বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

খাজা কাঁঠাল

তাঁকে অন্ধকারে রেখে সানু এসব করেছে শুনেও রাগ করতে পারলেন না অঘোরবাবু। বরং যে শিকড় একদা তিনি উপড়ে ফেলেছিলেন সেই শিকড় আবার ছেলের হাতে প্রোথিত হচ্ছে দেখে খুশিই হলেন। মনে মনে একটু আবেগপ্রবণও হয়ে উঠলেন।

 

 

সুদীপ জোয়ারদার

 

“মা, বাবা কী করছে?”

“কী আবার করবে? নিজের ঘরে বসে আছে গুম হয়ে।”

সানু বাজারের জামাপ্যান্ট ছেড়েই বাবার ঘরে ঢোকে। ওরে বাবা, একটা সামান্য  ব্যাপার  নিয়ে  মানুষটা এত মুষড়ে গেছে! সানু বাবাকে দেখে সত্যিই অবাক।

“তুমি এই নিয়ে এত চাপ নিচ্ছ কেন? অভিযোগ তো করা যায়। অভিযোগের অপশন আছে। ওরা ফেরত নিয়ে নেবে এটা। আমি সব করে দেব। চিন্তা কোরো না।” বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়ার  চেষ্টা করে সানু।

সানুর সান্ত্বনার খুব দরকার যে ছিল তা নয়। কারণ অঘোরবাবু মুষড়ে  যাননি মোটেই। তবে এখনও ঘোরে আছেন। অভিযোগ, রিটার্ন নিয়ে তিনি ভাবছেন না। ঘড়ি যদি নাও পান, এমন কিছু যাবে আসবে না। শ’পাঁচেক টাকা লোকসান যাবে, এই যা। আসলে ঘড়ির পরিবর্তে ঘড়ির বাক্সে যা এসেছে তাতে তিনি তাজ্জব। রাগবেন না হাসবেন সেটাই ঠিক করতে পারছিলেন না প্রথমে। এমন   ঘটনার কথা কোথাও শুনেছেন বলেও তো মনে পড়ছে না। অর্ডার দেওয়া জিনিসের পরিবর্তে অন্য প্রোডাক্ট আসা হয়তো ঘটে, কিন্তু তা বলে দু’খানা কাঁঠালের বিচি!

“পাঠাল পাঠাল, আর ক’খানা বেশি করে পাঠাতে পারল না!” মনোরমা তো হেসেই অস্থির। মনোরমার হাসি দেখে মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল অঘোরের।

সানুর বউ চন্দ্রাণী সরাসরি হাসতে না পারলেও রসিকতায় সেও কম যায় না। “বাবা, ওগুলো কাঁঠালের বিচিই তো! বিশেষ ধরনের কৌটো নয় তো! ভাল করে দেখেছেন তো বাবা?”

“কাঁঠালের বিচির তরকারি খেয়ে একসময় পেটে চড়া পড়ে গিয়েছিল। কাঁঠালের বিচি চিনতে আমার ভুল হবে?” অঘোরবাবুর গলা একটু রূঢ়ই হয়ে এসেছিল। পরে ভাবলেন মনোরমা, চন্দ্রাণী এরা আর কতটুকু রসিকতা করেছে। ঘড়ির পরিবর্তে ভুল করেই হোক আর ইচ্ছে করেই হোক, যে দু’খানা কাঁঠালের বিচি পাঠিয়েছে তার রসিকতার কাছে তো ওদেরটা কিছুই নয়!

এমনিতে সুখের জীবন অঘোরবাবুর। রিটায়ার করেছেন বছর দুই হল। সুগার, প্রেসার কিচ্ছু নেই। ফিট চেহারা। ছেলে একটা ল্যাপটপ কিনে  দিয়েছে। ওখানে ওয়েব সিরিজ দেখেন, সিনেমা দেখেন এন্তার। আর ওই ল্যাপটপেই মাঝে মাঝে টুকিটাকি জিনিস কেনেন অনলাইনে।

ঘড়ি অঘোরবাবুর আছে। কিন্তু দামি ঘড়ি। আজকাল ঘড়ি সব জায়গায় পরেও যান না। আর পরে যাওয়ার কথা কখনও মনে এলেও পিছিয়ে যান ঘড়িটা দামি বলে। এজন্য সবসময়ের একটা ঘড়ি থাকা দরকার ভেবেই অর্ডারটা দিয়েছিলেন। কিন্তু এ কী ঝামেলা!

এখন সুখের জীবন হলেও শহরের মধ্যে এই পেল্লাই বাড়িটা অঘোর কিন্তু বানিয়েছেন অনেক মেহনত করে। আসলে এখনকার মতো তো তখনকার দিনগুলো ছিল না। মাইনে কম, নতুন পরিবার, পারিবারিক দায়দায়িত্ব। বাড়িটা তৈরির জন্য গ্রামের বাড়ির নিজের অংশও তখন বিক্রি করে দিতে হয়েছে। ভাইরা বাড়ির একমাত্র চাকরি করা সদস্যের এই আচরণে খুশি হয়নি। ওরা ভেবেছিল, দাদা আর যাইহোক, বাড়ির, জমির ভাগ নেবে না।

কিন্তু অঘোরবাবুর মাথায় তখন নিজের বাড়ির নেশা। তার ওপর ভাইবোনদের জন্য খুব যে টান ছিল তাও তো নয়। টান তাদের তরফ থেকেও তেমন ছিল না। দাদা মানে কেবল দায়িত্ব পালন, এটাই তারা  ধরে নিয়েছিল। নিজেদেরও যে কিছু দেওয়ার আছে তা ওরা ভাবেইনি কোনওদিন।

দেশের বাড়িতে তিনি যে ফিরবেন না, চাকরি পাওয়ার পরেই তার আভাস দিতে শুরু করেছিলেন। তার পর বিয়ের পর সেটা স্পষ্টই করে দেন।

“মনোরমা শহরের মেয়ে, এই অজ পাড়াগাঁয়ে থাকতে পারবে না।” বিয়ের কিছুদিন পরেই মাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন অঘোর। তার পর একদিন শহরে ঘর ভাড়া নিয়ে পাকাপাকি চলে এসেছিলেন।

ছোট থেকেই লেখাপড়ায় ভাল। বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় সফলভাবে পেরোনোর পর চাকরি পেতে দেরি হয়নি অঘোর মিত্রর। টান না থাকলেও বাড়ির বড়ছেলে হিসেবে কিছু দায়িত্ব এসেই যায়। অঘোর সে দায়িত্ব বেশ কিছুদিন সামলেছেনও। এমনকি আলাদা সংসার হবার পরেও সৎ ভাইবোনদের টেনেছেন অনেক দিন। কিন্তু টানহীন হৃদয় আর আর্থিক টানাটানি নিয়ে চিরকাল সে দায়িত্ব বহন করে কি যাওয়া যায়!

বিক্রি করে দেবেন, এইজন্য ইচ্ছে করেই বাড়ির একেবারে কোনার দিকটা ভাগাভাগিতে নিয়েছিলেন অঘোর। এটা অন্য দিকের চেয়ে অপেক্ষাকৃত খারাপ পজিশন। ভাইদের এ নিয়ে তাই কিছু বলার ছিল না। কেবল ওইদিকে বেশ কয়েকটা গাছ ছিল, যেগুলো কাটার সময় বাড়িতে মৃদু অশান্তি টের পেয়েছিলেন। বিশেষ করে বাবার প্রিয় খাজা কাঁঠাল গাছটা কাটার সময় ছো্ট বোন বুঁচকি ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলেছিল, “আমরা না হয় সৎ, পর। কিন্তু বাবাটা তো আপন ছিল। গাছটা তো মধ্যিখানেও  নেই, একপাশে। রেখে দিলে কী ক্ষতি হত!”

সানুর কথায় চটকা ভাঙে অঘোরবাবুর। “এই নাও, সব ব্যবস্থা করে দিলাম। এবার কাঁঠালের বিচিদুটো আবার  বাক্সে ভরে রেখে দাও। ওরা দু-তিনের মধ্যেই নিয়ে যাবে।”

ছেলেটা ছোট থেকেই বাবা-অন্ত প্রাণ। বিয়ের পরেও পাল্টায়নি। এখনও বাড়িতে থাকলে লেপ্টে থাকে বাবার সঙ্গে। বউমাও ভাল। ফলে ছেলের পক্ষে এটা রক্ষা করা সহজ হয়েছে।

মনোরমা সকালের জলখাবার রেখে গেলেন টেবিলে। ওখানে কালো কালো কী ওগুলো? ভালভাবে তাকিয়ে বোঝেন, জাম।

“জাম কোত্থেকে?” অঘোরবাবু তাকান গিন্নির দিকে।

“সানু এনেছে। তুমি ভালবাসো, তাই।”

তিনটে রুটি গরম তরকারি দিয়ে চেটেপুটে খাওয়ার পর টপাটপ জামগুলো মুখে পুরতে থাকেন অঘোরবাবু। বেশ জাম।

শেষ জামটা মুখে ফেলেছেন, এমন সময় সানু মোবাইলটা হাতে নিয়ে একটু উত্তেজিত হয়েই ঘরে ঢোকে। “বাবা, এরমধ্যেই ওরা মেলের উত্তর দিয়েছে। একজন খাজা কাঁঠাল লাগাবে বলে বীজের অর্ডার করেছিল। তার অর্ডারের সঙ্গে তোমার অর্ডার বদলাবদলি হয়ে গিয়েছে।”

খাজা কাঁঠাল! অঘোরবাবুর কাছে শেষ জামটা একটু তেতোই মনে হয়। বাবার কথা আর মনে পড়ে না। মনে করারও কি চেষ্টা করেন? অঘোরের যখন আট বছর বয়স তখন মা মারা যান। বাবা তখন পঁয়তাল্লিশ-ছেচল্লিশ। চাকরি করতেন বিডিও অফিসে। অফিস বাড়ি থেকে বাসে এক ঘণ্টার ওপর। বাড়ির কাছে ট্রান্সফারের চেষ্টা করলেন অনেক। কিন্তু যে ইউনিয়ন করতেন তা সরকারের বিরোধী পক্ষের। ছেলে মানুষ করার কারণ দেখিয়েও হল না ট্রান্সফার। অগত্যা অনেক ভেবেচিন্তে দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন।

আট বছর বয়সে এসব জানা বা বোঝার কথা নয় অঘোরের। তিনি এসব জেনেছেন অনেকটা বড় হয়ে। ওই বয়সে শুধু একদিন মায়ের জায়গায় অন্য আর একজনকে দেখতে হয়েছিল। খুব কষ্ট হয়েছিল সেদিন। বাবার ওপর অভিমানও।

নতুন মা এসে অঘোরকে সেভাবে দেখভালও করলেন না, আবার আচরণ যে একেবারে সৎমার মতো তাও নয়। ফলে নতুন মায়ের প্রতি সেভাবে টান তৈরি হল না। এর পর দু’ভাই, এক বোন পরপর সংসারে আসতে নতুন মা স্বভাবতই তাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আগের পক্ষের ছেলের কোনও অসুবিধে হচ্ছে না, কেবল এটুকু দেখেই  নিশ্চিন্ত রইলেন বাবা।

অনেকটা জায়গা নিয়ে ছিল হরিশ্চন্দ্রপুরের বাড়িটা। প্রচুর গাছপালা। কাঁঠাল গাছ ছিল সাতটা। অনেক কাঁঠাল হত তখন। এত কে খাবে? খাজা কাঁঠাল গাছের কাঁঠালগুলো রেখে বেশিরভাগই বিক্রি করে দেওয়া হত। খাজা কাঁঠাল গাছের কাঁঠাল খুব বড় হত না। বাবা একাই একটা খেয়ে নিতেন। দৃশ্যটা এখনও চোখে ভাসে। বাবা একটা খাজা কাঁঠাল নিয়ে বসেছেন বারান্দায়। দু-তিনটে কুকুর নীচে থেকে কাঁঠালটার দিকে তাকিয়ে আছে লোলুপ দৃষ্টিতে। বাবা একটা করে কাঁঠালের কোয়া মুখে ভরছেন আর তাদের বলছেন, “কোয়ার আশা করিস না। ভূতিটা পাবি, অপেক্ষা কর। অপেক্ষা কর।”

কাঁঠাল কোনওদিনই ভাল লাগত না অঘোরের। একটু বড় হয়ে বাবার গোটা কাঁঠাল খাওয়া সে অবাক হয়ে দেখত। একটু কি শঙ্কিতও হত? কাঁঠাল যে হজম করা শক্ত, বাবাও টের পেতেন। ওভাবে কাঁঠাল খাওয়ার পরেই বাবার পেটের গোলমাল শুরু হত। এমনিতেই হাই প্রেসারের রোগী। হয়তো প্রেসারও বেড়ে যেত কাঁঠাল খেয়ে।

ষাট পেরোতেই এক জ্যৈষ্ঠ মাসে বাবা কাঁঠাল খেয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন।  লিভারের রোগ হয়তো আগে থেকেই ছিল। সে রোগ বেড়ে গেল। তখন অঘোর সদ্য চাকরি পেয়েছেন। বাবাকে নিয়ে ছোটাছুটিও করলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। লিভার ক্যানসার ধরা পড়েছিল। তিন মাসের মাথায় বাবা মারা গেলেন।

“বাবা, কী ভাবছ? প্রবলেম সলভড হল, তবু চুপচাপ!”

“না, কিছু না।”

“কিছু তো বটেই।”

অঘোরবাবু সানুর দিকে তাকান পূর্ণ দৃষ্টিতে। “সানু, বলছিলাম, পাঁচশো টাকার তো ব্যাপার। ঘড়ি একটা না হয় আমি কিনেই নেব। কাঁঠালের বিচিদুটো থাক বরং।”

“কিন্তু ওই দুটো বিচি দিয়ে আমরা কী করব? শেষপর্যন্ত ফেলেই তো দিতে হবে।”

“কেন, যদি আমরা কোথাও লাগিয়ে দিই! জানিস, তোর দাদু খুব ভালবাসত খাজা কাঁঠাল।”

“কিন্তু লাগাবে কোথায়? হরিশ্চন্দ্রপুরে?” সানু শুধোয়। “আমাদের এই বাড়ির সামনে তো কোনও জায়গা নেই ওই গাছ লাগানোর মতো।”

হরিশ্চন্দ্রপুর শুনে অঘোরবাবু মিইয়ে যান। নিজের অংশ বিক্রির পরেই ওখানকার সঙ্গে সব কিছু চুকেবুকে গেছে। ওখানে লাগানোর প্রশ্নই ওঠে না।

“বাইপাসের ধারে কোনও খালি জায়গায় লাগানো যায় না?” মিয়ানো গলায় ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন অঘোরবাবু।

“ঠিক আছে, দেখছি!”

পরদিন সানুর ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙে অঘোরবাবুর। “বাবা, সকাল সকাল বেরোনোই ভাল। মা আর চন্দ্রাণীর স্নান হয়ে গেছে।”

“ওরাও যাবে না কি?” অঘোরবাবু রীতিমতো অবাক।

“আমরা সবাই যাব। এমন একটা ভাল কাজ!”

অঘোরবাবু তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিয়ে ছেলের গাড়িতে উঠে বসেন। “কোদাল নিয়েছিস তো?” জানতে চান সানুর কাছে।

“ওসব ম্যানেজ হয়ে যাবে।” বলে গাড়িতে স্টার্ট দেয় সানু।

“ম্যানেজ! তোকে কে দেবে কোদাল ওখানে?” অঘোরবাবু না জিজ্ঞেস করে পারেন না।

সানু গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখেই পিছন ঘোরে। “দেওয়ার লোক আছে বাবা। নো চিন্তা।”

বাইপাসের রাস্তা ফুরিয়ে যেতে অঘোরবাবু চোখ সরু করেন। “বাইপাস তো শেষ! লাগাবি কোথায়?”

“হরিশ্চন্দ্রপুরে। আমদের নিজের জমিতে।”

“মানে! ওখানে আমাদের জমি কোথায়?”

মনোরমা হেসে বলেন, “আছে। যে জমি তুমি একদিন বিক্রি করে দিয়েছিলে, সানু সেই জমি কিনে নিয়েছে মাসখানেক আগে।”

“আমাকে বলিসনি তো।” অঘোরবাবুর ক্ষুণ্ণ স্বর।

সানু বলে, “বলতাম। বলার জন্য এরকমই একটা কিছু উপলক্ষ  খুঁজছিলাম।”

“কিন্তু হরিশ্চন্দ্রপুরে তোকে কোদাল দেবে কি তোর কাকারা? আমার ওপর যে ওদের খুব রাগ।”

চা খাওয়ার জন্য গাড়ি দাঁড় করিয়েছে সানু। বাবার কাছে এসে বলে, “কাকারা না দিলে আশেপাশে কি লোক নেই? তবে চিন্তা কোরো না, কাকারাই দেবে। কাকাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভাল। ছোটকাকার ছেলেকে আমি আমার অফিসে ঢুকিয়েছি।”

তাঁকে অন্ধকারে রেখে সানু এসব করেছে শুনেও রাগ করতে পারলেন না অঘোরবাবু। বরং যে শিকড় একদা তিনি উপড়ে ফেলেছিলেন সেই শিকড় আবার ছেলের হাতে প্রোথিত হচ্ছে দেখে খুশিই হলেন। মনে মনে একটু আবেগপ্রবণও হয়ে উঠলেন।

সানুর মতো এতটা কি তিনি নিজের বাবাকে ভালবাসতেন? না কি অভিমানের কুচুরিপানায় চাপা পড়ে গিয়েছিল সব? যেজন্য সানুর মতো বাবাকে আঁকড়ে ধরা বড় হয়ে ওঠা অঘোরের হয়েই ওঠেনি কোনওদিন। যদি সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে খাজা কাঁঠালের গাছটা বড় হয়ে একদিন ফল দেয়, ওপর থেকে বাবা কি বুঝবেন, কচুরিপানার তলায় জল কতটা গভীর ছিল, কতটা স্বচ্ছ!

অঙ্কনঃ রাজ রায় 

Comments are closed.