বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

‘অপরাজিত’ নিয়ে কিছু কথা

গত দু’দশকে বাংলায় একধরনের ছবি তৈরি হয়ে চলেছে যাকে ‘ফিল গুড’ বলা যেতে পারে। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, অনীক দত্তরা এর মধ্যেও ব্যতিক্রমী বিষয় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আপ্রাণ।

 কান্তিরঞ্জন  দে

 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ (১৯২৯)-র পর বাংলা সাহিত্য অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’-র (১৯৫৫) পর বাংলা সিনেমা কি আর এগোয়নি? অনীক দত্ত পরিচালিত ‘অপরাজিত’ সিনেমাটি দেখার পর এই প্রশ্নটা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

রবীন্দ্র পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে বাস্তবতাবাদ যদি কল্লোল গোষ্ঠীর হাত ধরে ১৯২০-র দশকে শুরু হয়ে থাকে তাহলে বাংলা সিনেমায় সেই বাস্তবতাবাদ এসেছে তারও অন্তত তিরিশ-পঁয়ত্রিশ বছর পরে। ১৯৫৫ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ সিনেমা মারফত।

সত্যজিৎ রায় বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমাকে নতুন কী দিয়েছিলেন? ‘পথের পাঁচালী’-র হাত ধরে বাংলা (তথা উপমহাদেশীয়) সিনেমায় এসেছিল চিত্রভাষার আধুনিকতা। কাহিনি, অভিনয় এবং সিনেমার সার্বিক উপস্থাপনায় এসেছিল বাস্তবতাবাদ। দৃশ্যের পর দৃশ্য সাজিয়ে পর্দায় কত বুদ্ধিদীপ্ততার সঙ্গে গল্প বলা যায়, সত্যজিৎ রায় চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের তাই দেখিয়েছিলেন। মৃণাল সেন মোটামুটি দশ বছর সরলরৈখিক গল্প বলার চেষ্টার পর সত্তর দশকের গোড়া থেকে (‘ভুবন সোম’ পরবর্তী কলকাতা ট্রিলজি) ফরাসি সিনেমার নুভেলভাগ আন্দোলনের তর্কমুখর  ঘরানার প্রভাব আত্মস্থ করে বাংলা সিনেমার একটা সৃজনশীল-বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা আন্তর্জাতিক মানচিত্রে হাজির করতে পেরেছিলেন। ঋত্বিক ঘটক ছিলেন মাটির কাছাকাছি। বাংলার ও বাঙালির অসহায়তা ছিল তাঁর ক্যামেরা নামক রাইফেলটির বারুদ। এসব কথা বহুবার বহুভাবে আলোচিত। 

সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণালের আগে-পরে বাংলায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ পরিচালক অবশ্যই ছিলেন। দেবকী বসু, বিমল রায়, নির্মল দে, তপন সিংহ, অজয় কর, রাজেন তরফদার, অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়, তরুণ মজুমদার, পার্থপ্রতিম চৌধুরী ও অন্যদের কথা আমরা ভুলে যেতে পারি না। তখন ঘরের সিনেমা সামলেছেন তপন সিংহ, অজয় কর, অগ্রদূতের দল। আর দেশের বাইরে বাংলা সিনেমার নাম পৌঁছে দিয়েছেন সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক। পরে গৌতম ঘোষ, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, উৎপলেন্দু চক্রবর্তী।

সত্তর দশক থেকেই বাংলার অর্থনীতিতে ধস নামছিল। সিনেমার অমলিন সৌধটিও ভাঙছিল হুড়মুড় করে। ১৯৮০-তে উত্তমকুমারের মৃত্যুর পর সেটা একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ল।

সে প্রসঙ্গে আসব পরে। ‘অপরাজিত’ ছবিটি কেমন লেগেছে সে কথাটি আগে সেরে নিই। ‘অপরাজিত’ একটি রসোত্তীর্ণ সিনেমা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দর্শককে স্তব্ধ করে আসনে বসিয়ে রাখে। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’ এবং ‘বরুণবাবুর বন্ধু’— এই পাঁচটি ছবিতেই অনীকবাবু তার দক্ষতার স্পষ্ট প‍রিচয় রেখেছিলেন। ‘অপরাজিত’ ছবিতে সেই দক্ষতা শীর্ষ ছুঁয়েছে বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। বলা যায় ‘অপরাজিত’ সাম্প্রতিক কালের একটি ব্যতিক্রমী,  শিল্পিত এবং সফল সিনেমা।

পরিচালক অনীক দত্ত

পশ্চিমবঙ্গের তো বটেই, দেশের সাত-আটটি রাজ্যে, এমনকি বিদেশেও ছবিটি রমরম করে চলছে। প্রতিদিন প্রতিটি হলে দর্শক উপচে পড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়। স্বয়ং সত্যজিৎ-পুত্র সন্দীপ রায়, শ্যাম বেনেগল, তরুণ মজুমদারদের মতো প্রথিতযশা পরিচালকরা ছবিটিকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। 

‘অপরাজিত’ ছবিটি কেন ভাল তা নানা দিক থেকে দেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। 

প্রথমত, অভিনব এবং বুদ্ধিদীপ্ত বিষয় নির্বাচন। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত আড়াই বছরে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণের প্রবল প্যাশন, চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তা, হতাশা বনাম মনের জোরের দোলাচলময় নাটকীয়তা, অবহেলা, উপেক্ষা, উপহাস বনাম সাহস ও অটল সিদ্ধান্তে অবিচলতা এবং সবশেষে সাফল্য ও সিদ্ধি এ ছবির বিষয়। কাহিনি বা বিষয়ের এই অভিনবত্বই ছবিটির প্রধান জোরের জায়গা। ২০২১ সাল সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ হিসেবে উদযাপিত হয়েছে। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের এমন চমৎকার  উপায় ভেবে বের করবার  জন্য অনীক দত্তকে ধন্যবাদ জানানো যায়।দ্বিতীয়ত, ছবিটির চিত্রনাট্য নিখুঁত ও টানটান। চিত্রনাট্যই এই সিনেমার মেরুদণ্ড।

তৃতীয়ত, অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচন। চিত্রনাট্য যদি সিনেমার মেরুদণ্ড হয় তবে তাতে রক্তমাংস যোগ করেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। অনীক দত্ত এই বিষয়েও ষোলো আনা মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। নায়ক অপরাজিত রায়ের চরিত্রে জীতু কামালের নির্বাচন মাস্টার স্ট্রোক বলা যায়। সায়নী ঘোষ, দেবাশিস রায়, অঞ্জনা বসু এবং অন্যান্য প্রায় সবক’টি চরিত্রের যথাযথ অভিনেতা বাছাইও প্রশংসনীয়। তাঁদের অভিনয়ও অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। ফলে পর্দায় কাহিনিটি আনখশির বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ফুটে ওঠে। এক্ষেত্রে রূপসজ্জা শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডু এবং পোশাক পরিকল্পনায় শুচিস্মিতা দাশগুপ্তের সৃজনশীল অবদানের কথা আলাদা করে স্বীকার করতেই হবে। এই উপমহাদেশের সিনেমা শিল্পে নেপথ্যের গুণী কলাকুশলীরা চিরকালই বড্ড বেশি অবহেলিত। সব আলো গিয়ে পড়ে নায়ক-নায়িকাদের মুখে। পরিচালক কিংবা ক্যামেরাম্যান পুরস্কৃত হলে কিঞ্চিৎ বেশি মনোযোগ পান। এছাড়া রূপসজ্জা বা পোশাক পরিকল্পকদের কথা ভুলেও উচ্চারিত হয় না। তাই সোমনাথ এবং শুচিস্মিতার কৃতিত্বের উল্লেখ না করাটা অন্যায় হবে।

চতুর্থত, অসামান্য ক্যামেরার কাজ। সুপ্রতিম ভোল নবীন সিনেমাটোগ্রাফার। তিনি কিংবদন্তিপ্রতিম  সুব্রত মিত্রের আলোছায়ার দর্শনটিকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পেরেছেন এবং ছবিতে সেই সৃজনশীলতা উজাড় করে প্রয়োগ করতে পেরেছেন।পঞ্চম বিষয় হল ছবির অব্যর্থ আবহসঙ্গীত। এ ছবির সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র ‘পথের পাঁচালী’-র  রবিশঙ্কর সৃষ্ট অমর সৃষ্টির ওপর দাগা বুলোনোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেননি। রবিশঙ্করের চিরকালীন সুরগুলো সম্পূর্ণ অনুকরণ না করে সেই ঘরানা ও মেজাজটিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে পেরেছেন। এই সিনেমার উপস্থাপনাকে তা সার্থক সহযোগিতা করতে পেরেছে।

ষষ্ঠ বিষয়টি হল সক্ষম পরিচালনা। মেলোড্রামা কিংবা যেকোনও বিভাগের বাড়াবাড়ি কিংবা ভুলত্রুটি ছবির মেজাজ ও উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দিতে পারে। পরিচালক হিসেবে অনীক দত্তের এই অভিযাত্রাটি ছিল অসম্ভব দুঃসাহসিক এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে ‘অপরাজিত’ সিনেমাটিকে নির্মাণ করে তুলেছেন। যদিও এখানে একটি প্রশ্ন রাখা গেল যা সাহিত্য ও সিনেমার সঙ্গে উভয়ত যুক্ত। ছবিটিতে ‘পথের পাঁচালী’-র নাম বদলে করা হয়েছে ‘পথের পদাবলী’ এবং তার লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বদলে করা হয়েছে বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়। যেহেতু বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমসময়েরই লেখক তাই এই নামের ব্যবহারে সতকর্তা আশা ছিল।    

তবে সার্বিকভাবে ছবিটি নানা দিক থেকে বুদ্ধির দীপ্তিতে উজ্জ্বল। দর্শক এবং বিদ্বজ্জনদের উচ্ছ্বাস তাই স্বাভাবিক।এখন প্রশ্ন, ‘অপরাজিত’ তো জিতল। সার্বিকভাবে বাংলা সিনেমার কী হবে? টালিগঞ্জের মরা গাঙে কি বান ডাকবে এবার? না কি বাংলা সিনেমায় নবতরঙ্গ শুরু হয়ে গেল আবার? মনে হয়, না। ‘অপরাজিত’ সিনেমার এই সাফল্য এবং তা নিয়ে মাতামাতিকে সময়ের পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। 

১৯৭৪ সালে শক্তি সামন্তর হাত ধরে বাংলা সিনেমায় ‘অমানুষ’ এসেছিল। পরে সুখেন দাস, অঞ্জন চৌধুরী, স্বপন সাহা ও অন্যান্য কয়েকজন পরিচালক বাংলা সিনেমার দর্শকদের বিনোদনের জন্য সিনেমা তৈরি করেছেন। নব্বইয়ের দশকে ঋতুপর্ণ ঘোষ, অঞ্জন দাস ও সামান্য কয়েকজন অন্য ধারার সিনেমা তৈরি করতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার পর দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার রিমেক বানানোর ঢেউ এসে পড়ে। দর্শকদের রুচিরও বদল ঘটে গেছে ততদিনে। তাঁরা এইসব সিনেমার জন্য হল ভরিয়েছেন। গত দু’দশকে বাংলায় একধরনের ছবি তৈরি হয়ে চলেছে যাকে ‘ফিল গুড’ বলা যেতে পারে। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, অনীক দত্তরা এর মধ্যেও ব্যতিক্রমী বিষয় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন আপ্রাণ। আরও পরবর্তী কয়েকজন তরুণ পরিচালক রয়েছেন যাঁরা অন্যরকম সিনেমা তৈরির কথা ভাবছেন, চেষ্টা করছেন। তবে তাঁদের ছবি যে তেমন জায়গা পাচ্ছে না তার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে।  

‘অপরাজিত’ ছবিটিকে সামনে রেখে কয়েকটি প্রশ্ন তাই হয়তো উঠে আসতে পারে। এই সময়ে কি সিনেমার জন্য উপযুক্ত বুদ্ধিদীপ্ত কাহিনির আকাল পড়েছে? সাহিত্য ও সিনেমা যে দুটি আলাদা মাধ্যম সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে একসময়ে বাংলা সাহিত্যের কাহিনি অবলম্বনে চমৎকার সব ছবি তৈরি হয়েছে। স্বয়ং সত্যজিৎ রায়ের ছবিই তার দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়েছে। রয়েছেন আমাদের আরও প্রতিথযশা পরিচালকরা। তবু এই সময়ে সামান্য কয়েকটি উদাহরণ বাদে এ নিয়ে বিশেষ কথা বলা যাবে না। বরং এখন লার্জার দ্যান লাইফ চরিত্রকে সামনে রেখে বায়োপিক জাতীয় ছবি তৈরির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাঁদেরই নায়ক হিসেবে উপস্থিত করার চেষ্টা চলছে। অতীত গৌরব কাহিনির পুননির্মাণের প্রয়াসও বহমান। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে নিয়ে ছবি হচ্ছে। সত্যজিৎ রায়ের জীবনের নাটকীয়তার কাছে আমাদের হাত পাততে হচ্ছে কাহিনির জন্য।

‘অপরাজিত’ ছবিটির ঐতিহাসিক সাফল্য আমাদের আনন্দিত করছে ঠিকই। পাশাপাশি মনে প্রশ্নও তুলছে।  

  

 

ছবি : ইন্টারনেট

 

  

     

1 Comment
  1. Bhaskar Das says

    অপরাজিত ছবিটি দেখে কটি প্রশ্ন এড়াতে পারছি না।
    ১) সায়নী ঘোষ। তীব্র শহুরে উচ্চারণ, যারা বাংলা বলে ইংরেজি আর হিন্দির মোড়কে, যারা একটি বাংলা বাক্যের পর নিখুঁত ইংরেজিতে দুটি ‘সেন্টেন্স’ বললে তবে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে, সে পঞ্চাশের দশকের একটি চরিত্রের প্রতি সুবিচার করবে, এটা হয় না, হয়ও নি। চিত্রনাট্যও তাকে কথায় কথায় থ্যাঙ্ক ইউ বেস্ট অফ লাক বলার সুযোগ দিয়েছে।
    ২) পরান বন্দোপাধ্যায়। বিধান রায়ের মত ওজনদার মানুষকে প্রায় কমিক চরিত্রে পর্যবসিত করেছেন।। যদি এটা সত্যি হয়েও থাকে যে তিনি বিভূতিভূষণের মৃত্যুর খবর তিনি জানতেন না, সেইটা নিয়ে অত দীর্ঘ চর্চা তাঁকে খাটো করেছে, যা কখনোই কাম্য নয়। এটা চিত্রনাট্যর বড় ত্রুটি।
    ৩) কানু বন্দোপাধ্যায় এর পর এই হরিহর অতি দুর্বল চরিত্রায়ন। দুগ্গামা – সেই আকাশফাটানো কান্নার ব্যাথার যে চলচিত্র তিনি নির্মাণ করেছিলেন ঝুলি থেকে নানা জিনিস বের করে সাজিয়ে দেবার দৃশ্যতে, তাঁর সংলাপ প্রক্ষেপনের ভঙ্গিতে, তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বলতে কি, অপরাজিতর পরিচালক অত্যন্ত দায়সারা কাজ করেছেন এই দৃশ্য নিয়ে।

মতামত জানান

Your email address will not be published.