিবীর,
মাংসময় ছুটে গিয়ে ভেঙে দেয় কেমন প্রাচীর,
আহির ভাঁয়রো গায় ভোরবেলা— অস্থিচেরা রাতে
পঙ্খিরাজ ঘোড়া, নাকি ময়ূরেরা স্নান করে
আমাদের ঘামের প্রপাতে?

আয়ুর্বেদ

আমার সর্বকনিষ্ঠ কন্যাটির একেক ঝলক হাসিতে আমার আয়ু দুবছর করে বেড়ে যায়। আমিও আয়ু বাড়ানোর লোভে তাকে হাসানোর নানাবিধ কসরত করতে থাকি। নিজের বাড়িতেই বানানো এই যে সার্কাসপার্টি, যেখানে ক্লাউনের দায়িত্ব আমার; দায়িত্ব চতুর দর্শকের— সে–ও আমার আয়ু বাড়ানোর লোভেই। নিজের সমস্ত মৌলিক জ্ঞান, বই আর অন্তর্জাল-লব্ধ জ্ঞানসমূহ কাজে লাগাই তাকে হাসানোর জন্য।
সেদিন দেখলাম, কোনও এক যুবকের হাত ধরে আমার সর্বকনিষ্ঠ কন্যাটি হাসছে। আর টের পাই, থার্মোমিটার বেয়ে সাতান্ন বছর নেমে যাচ্ছে আমার আয়ুর রেখা। মনে আছে, একদিন আমিও কারও আয়ু কমিয়ে দিয়েছিলাম এভাবেই— সাতান্ন বছর!

অঙ্কন : দেবাশীষ সাহা
মতামত জানান

Your email address will not be published.