বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

সেকেলে গপ্পো

পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চের এই ধারণা নিভু নিভু করে এখনও টিকে আছে দুই মেদিনীপুর-সহ বীরভূম জেলায়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মৃৎশিল্পী তথা কারিগরের ব্যক্তিগত সৃজনশীলতার প্রকাশ ছিল এইসব তুলসীমঞ্চ। পাশাপাশি গ্রামীণ শিল্পকলা, লোকভাবনা, প্রত্নতত্ব ও নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তুলসীমঞ্চ।

গৌতমকুমার দে

পর্ব ১৬ 

তুলসীমঞ্চ

 

 

পবিত্রতার প্রতীক তুলসীমঞ্চ। সুশ্রুত সংহিতা, চরক সংহিতা থেকে একালের আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য প্রণীত চিরঞ্জীব বনৌষধি প্রভৃতি গ্রন্থে তুলসীর ভেষজ গুণাবলী সম্পর্কে সবিস্তারে বলা হয়েছে। হিন্দু জনসমাজে, বিশেষত পূর্বতন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় তুলসী গাছের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও অত্যন্ত প্রাচীন। গৃহস্থবাড়িতে এই গাছের জন্য গড়ে তোলা মঞ্চ, যেখানে রোপণ করা হয়ে থাকে তুলসী গাছের চারা, সেটাই তুলসীমঞ্চ।

বাংলা অভিধানে তুলসীমঞ্চ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে : ‘‘গৃহে নিত্য পূজিত তুলসীবৃক্ষ যে মৃন্ময় উচ্চ বেদীর যা মৃৎগর্ভ স্তম্ভের উপর রোপিত হয়।’’

ক্রিয়াভিত্তিক শব্দার্থ অনুসারে, তু (তুল্) ক্রিয়ামূলের বংশেজনিত শব্দ তুলসী, তুলসীকাঠি, তুলসীমঞ্চ।

তুলসীমঞ্চ প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে একটু দেখে নেওয়া যাক তুলসীর উৎস সম্পর্কে। ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণে আছে : ‘‘নরা নার্যশ্চ তাং দৃষ্ট্বা তুলনাং দাতুমক্ষমাঃ। তেন নাম্না চ তুলসীং তাং বদন্তি পুরাবিদঃ।”

কৃষ্ণপ্রিয়া রাধিকার সখীবিশেষ। একদিন স্বর্গে কৃষ্ণের সঙ্গে তুলসীকে ক্রীড়ারত অবস্থায় দেখে রাধিকা তাঁর সহচরীকে অভিশাপ দেন, তুলসী মানবযোনি এবং সুদাম দানবযোনি প্রাপ্ত হবে। রাধিকার শাপে মর্ত্যে রাজা ধর্মধ্বজের স্ত্রী মাধবীর গর্ভে জন্ম নেন তুলসী। ইনি ব্রহ্মার তপস্যা করেন নারায়ণকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার জন্য। তখন ব্রহ্মা বলেছিলেন, আপাতত তুমি কৃষ্ণের অঙ্গসম্ভূত সুদামের স্ত্রী হও, পরে কৃষ্ণকে পাবে। প্রসঙ্গত, রাধিকা যখন তুলসীকে অভিশাপ দিয়েছিলেন তখন তুলসীকে কৃষ্ণ বলেছিলেন, মানবী হিসেবে জন্মালেও তপস্যার জোরে তুমি আমার একাংশ পাবে।

দানবগৃহে জন্মানো সুদাম অভিহিত হন শঙ্খচূড় নামে। এই দৈত্যের সঙ্গে বিয়ে হয় তুলসীর। শঙ্খচূড়কে ব্রহ্মা বর দিয়েছিলেন, তার স্ত্রীর সতীত্ব নষ্ট হলেই তার মৃত্যু হবে। এদিকে দৈত্য শঙ্খচূড়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দেবতারা শিব ও নারায়ণের দ্বারস্থ হন। নারায়ণ বলেন, যখন আমার শূল নিয়ে শিব শঙ্খচূড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করবেন তখন তিনি তার স্ত্রীর (অর্থাৎ তুলসী) সতীত্ব নষ্ট করবেন। যথাসময়ে নারায়ণ শঙ্খচূড়ের রূপ ধারণ করে তুলসীর সতীত্ব নাশ করেন। শঙ্খচূড় নিহত হন শিবের সঙ্গে যুদ্ধে। এসব জানতে পেরে তুলসী নারায়ণকে অভিশাপ দেন, তুমি পাষাণ হবে এবং জন্মান্তরে তোমার আত্মবিস্মৃতি হবে। নারায়ণ তুলসীকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন যে, তুমি লক্ষ্মীর ন্যায় আমার প্রিয়া হবে। তোমার দেহ থেকে গণ্ডকী নদী উৎপন্ন হবে এবং কেশরাশি থেকে হবে পুণ্যবৃক্ষ তুলসী (ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ, প্রকৃতিখণ্ড)।

পদ্মপুরাণ অনুসারে অসুর জলন্ধরের বিয়ে হয় দৈত্য কালনেমির মেয়ে বৃন্দার সঙ্গে। যুদ্ধে ইন্দ্রকে হারিয়ে অমরাবতী দখল করে জলন্ধর। উপায়ন্তর না দেখে শিবের শরণাপন্ন হন ইন্দ্র। তখন শিব জলন্ধরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। বৃন্দা স্বামীর প্রাণরক্ষার্থে বিষ্ণুপূজা আরম্ভ করলেন। বিষ্ণু জানতেন যে যতক্ষণ বৃন্দার সতীত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে ততক্ষণ জলন্ধরের মৃত্যু হবে না। তাই বিষ্ণু জলন্ধরের রূপ ধারণ করে বৃন্দার কাছে আসেন। স্বয়ং স্বামীকে অক্ষত শরীরে সামনে দেখতে পেয়ে বিষ্ণুপূজা থামিয়ে দেন বৃন্দা। এই সুযোগে জলন্ধরের ছদ্মবেশে থাকা বিষ্ণু বৃন্দার সতীত্ব হরণ করেন। এতে সেই মুহূর্তে মৃত্যু হয় জলন্ধরের। আসল ব্যাপার বুঝতে পেরে বিষ্ণুকে অভিশাপ দিতে যাবেন বৃন্দা, এমতাবস্থায় শাপ-ভয়ে ভীত বিষ্ণু বৃন্দাকে অভিশাপ দেওয়া থেকে বিরত করে বলেন যে, বৃন্দা যেন সহমৃতা হয়। তাতে তার ভস্ম থেকে যে চাররকম গাছ উৎপন্ন হবে তার অন্যতম হবে তুলসী। প্রসঙ্গত, অপর তিনরকম গাছ হল : অশ্বত্থ, পলাশ ও ধাত্রী। এভাবে বৃন্দা থেকে জন্ম হয় তুলসীর।

বিষ্ণুপুরাণ অনুসারেও এই বৃন্দা থেকে জন্ম হয় তুলসীর।

ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণের ব্রহ্মখণ্ড–এ রয়েছে—

‘‘মনসা তুলসী কালী গঙ্গা পৃথ্বী বসুন্ধরা।

আসাং যত্র শুভাখ্যানমন্যাসাঞ্চাপি যত্র বৈ।।’’

স্থানকালপাত্র ভেদে তুলসীমঞ্চের আকার, উচ্চতা, গঠনসৌকর্য ও শিল্পকর্মে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। তবে মূল অবয়বটি প্রায় অভিন্ন বললেই চলে। তুলসীমঞ্চ গোলাকার, আংশিক গোলাকার, চারকোনা, ছ’কোনা, আটকোনা, দশকোনা হয়ে থাকে। অবিভক্ত মেদিনীপুরে নানান পৌরাণিক দেবদেবীর মূর্তি খোদিত চার মুখ, ছ’মুখ, আট মুখওয়ালা তুলসীমঞ্চও দেখা যায়। তবে এ ধরনের মঞ্চের চল ক্রমশ বিরল হয়ে উঠছে। বর্তমানে দুই মেদিনীপুর জেলার বাইরে এরকম তুলসীমঞ্চ খুব একটা দেখাও যায় না।

অবশ্য সিমেন্টে গাঁথা এবং সুদৃশ্য টালি বসানো রেডিমেড ছোট, মাঝারি আকারের তুলসীমঞ্চ পাওয়া যায় বাজারে। এর টালির গায়ে নানান দেবদেবীর ছবি থাকে। সাধারণত ছবিগুলি রঙিন হয়ে থাকে। আগেকার মতো চার-পাঁচ ফুট উঁচু তুলসীমঞ্চ (দু–এক জায়গায় তার সামনে ধাপ কাটা থাকত। ওপরে উঠে গাছের গোড়ায় জল ঢালার জন্য) এখন আর তৈরি হয় না বললেই চলে। তবে মেদিনীপুর জেলার (পূর্ব) পানিপারুলে এবং অন্যত্র খুঁজলে আজও এ জাতীয় মঞ্চের দেখা মিলবে।

অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার তুলসীমঞ্চের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এদের গায়ে দোলমঞ্চ ও রাসমঞ্চের মতো পোড়ামাটির ভাস্কর্যের অলংকরণও দেখা যায়। পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চের এই ধারণা নিভু নিভু করে এখনও টিকে আছে দুই মেদিনীপুর-সহ বীরভূম জেলায়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মৃৎশিল্পী তথা কারিগরের ব্যক্তিগত সৃজনশীলতার প্রকাশ ছিল এইসব তুলসীমঞ্চ। পাশাপাশি গ্রামীণ শিল্পকলা, লোকভাবনা, প্রত্নতত্ব ও নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তুলসীমঞ্চ। হিন্দু জনগোষ্ঠীর ধর্মাচরণের সঙ্গে গ্রামীণ সমাজ–সংস্কৃতির একাত্মতার সম্পর্ক অন্বেষণেও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উপকরণ এটি।

গ্রামবাংলায় মাটি-খড়-বাঁশ দিয়ে তৈরি দোচালা/চারচালা/আটচালা ঘরের সঙ্গে পূর্বোক্ত তুলসীমঞ্চের উপস্থিতি ছিল পরিপূরকের মতো। তুলসীমঞ্চের এই উপস্থিতি আবহমান বঙ্গ সংস্কৃতির ছায়াপথে উল্লেখযোগ্য। বাঁকুড়া, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও লোকশিল্প ও প্রত্ন্ ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে কোনও ধারা তৈরি করতে পারেনি। মূলত ব্যক্তিগত ভাললাগা ও ইচ্ছাপূরণের সূত্রেই গড়ে উঠেছে এগুলি।

পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চ তৈরির মূল উপাদান উপযুক্ত মাটি ও রং। সাধারণত বৈশাখ মাসে জমি থেকে একবারে অনেকটা মাটি তুলে রাখেন মৃৎশিল্পী। খাল–বিল ও নদীর পাড় থেকে মাটি আনা হয়ে থাকে। পরে প্রয়োজনমাফিক সে মাটি আনা হয় কর্মশালায়। সেখানে বালি বিছিয়ে কাদা–মাটি চেঁছে রাখা হয়। তারপর ৫:১ অনুপাতে মেশানো হয়ে থাকে আগে থেকে তুলে রাখা মাটি এবং বালি। এই মিশ্রণ পা দিয়ে ভাল করে মাড়ানো হয়। মাটি থেকে পাথর–নুড়ি ইত্যাদি বাদ দেওয়ার জন্য অনেকে লোহার শিক দিয়ে মাটি চাঁচাই করে নেন। এরপর লম্বাটে তক্তার ওপর মাটি পাকিয়ে পাকিয়ে দেড়–দু’হাত লম্বা ‘শিড়া’ বা কুণ্ডলী তৈরি করা হয়। এই শিড়াগুলি কাঠের তক্তা বা জলচৌকিতে নির্দিষ্ট চার-ছ’কোনা ছক আকারে পরপর তোলা হয়। এভাবে রাখা থাকে দু-তিন দিন। এগুলি পিটিয়ে পিটিয়ে খানিকটা লম্বা করা হয়। এই কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে হাতল-সহ কাঠের খুন্তির মতো ‘পিটনা’ এবং গোলাকৃতি বড়/মাঝারি/ছোট আকারের পাথর যাকে বলে ‘পুতা’। শিড়াগুলির ওপর পূর্বে প্রস্তুত করা মাটি লাগানো হয় নানা মূর্তি তৈরির জন্য। মঞ্চ কত ফুট হবে তার ওপর নির্ভর করে শিড়ার সংখ্যা। এক ফুট লম্বা মঞ্চের জন্য ষোলো-সতেরোটি শিড়া লাগে। যে কাঠামোটি বানানো হল তার ওপরের খোলা অংশে গোলাকার বা গম্বুজাকার অংশটুকু একটা আলাদা চাকে তৈরি করে সেদিনই লাগানো হয়। নকশার কাজ করা হয় পরের দিন। এই তুলসীমঞ্চ চার-ছয় মাস ফেলে রাখা হয়। পৌষ মাসের সময়ে ভাটিতে পুড়িয়ে নেওয়া হয়। দিন কয়েক রোদ খাইয়ে রঙের নকশার কাজ করা হয়।

এই পদ্ধতিতে তুলসীমঞ্চ তৈরি করা হয় পাঁশকুড়া থানার অন্তর্গত কংসাবতী নদীতীরবর্তী গ্রাম কানাসি বৃন্দাবনচকে। ঐতিহ্যবাহী এই পদ্ধতিতে তৈরি তুলসীমঞ্চ অত্যন্ত মজবুত হয়।

অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর থানার অন্তর্গত বেলিয়া গ্রামে ‘শিড়া’ দিয়ে তুলসীমঞ্চ তৈরি করার পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। চারকোনা আকৃতিতে শিড়া দিয়ে কিছুটা উঁচু করার পর চার কোণে তিনটি করে ‘পিলপা’ (বিট) করা হয়। এগুলো লাগানো হয় লম্বভাবে। এর পর চারপাশে মূর্তি তৈরির কাজ করা হয়। অনুভূমিক পিলপার ওপর বালি (বিকল্পে ছাই) ছড়িয়ে তার ওপর ক্রমান্বয়ে শিড়া বসিয়ে চূড়ার আকার দেওয়া হয়। শেষে চাক–এর সাহায্যে ওপরের খোলা অংশটুকু নির্মাণ করে সেটাকে চূড়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো হয়।

পাঁশকুড়া থানার কিসমত জগন্নাথচক গ্রামের তুলসীমঞ্চ শিল্পী বিশ্বনাথ দাস। ইনি তুলসীমঞ্চ বানান মূলত চাকের সাহায্যে। শুরুতে হাঁড়ির মতো করে তৈরি হয় চাকে। তার পর চাক থেকে কেটে রাখা হয়। দু’দিন ফেলে রাখার পর ভেতর থেকে আঙুল দিয়ে চারকোনা খাঁজ তোলা হয়। মাটির বিট বসানো হয় বাইরের কোণ বরাবর। পরদিন মাটি লাগিয়ে কৃষ্ণ, নারায়ণ, পদ্মের ওপর শঙ্খ, রাধাকৃষ্ণ ইত্যাদি ফুটিয়ে তোলা হয়। সবশেষে বসানো হয় তুলসীমঞ্চের ওপরের খোলা অংশটি।

মেদিনীপুর জেলার (অবিভক্ত) মহিষাদল থানার অন্তর্গত পাহালানপুর গ্রামে ‘প্লেট’ পদ্ধতিতে তুলসীমঞ্চ বানান শিল্পী সুবলচন্দ্র পাল। শিল্পী মাটি তৈরি করে নেন আগে বলা পদ্ধতিতে। সেই মাটি দিয়ে একই মাপের চারকোনা চারটি এবং ত্রিকোণাকৃতি চারটি প্লেট তৈরি করা হয়।

চার কোণওয়ালা প্লেট চারটি লম্বভাবে স্থাপন করে কোণগুলো জোড়া লাগানো হয়। একে বলে ‘খোজা করা’। সেদিনই বাকি চারটি ত্রিকোণাকৃতি প্লেট জোড়া লাগানো হয়। এভাবে মঞ্চের আকৃতি তৈরির পর ওপরের গোলাকার অংশটুকু বসানো হয়। সেটি বানানো হয় চাকে। মাস দেড়েক বাদে পোড়ানো হয় ‘পন’ বা ভাটিতে।

তুলসীমঞ্চ তৈরির কাজে ব্যবহৃত রং মেদিনীপুর জেলার শিল্পীরা এককালে নিজেরাই তৈরি করে নিতেন। সংগ্রহ করা হত রং তৈরির উপযোগী মাটি। মাটির সঙ্গে বৃষ্টির জল মিশিয়ে মাটির পাত্রে রাখা হত। জলীয় অংশটুকু শুকিয়ে গেলে পাত্রের নীচে পড়ে থাকা অবিশিষ্টাংশ ব্যবহার করা হত রং করার কাজে।

কানাসী বৃন্দাবনচক, কিসমত জগন্নাথচক, বেলিয়া গ্রামের শিল্পীরা নিজেদের বাড়িতেই রং তৈরি করে নিতেন। কোনও কোনও জায়গায় শিল্পীরা বাইরে থেকে রং আনতেন। গোজিনার শিল্পীরা রং আনতেন রাজনারায়ণ চক থেকে। গোজিনার রাসমেলা তুলসীমঞ্চ বিক্রির জন্য বিখ্যাত ছিল।

হাওড়া জেলার শ্যামপুর থানার অন্তর্গত সমসপুর গ্রামের শিল্পীরা সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সংগৃহীত মাটি তুলসীমঞ্চ তৈরির কাজে ব্যবহার করতেন আর মেদিনীপুর জেলার অনন্তপুর, রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে রং আনাতেন তুলসীমঞ্চ অলংকরণের কাজে।

বাঁকুড়া জেলার বাঁকুড়া থানার অন্তর্গত সেন্দড়া গ্রামের মৃৎশিল্পীরা পোড়ামাটির নানান শিল্পসামগ্রী তৈরির পাশাপাশি পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চ বানান।

একসময় বর্ধমান জেলার খাজুরডিহি ও চাণ্ডুলি গ্রামে (দুটিই কাটোয়া থানার অধীন) তুলসীমঞ্চ তৈরি হত। যেসব আজ অতীত।

এছাড়া মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার অন্তর্গত পূর্বকোলা, বিষ্ণুবাড়, যশোমন্তপুর, পটাশপুর থানার আগড়পাড়া, ভগবানপুর থানার বিভীষণপুর, মাদুরের জন্য খ্যাত সবং থানার বালিবান্দা, কেশপুর থানার আমড়াকুচি গ্রামে এককালে তুলসীমঞ্চ তৈরি হত। এখন আর হয় না বললেই চলে।

তুলসীমঞ্চ তৈরির জন্যই আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন এমন কয়েকজন শিল্পী : রামাপদ বেরা (গ্রাম পানিথর, থানা সবং); বৈকুণ্ঠ পাল, তস্য পুত্র অনুধ্বজ পাল এবং তাঁর ছেলে বংশী পাল (গ্রাম বিষ্ণুবাড়, থানা তমলুক); গোকুলচন্দ্র পাল (গ্রাম রঘুনাথবাড়ি, থানা পাঁশকুড়া); পঞ্চানন সুকাইত (গ্রাম শ্রীকণ্ঠা, থানা ময়না); প্রয়াত ত্রৈলক্যনাথ দাস (গ্রাম মির্জাবাজার, থানা মেদিনীপুর সদর); বটকৃষ্ণ দাস১০ (গ্রাম আমড়াকুচি, থানা কেশপুর); প্রয়াত দ্বারিকানাথ পাল ও তাঁর ছেলে প্রয়াত পরমেশ্বর পাল এবং তস্যপুত্র রবীন পাল১১, জগন্নাথ পাল১২, শ্রীনিবাস পাল (সকলেই কিয়ারানা গ্রামের বাসিন্দা); অর্জুন বেরা১৩, হারাধন বেরা১৪, নারায়ণচন্দ্র দাস১৫ (প্রত্যেকেই পটাশপুর থানার আগড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা); মুকুন্দ পাল১৬ (গ্রাম খসরবন, থানা পাঁশকুড়া) প্রমুখ।

বসতবাড়ি থেকে বেরোনোর পথে সাধারণত ডানদিকে স্থাপন করা হয় তুলসীমঞ্চ। যে অঞ্চলে যে প্রজাতির তুলসীগাছ (যেমন, রাম তুলসী, সীতা তুলসী ইত্যাদি) সহজলভ্য সাধারণত তার চারাই লাগানো হয়ে থাকে। সাঁওতালরা তুলসীমঞ্চে লাগান কৃষ্ণ তুলসী। আত্মপরিচয়ের স্বতন্ত্র লিপি লোকাচারের বয়ানে।

বাঙালিদের শ্রাদ্ধের আমন্ত্রণপত্র এবং মেনু কার্ডে প্রায়শই চোখে পড়ে কালো রেখাঙ্কনে তুলসীমঞ্চের ছবি। দৈনিক সংবাদপত্রের শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপনে প্রয়াত মানুষটিকে স্মরণ করে লিখন–চিত্রনের একপাশেও থাকতে দেখা যায়। বাড়িতে কেউ মারা গেলে তুলসী গাছের পাতা তুলে এনে মৃত ব্যক্তির বন্ধ চোখের পাতার ওপর রাখার রীতি এখনও রয়েছে।

সাধারণত একটা তুলসীমঞ্চই স্থাপন করা হয়ে থাকে। একে বলে সংস্কার বা অভিষেক। পাঁচটি তুলসীমঞ্চ স্থাপন করলে তাকে বলে প্রতিষ্ঠা। পাঁচটি তুলসীমঞ্চকে এককথায় বলে হরিমন্দির। পাঁচটির মধ্যে একেবারে মাঝেরটি সবচেয়ে বড়। একে পুজো করা হয় গৌরাঙ্গ রূপে। দু’পাশে দুটো করে থাকে আরও চারটি তুলসীমঞ্চ। এগুলো পূজিত হয়ে থাকে গদাধর, অদ্বৈত, শ্রীবাস ও নিত্যানন্দ রূপে। হরিমন্দির পরিচিত পঞ্চ–নারায়ণ মন্দির নামেও। এ ধরনের তুলসীমন্দির বা হরিমন্দির নিতান্ত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ছাড়া বড় একটা স্থাপন করতে দেখা যায় না গৃহস্থবাড়িতে।

বর্তমানে সিমেন্টের তৈরি হরিমন্দিরের ছোট সংস্করণের দেখা মেলে। আজকাল অবশ্য ছাঁচে তৈরি সিমেন্টের তুলসীমঞ্চেরই কদর বেশি।

তুলসীমঞ্চের মধ্যে মাটি ভর্তি করে তুলসী গাছ লাগানো হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় তুলসীমঞ্চের ওপরের অংশে পৃথকভাবে মাটির টব বা অন্য পাত্রে মাটি ভর্তি করে তাতে তুলসী গাছ লাগাতেও দেখা যায়।

পৌষ সংক্রান্তিতে ময়না এলাকায় কেলেঘাই নদীর তীরে বসে তুলসীচারার মেলা। পনেরো দিন ধরে চলে। এই মেলায় বিক্রি হয় তুলসীমঞ্চ। তুলসীমঞ্চ তৈরির ব্যাপারটা পশ্চিমবঙ্গে মূলত অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলাতেই প্রসার লাভ করেছে। লক্ষণীয় বিষয়, এই জেলার তমলুক মহকুমায় পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চের শিল্পীদের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। ধর্মাচরণ, পোড়ামাটির চর্চা ও ঐতিহ্য, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিবেশী ওড়িশার সঙ্গে সামাজিক–সাংস্কৃতিক–নৃতাত্ত্বিক আদানপ্রদান মেদিনীপুর জেলায় পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চের বিকাশে সহায়ক হয়েছে।

নান্দনিক মূল্য থাকা সত্ত্বেও পোড়ামাটির উপকরণ হিসেবে তুলসীমঞ্চের ভূমিকা রোজকার জীবনে অত্যন্ত সীমিত। কোনওভাবেই এটি দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যাদির মতো গুরুত্ব পায়নি। তথাপি এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। নতুবা জনমানসে রুচির পরিবর্তন, বাসস্থানের ধরন বদলানো ইত্যাদি কারণে অচিরেই হারিয়ে যাবে বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্প।

এখনও যেসব জায়গায় গেলে উল্লেখযোগ্য পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চের দেখা মিলবে সেরকম কয়েকটির কথা বলা হল। সবক’টিই মেদিনীপুর জেলায়।

১) কিসমত জগন্নাথচক গ্রামে নারায়ণচন্দ্র দাসের বাস্তুভিটায় আছে আড়াই ফুট উঁচু এবং পাঁচ ফুট পরিধি বিশিষ্ট চারকোনা তুলসীমঞ্চ। ওপরের অংশে চারটি বড় ফুলের পাপড়ির অলংকরণ রয়েছে। নীচের একদিকে আছে জল বেরোনোর পথ। প্রায় ১১০ বছর আগে এটি বানিয়েছিলেন গৃহকর্তার ঠাকুরদা প্রয়াত গুপীনাথ দাস।

২) মেদিনীপুর শহরে মির্জাবাজারে সমীরণ পালের বাড়িতে আছে প্রায় তিন ফুট উঁচু বিরাট তুলসীমঞ্চ। এর গায়ে আছে নৃত্যরতা নারীমূর্তি-সহ ফুলের রিলিফের কাজ। এই মঞ্চের ওপরের খোলা অংশ অলংকারসমৃদ্ধ কলসি আকৃতির।

৩) পানিপারুল গ্রামে মুক্তেশ্বর মন্দিরের পিছনে দে-বাড়িতে তুলসীমঞ্চ আছে। এর গায়ে রাধাকৃষ্ণ, গৌর–নিতাই, ওঁ এবং একজোড়া ময়ূরের ভাস্কর্য আছে মঞ্চের চার দেওয়ালে। এটি প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি পুরনো।

শুধু বাড়ি নয়। গড়বেতা, এগরা, নাচিন্দা, পটাশপুর, নন্দকুমার, কোলাঘাট, চাউলখোলা, দেপাল প্রভৃতি জায়গায় রাস্তার ধারেও তুলসীমঞ্চের উপস্থিতি চোখে পড়েছে।

বাঁকুড়া শহরের কাছেই গন্ধেশ্বরী নদীর গা ঘেঁষে গ্রাম সেন্দড়া। এই গ্রামেই বাস শিল্পী মানিকচন্দ্র কুম্ভকারের। ইনি যে তুলসীমঞ্চ তৈরি করেছিলেন (১৯২২) তার দেওয়ালগাত্রের ভাস্কর্য চমকপ্রদ। চারকোনা মঞ্চের চার দেওয়ালে চারটি দরজার আকারে ফাঁকা অংশ। চারপাশ ফুল, যুদ্ধবাজ ষাঁড়, পক্ষীরাজ ঘোড়া, প্যাঁচা, বোঙা হাতির ভাস্কর্য দিয়ে অলংকৃত। চার কোণে চারটি হাতি। ওপরের অংশে খোল–করতাল বাদনরত ভক্তবৃন্দ। এই অলংকরণে ষাটোর্দ্ধ শিল্পী ফুটিয়ে তুলেছেন মুসলমান ভক্তের রূপ। মঞ্চটির উচ্চতা মাত্র এক ফুট। এ ধরনের তুলসীমঞ্চ বিরল বললেও কম বলা হয়।

গ্রামবাংলার চৌহদ্দির বাইরে বিভিন্ন জেলা–মফস্‌সল শহর, গঞ্জ, এমনকি কলকাতার মতো মহানগরেও এককালে তুলসীমঞ্চ স্বমহিমায় বিরাজ করত। বাড়ির সামনের উঠোনে এককোনায়। ছেলেবেলায় বেলেঘাটায় আমরা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তার পাশের বাড়ির উঠোনে ছিল তুলসীতলা বা তুলসীমঞ্চ। সেখানে প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় সমবেত লোকেরা সমস্বরে শনি ঠাকুরের বন্দনা করত। উচ্চস্বরে তিন বার। তার পর গুড়ের বাতাসা ছড়িয়ে দেওয়া হত। যে যার মতো কুড়িয়ে খেত। তবে এই এই ক্রিয়াকর্মের পরে মুখ, হাত–পা ধুয়ে গায়ে গঙ্গাজল ছিটোনোর পরই গৃহে প্রবেশের অনুমতি মিলত। এর অন্যথা হলে লোকবিশ্বাস ছিল, ঘরে শনি ঢুকবে।

কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বড় বড় শহরগুলিতে তুলসীতলা শব্দটি এখন আর তেমন শোনা যায় না বললেই চলে। সাধারণভাবে এর অর্থ তুলসী গাছের তলা। তবে তুলসীমঞ্চ যেখানে আছে সেই জায়গাটি বোঝাতেও উচ্চারিত হত শব্দটি। সাহিত্যে প্রয়োগের নমুনা : ‘‘তুলসীতলায় প্রদীপ দোলে’’ (জসীমউদ্দিন, ১৯২২)। বাংলা ভাষায় স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের অধিকারী এই শব্দটি নিয়ে রচিত প্রবাদ—

“তুলসীতলায় দিয়ে বাতি, পুরাণ পাপী হলেন সতী।” পড়ুয়াদের হস্টেল–মেসবাড়িতে যে মেয়ে (গ্রাম থেকে আসা) শনিবার উপোস থাকত বা নিরামিষ খেত তার সম্পর্কে সহপাঠীরা বলত, তুলসীতলার সতী। এছাড়া, গলায় সুর নেই এমন ব্যক্তির গান গাওয়ার অক্ষম প্রয়াস দেখে তার উদ্দেশে বলা হত তুলসীতলার গায়ক। এই অভিধায় চিহ্নিত করার মধ্যে রয়েছে তাচ্ছিল্য ও কটাক্ষ।

শহরে ইট, বালি, সিমেন্ট প্রভৃতি দিয়ে তৈরি হত তুলসীমঞ্চ। অনেকে তার ওপর লাল বা সাদা রং লেপে দিতেন। রাজমিস্ত্রিরা বালি–সিমেন্টের মিশেল দিয়েই করতেন ফুল, লতা–পাতা, গৌর–নিতাই, খোল–করতাল বাদনরত ভক্তবৃন্দ, রাধাকৃষ্ণ, জোড় হাতে নমস্কার, জগন্নাথ–সুভদ্রা–বলরাম, ওঁ, নারায়ণ–লক্ষ্মী, শ্রী শ্রী বিষ্ণুমন্দির লেখা, রামসীতা প্রভৃতি।

নিমকাঠের ঘেরাটোপে তৈরি তুলসীমঞ্চও দেখেছিলাম ভবানীপুরে মনোহরপুকুর রোডে একটি বাড়ির বারান্দায় ঝোলানো অবস্থায়। শিলিগুড়ির বাঘাযতীন কলোনিতে এক ভদ্রলোকের ফ্ল্যাটে বারান্দার এককোনায় সযত্নে রাখা ছিল (১৯৯৩) কাচের তুলসীমঞ্চ, মাঝখানের ফাঁকা অংশটুকু মাটি দিয়ে ভরাট করা ছিল। ওপরে বসানো ছিল একটি মাপসই অর্ধগোলাকার কাচের অংশ, যার ঠিক মাঝখানে থাকা বড় ফুটোর মধ্যে বসানো ছিল তুলসী গাছ।

শেষ করব তুলসী প্রসঙ্গে ‘বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ’–এর অংশবিশেষ উৎকলিত করে : ‘‘ভারতে ব্রিটিশ শাসনকালে এক জার্মান চিকিৎসক নাকি ভারতীয় বৈদ্যদের সংস্পর্শে এসে বলেছিলেন— যে দেশে তুলসী, বেল, নিম গাছ ঘরের সামনেই থাকে, সে দেশে মানুষের অসুখ হওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখতে পান না। কেবল তাই নয়, শোনা যায়, গৃহের পাশে তুলসী গাছ থাকলে সেই গৃহের ধারে–কাছে বজ্রপাত হয় না। উপরোক্ত ইন্দ্রের বজ্রনিক্ষেপ কাহিনী তারই প্রাচীন বয়ান। আরও শোনা যায় যে, কোনো কোনো জার্মান–দেশীয় বিল্ডিং ডিজাইনে বারান্দায় বিভিন্ন তলে বজ্রবিরোধী–ব্যবস্থা হিসেবে তুলসীগাছ লাগানোর পৃথক স্থান রাখা থাকে, যা একইসঙ্গে বাসিন্দার পক্ষে স্বাস্থ্যকরও বটে।’’১৭

 

সূত্র :

১) জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস, বাঙ্গালা ভাষার অভিধান, প্রথম ভাগ, সাহিত্য সংসদ, আগস্ট ২০১৯, পৃ. ৯৯।

২) কৃষ্ণদ্বৈপায়ন–মহর্ষি–শ্রীবেদব্যাস–প্রণীতম্ ব্রহ্মবৈবর্ত্তপুরাণম্, নবভারত পাবলিশার্স, ১৪২২, পৃ. ২।

৩) প্রায় ১৬-১৭টি তুলসীমঞ্চ বানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট গ্রামে পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চ তৈরির শিল্পটি পুরনো।

৪) এই গ্রামে উত্তরাধিকার সূত্রে পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চ তৈরির রেওয়াজ চলে আসছে। গ্রামেরই সতীশচন্দ্র দাস ও মদনচন্দ্র পাল এই ঐতিহ্য রক্ষায় আগ্রহী।

৫) হাতে–কলমে কাজ শিখেছেন বাবা সদয় বেরার কাছে।

৬) বর্তমানে আর তুলসীমঞ্চ বানান না। এঁর শিল্পগুরু ছিলেন বাবা ও ঠাকুরদা।

৭) ইনি চার/ছয়/আট কোণবিশিষ্ট প্রায় ৫৮টি তুলসীমঞ্চ তৈরি করেছেন। বংশপরম্পরায় পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চ তৈরি করে আসছেন এঁরা।

৮) এই গ্রামের ৪৬টি মৃৎশিল্পী পরিবারের মধ্যে ২২টি পরিবার পোড়ামাটির কাজ করত। তবে তুলসীমঞ্চ তৈরি করতেন এই একজনই মূলত।

৯) ইনি একটি বিশাল তুলসীমঞ্চ তৈরি করেছিলেন। উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট এবং পরিধি সাড়ে সাত ফুট। এটি আছে মির্জাবাজারে ধনঞ্জয় দাসের বাড়িতে।

১০) প্রায় সিকি শতক ধরে কেবল চার কোণবিশিষ্ট তুলসীমঞ্চই তৈরি করে আসছেন। এরকম তুলসীমঞ্চ গড়েছেন সাড়ে তিনশোর বেশি।

১১) এঁর তৈরি তুলসীমঞ্চ পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলা এমনকি রাজ্যের বাইরেও গেছে।

১২) সত্তরোর্দ্ধ এই শিল্পী পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চ তৈরিতে অত্যন্ত দক্ষ।

১৩) চারকোণের তুলসীমঞ্চ তৈরিতে কৃতি।

১৪) ইনিও তুলসীমঞ্চ তৈরিতে পারদর্শী।

১৫) চাকে গোলাকার তুলসীমঞ্চ তৈরিতে সুনাম অর্জন করেছেন, গড়েছেন শতাধিক তুলসীমঞ্চ।

১৬) পোড়ামাটির তুলসীমঞ্চ নির্মাণে প্রবাদপ্রতিম শিল্পী।

১৭) কলিম খান ও রবি চক্রবর্তী, বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ, প্রথম খণ্ড, ভাষাবিন্যাস, চৈত্র ১৪১৭, পৃ. ৪৭৫–৪৭৬।

অঙ্কন : দেবাশীষ সাহা 

সেকেলে গপ্পো পর্ব ২

সেকেলে গপ্পো পর্ব ৩

সেকেলে গপ্পো পর্ব ৪

সেকেলে গপ্পো পর্ব ৫

সেকেলে গপ্পো পর্ব ৬

সেকেলে গপ্পো পর্ব ৭

সেকেলে গপ্পো পর্ব ৮

সেকেলে গপ্পো পর্ব ৯

সেকেলে গপ্পো পর্ব ১০

সেকেলে গপ্পো পর্ব ১১

সেকেলে গপ্পো পর্ব ১২

সেকেলে গপ্পো পর্ব ১৩

সেকেলে গপ্পো পর্ব ১৪

সেকেলে গপ্পো পর্ব ১৫

মতামত জানান

Your email address will not be published.