বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

সবুজ মানুষের স্বপ্ন

প্রাচীন ভারতে বর্তমানকালের মতো পরিবেশের ধারণা ছিল না কিন্তু বিভিন্নভাবে তা মিশে ছিল। যদিও পরিবেশবিদ্যাকে আশ্রয় করে কোনও সারস্বত বিষয়কে আমরা পাই না, তবু বিভিন্ন শাস্ত্রে, পুরাণে, সাহিত্যকর্মে আমরা পরিবেশকেন্দ্রিক ভাবনার প্রকাশ দেখতে পাই।

তুহিন শুভ্র মণ্ডল

ক্লোরোফিল। রাসায়নিক গঠন অনুযায়ী ক্লোরোফিল কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ম্যাগনেসিয়াম নিয়ে গঠিত। ১৮১৭ সালে জোসেফ নিয়েনাইমে কাভেন্তো এবং পিয়েরে জোসেফ পেল্লেতিয়ের সবার আগে ক্লোরোফিল আবিষ্কার করেন। প্রধানত পাতার মেসোফিল কলার কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট নামে একধরনের অঙ্গাণু থাকে। ক্লোরোফিল বা পত্রহরিৎ হচ্ছে একধরনের সবুজ রঞ্জক পদার্থ যা সায়ানো ব্যাকটেরিয়ায় এবং উদ্ভিদ ও শৈবালের ক্লোরোপ্লাস্টে পাওয়া যায়। ক্লোরোফিল মূলত একটি গ্রিক শব্দ। Chloros (সবুজ) এবং Phyllon (পাতা)— এর সমন্বয়ে ক্লোরোফিল শব্দের অর্থ ‘সবুজ পাতা’।
এসব তো জানা কথা। কিন্তু কেন এই প্রসঙ্গের অবতারণা? আসলে মানুষের সামনে এখন সংকট উপস্থিত হয়েছে। এই সময় মানুষ শিকড়ের সন্ধান করছে। আমাদের শিকড় কী বা কোনটা? করোনা অতি-মহামারীর পর এ নিয়ে কি আর সন্দেহ আছে যে আমাদের শিকড় ‘প্রকৃতি’।
একবার মনে করে নেওয়া যাক করোনার প্রথম পর্বের কথা যখন একে অতি-মহামারী বলা শুরু হয়নি। যখন বিজ্ঞানী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এর উৎসের সন্ধান করছেন। হু (WHO) এবং বিভিন্ন দেশ সন্ধান করছে। সেই সময় রাষ্ট্রসংঘ পরিবেশ কার্যক্রমের মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক (United Nations Environment Programme, CEO) ইঙ্গের অ্যান্ডারসন বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, করোনা ভাইরাস মানুষকে পাঠানো প্রকৃতির বার্তা। শুধু মানুষ নয়, প্রকৃতির অন্য সন্তানও গুরুত্বপূর্ণ।
এবার মনে করা যাক এ বছরের পরিবেশ দিবসের থিম। ২০২১ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের থিম ‘বাস্তুতন্ত্রের পুনর্গঠন’ অথবা ‘বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’। শুধু এই বছরের থিম নয়, রাষ্ট্রসংঘ আগামী এক দশক ‘বাস্তুতন্ত্রের পুনর্গঠন দশক’ হিসেবে বিবেচনা করেছে। কিন্তু কেন এভাবে ঘোষণা করতে হচ্ছে?

বলা হয়, শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সময় থেকে বিশ্ব উষ্ণায়ন শুরু হয়। জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান হার, শিল্প, কলকারখানার বাড়বাড়ন্ত, দরিদ্র দেশের উন্নয়ন ইত্যাদি কারণে পরিবেশের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। এই ঘটনা ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ভারত তৃতীয় বিশ্বের দেশ। উন্নয়নশীল দেশ। তাই সদাসর্বদা উন্নতির একটা প্রক্রিয়া জারি রাখতেই হয় ভারতের ক্ষেত্রে। তবে এ নিয়ে বিতর্ক আছে। থাকবেও। বিশেষত উন্নত আর উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে। সে কথাতেও আসব, তবে তার আগে প্রাচীন ভারতে পরিবেশচিন্তা কেমন ছিল সে সম্পর্কে আলোকপাত করা যাক।
প্রাচীন ভারতে বর্তমানকালের মতো পরিবেশের ধারণা ছিল না কিন্তু বিভিন্নভাবে তা মিশে ছিল। যদিও পরিবেশবিদ্যাকে আশ্রয় করে কোনও সারস্বত বিষয়কে আমরা পাই না, তবু বিভিন্ন শাস্ত্রে, পুরাণে, সাহিত্যকর্মে আমরা পরিবেশকেন্দ্রিক ভাবনার প্রকাশ দেখতে পাই। তাতে একদিকে যেমন ছিল প্রাকৃতিক সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের কথা তেমনই তাদের ব্যবহার, পরিবেশের নানা সমস্যা সম্পর্কেও একটা ধারণা আমরা পাই। যেমন ধরা যাক, দর্শনে সৃষ্টিতত্ত্বের ভাবনার মধ্যে সমগ্রভাবে প্রকৃতিচিন্তার যে প্রতিফলন আমরা পাই, পরিবেশচিন্তা তার মধ্যেই অন্তর্নিহিত ছিল। আবার সাংখ্য দর্শনে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির যে প্রক্রিয়া তাতে প্রকৃতিকেই আদি তত্ত্ব বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে পঞ্চভূত মহাভূত ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোমের কথাও বলা হয়েছে।
শাক্য রাজকুমার সিদ্ধার্থ গৌতম জন্মগ্রহণ করেছিলেন লুম্বিনী বাগানে শাল গাছের তলায়। নৈরঞ্জনা নদীতীরে এক পিপুল গাছের নীচে বসে তিনি বুদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন এবং দেহত্যাগ করেছিলেন কুশীনগরে হিরণ্যবতী নদীর তীরে এক শালবীথিকায়। প্রকৃতির সঙ্গে জুড়ে থাকার চেতনা অন্তর্নিহিতই ছিল। বাইরে থেকে আরোপ করতে হয়নি। জাতকের কাহিনি যদি দেখি তাহলে দেখব, সেখানে সর্বত্র প্রকৃতি বিরাজমান। স্পন্দনজাতক, বৃক্ষধর্মজাতক, কুণালজাতকে বৃক্ষরাজির সমূহ উল্লেখ আছে। চলে আসি কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের কথায়। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে অরণ্য আধিকারিককে বলা হত কূপাধ্যক্ষ। যারা অরণ্যসম্পদের ক্ষতি করবে তাদের শাস্তির বিধান ছিল এবং তা দেখার দায়িত্ব ছিল সেই অরণ্য আধিকারিকের ওপর। ঈশোপনিষদেও প্রকৃতির গুরুত্বের কথা বলা রয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো বলছি কেন? কারণ, বর্তমানের ভারতে প্রকৃতি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। গঙ্গা নদীকে ভাল রাখতে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান থেকে নমামি গঙ্গে। ভাল হয়েছে গঙ্গা? পশ্চিমবঙ্গের দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখা যায় নদীগুলির বিপন্নতার চিত্র। জল না থাকা, নদী দখল, নদী দূষণ, অবাধ বালি উত্তোলন, গভীরতা হ্রাস, মাছের বৈচিত্র্য কমে যাওয়া ইত্যাদিতে নদী কি আর নদী আছে? উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের শ্রীমতি নদীর মতো অনেক জায়গাতেই নদী এখন ব্যক্তিগত মালিকানায় ধানিজমি। দেশের দূষিত নদীর তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের পনেরোটিরও বেশি নদী। যার মধ্যে উত্তরবঙ্গের চারটি। এছাড়াও বুড়িগঙ্গা, বিদ্যাধরী, চূর্ণী, ইছামতি, গন্ধেশ্বরী নদীগুলোর ভয়ঙ্কর অবস্থা ইতিমধ্যেই প্রকাশিত। অরণ্য ক্রমশ ফাঁকা হয়ে যাওয়া, বনের ভিতরে খাবারের অভাব, মানুষ ও বন্যপ্রাণের সংঘাত নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অরণ্যগুলি আমাদের ফুসফুস। এ কী অবস্থা তার?
যশোর রোড সম্প্রসারণ কিংবা এশিয়ান হাইওয়ে নির্মাণের জন্য পরিবেশ অভিঘাত মূল্যায়ন (Environmental Impact Assessment) বা গণশুনানি হয়েছিল? রামসার স্বীকৃত ঐতিহ্যমণ্ডিত পূর্ব কলকাতা জলাভূমি হোক, হাওড়ার সাঁতরাগাছি ঝিল হোক বা উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বিশালকায় জলাভূমি। সব দখল হয়ে যাচ্ছে। জলাভূমিকে বলা হয় প্রকৃতির কিডনি। কিডনি আক্রান্ত।
কিছুদিন আগে বনদপ্তরের জলচর পাখি সমীক্ষায় পরিদর্শক হিসেবে ছিলাম। জলচর পাখিদের হ্যাবিট্যাট বা বসবাসযোগ্য পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এটা তো শুধু জলচর পাখিদের সমস্যা নয়। জীববৈচ্যিত্রের সামগ্রিক সংকট।

আবার একটু চোখ মেললেই দেখা যাবে, যেন আবর্জনায় ভরে আছে চরাচর। প্লাস্টিক-দূষণ সীমাহীন। এক্ষেত্রে তো শুধু সরকার বা প্রশাসনকে দোষ দিলে চলবে না, ব্যক্তিগত ভূমিকাও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। সলিড ও লিকুইড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের পরিকাঠামো সমগ্র দেশের ক্ষেত্রেই দূরবিন দিয়ে খুঁজতে হবে। পুরসভা বা কর্পোরেশনগুলোতেই সেই অর্থে নেই, পঞ্চায়েতগুলোতে তো প্রশ্নই ওঠে না। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালকে আসরে নামতে হয়। তাতেও সুরাহা হয় না।
বর্তমানে আর একটি পরিবেশ সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তা হল ধান ও গমের নাড়া পোড়ানো এবং তার দ্বারা বায়ুদূষণ। এর সঙ্গে মৃত্তিকা-দূষণও হয়। আগে পাঞ্জাব, হরিয়ানায় প্রবলভাবে দেখা গেলেও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গেও তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কৃষিদপ্তর যে প্রচার চালায় না তা নয়, তবে কৃষকরা এখনও সচেতন নন। এক্ষেত্রে আর একটি কথা উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে। কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার এবং কীটনাশকের ফলে দূষণ। এই কারণে মাটি যে শুধু তার উর্বরাশক্তি হারাচ্ছে, বন্ধ্যা হচ্ছে তাই নয়, আরও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই যেমন, সেদিন আত্রেয়ী নদীর মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। আত্রেয়ী নদীতে একসময় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত এবং সে মাছের বৈচিত্র্যও অনেক। কিন্তু এখন আত্রেয়ীর বুক থেকে তারা হারিয়ে গিয়েছে। বাঘার, সুবর্ণখলকি, মহাশৌল, পাতারি চেলা, শিলং, আংরোস, বেলে— কত ধরনের মাছ আর নেই। আত্রেয়ী নদীর গৌরব রাইখর মাছ। কিন্তু সেই মাছের পরিমাণ এখন কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মাছের এই বৈচিত্র্য কমে যাওয়া শুধু তো আত্রেয়ীর কথা নয়, সব নদীর একই বাস্তবতা। মৎস্যজীবীরা বলছিলেন, এর পিছনে বিভিন্ন জমি থেকে কীটনাশক মিশ্রিত জল খাল-বিলের মাধ্যমে যে নদীর জলে এসে মেশে তার অন্যতম ভূমিকা রয়েছে। তাহলেই ভাবুন।
এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে যায় রাচেল লুই কারসেনের কথা। রাচেল কারসেন লিখছেন, “আমেরিকায় ক্রমবর্ধমান বিশাল এলাকা জুড়ে পাখির আগমনবার্তা ছাড়াই বসন্ত আসে।” ১৯৬২ সাল। রাচেল লুই কারসেনের আলোড়ন ফেলে দেওয়া বই ‘সাইলেন্ট স্প্রিং’। এখানেই রাচেল লিখলেন কীটপতঙ্গদের ওপর রাসায়নিক সার ব্যবহারের ক্ষতিকারক দিক নিয়ে এবং তার ব্যবহার নিয়ে চরম সতর্ক হতে বললেন। বললেন পাখি না-ডাকা নীরব বসন্তের কথা।

আমাদের চারপাশেও তো তাই। কত পাখি হারিয়ে গিয়েছে। কত পাখির ডাক তো শোনাই যায় না আর। এখানেও উল্লেখ করা যায় ‘Habitat Loss’-এর কথা। গাছ না থাকার কথা। কী আমেরিকা, কী ভারত— পরিস্থিতি একই।
আর একটি বিষয়ও এক, সেটা সমগ্র পৃথিবীর পরিপ্রেক্ষিতে। তা হল ক্লাইমেট চেঞ্জ। জলবায়ুর পরিবর্তন। বিশ্ব উষ্ণায়নের হাত ধরে অনিয়মিত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীবন, জীববৈচিত্র্য, জীবিকা সংকটে। দুই বাংলার প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সুন্দরবনের মানুষ ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, বিপর্যয়ের ফলে চরম বিপদে। ম্যানগ্রোভ অস্তিত্ব সংকটে। কলকাতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিপদ ঘরের দুয়ারে। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই একযোগে কাজ করা দরকার। সব দেশ মিলে, কেন্দ্র ও রাজ্য মিলে।
কিন্তু আমরা কী দেখছি? জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে এখনও ঐকমত্য হচ্ছে না। পৃথিবীর শক্তিধর দেশ আমেরিকা। আগের ট্রাম্প সরকার জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। যদিও জো বাইডেন আসার পর জলবায়ু ইস্যুতে আবার ইতিবাচক মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করছে মার্কিন সরকার। এদিকে বিশ্ব উষ্ণায়নের দায়িত্ব নিয়ে এখনও উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির ‘উত্তর-দক্ষিণ বিতর্ক’ মেটেনি। কার্বন ক্রেডিটের আলোচনা অনেক কমে এসেছে। ব্রুন্ডটলান্ড কমিশনের ‘টেকসই উন্নয়ন’-এর ভাবনা এখনও গ্রহণ করার ক্ষেত্রে একটা সর্বাত্মক উদাসীনতা আছে। সুইডেনের স্টকহোম, রিও ডি জেনিরো, কিয়োটো, জোহানেসবার্গ, প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন পেরিয়ে আবার নতুন দিকে তাকিয়ে আমরা। সমাধান সূত্র মিলবে? রাষ্ট্রসংঘ যে ১৭টি ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা’ (Sustainable Development Goals) নিয়েছে তার যথার্থ বাস্তবায়ন জরুরি।

এখান থেকেই একটা আহ্বান রাখতে চাই একজন ব্যক্তিমানুষের কাছে। সেই ব্যক্তিমানুষ, যিনি সাধারণ হতে পারেন, অসাধারণ হতে পারেন, সাধারণ প্রশাসন, পরিবেশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি হতে পারেন, শিল্পপতি হতে পারেন, খেলোয়াড় হতে পারেন, রাজ্যের সর্বময় কর্তা হতে পারেন, রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাগরিক হতে পারেন। অর্থাৎ বলতে চাইছি, যে কেউ হোন না কেন, আসুন, পরিবেশের সত্যিকারের বন্ধু হই। অন্তর থেকে আমরা প্রণাম জানাই প্রকৃতিকে। আমাদের জীবনে প্রকৃতির ঋণ স্বীকার করি। তাহলে আমরা সূর্যকে তার অসীম শক্তির জন্য প্রণাম জানাব ঘুম থেকে উঠে। বিনামূল্যে অক্সিজেন দেয় যে গাছ আমাদের বেঁচে থাকার জন্য, তার কথা আন্তরিকভাবেই স্মরণ করব। পরিবেশ-বিরুদ্ধ কোনও পরিকল্পনা নেওয়ার মন তৈরি হবে না। আসুন, বাহিরে ও অন্তরে এমন অসংখ্য সবুজ মানুষের স্বপ্ন দেখি যাদের প্রত্যেকের বুকে ক্লোরোফিল জন্ম নিচ্ছে। তারা তাদের সাধ্যমতো গাছ লাগাচ্ছে, গাছ বাঁচাচ্ছে। জল, হাওয়া, শব্দের বন্ধু হচ্ছে, রক্ষা করছে প্রাকৃতিক সম্পদকে। যারা করোনা কাল থেকে শিক্ষা নিচ্ছে, প্রকৃতির অন্য সন্তানদের মর্যাদা দিতে।

অঙ্কন : আদ্রিয়ান ঘোষ
মতামত জানান

Your email address will not be published.