বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

স্লেট

শহরের সমস্ত সুযোগসুবিধা বর্জিত এরকম একটা জায়গা, যেখানে মোবাইলের নেটওয়ার্কও ঠিকমতো কাজ করে না, সেখানে সে করবে তার অহংকারের এই চাকরি!

মানস দাস

 

একটা কাঁচা রাস্তার শেষে গিয়ে স্কুটিটা দাঁড় করাল অনু। তার আগে রাস্তাটা একটা ঢালাই করা পিচের রাস্তা ছেড়ে এসেছে মিনিট দুয়েক হল। সামনে একটা টিনের শেড দেওয়া চালা আর একতলা একটা বিল্ডিং। বিল্ডিংটার বাইরে একটা টেপা নলকূপ। তার একপাশে একটা অল্প বিস্তৃত সিমেন্টের অসম্পূর্ণ দেওয়াল আর দেওয়ালটার ঠিক মুখে একটা বট গাছ। এটারই নাম দিগন্তপুর প্রাইমারি স্কুল।
স্কুলটার বাইরে দাঁড়িয়ে অনন্যার প্রথম যেটা মনে হল, ও চাকরিটা করবে কীভাবে!
অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইনাল মেরিট লিস্ট, এমপ্যানেলড-২১। চোখ ঝকঝক করে উঠেছিল কম্পিউটার স্ক্রিনে নিজের নামটা দেখে। অনন্যা একটা চাকরি চেয়েছিল। প্রাইমারি বোর্ডে সিলেকশন হলেও একটা কাজ চেয়েছিল নিজের মতো। বিদ্যাসাগর ইউনিভার্সিটির ইংরেজির মেধাবী ছাত্রী সে।
অনন্যার দাদা একটা সরকারি কলেজের অধ্যাপক। বাবা ছিলেন ব্যাংক ম্যানেজার। অনু বসেছিল প্রাইমারির পরীক্ষায়। এমন নয় যে আরও ভাল কিছুর সুযোগ ছিল না তবু জীবনে কখনও কখনও সাজানো গর্বের আকাশে না উড়ে মাটিতে পা রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ানোটা বেশি জরুরি। তাই বাবা-মা না চাইলেও অনু চেয়েছিল চাকরিটা করতে।
কিন্তু এটা কী! খাঁ খাঁ প্রান্তরের মাঝে শূন্য এক কংক্রিটের দেওয়াল শুধু। অনু স্কুটিটাকে বট গাছের ছায়ায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাল। শেষ চৈত্রেও সূর্যের তাপ আগুন ধরাচ্ছিল। এলাকাটা বেশ ফাঁকা। সামনে একটা বসতি দেখা যাচ্ছে অবশ্য। আসার পথে জিজ্ঞেস করেছিল এক চায়ের দোকানিকে। দোকানি আঙুল তুলে দেখিয়ে দিয়েছিলেন, “সামনের রাস্তায় সোজা…।”
একটা গরম বাতাস খেলে গেল মুখের ওপর। অনু ওড়নার আঁচল চেপে ধরে মুখে। স্কুলটা কি বন্ধ? কাউকেই তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। একটা কুকুর বট গাছটার তলায় ল্যাজ গুটিয়ে বসে ছিল। তাদের এলাকায় নতুন অতিথি এসেছে জেনেও মুখ তুলে একবারও চেয়ে দেখেনি ওর দিকে।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অনু। ব্যাগ হাতড়ে মোবাইলটা খোঁজার চেষ্টা করে। বেলা বারোটা এখন। মোবাইল স্ক্রিনে তিনটে মিসড কল দেখাচ্ছে। দুটো বাবার আর শেষেরটা নীল করেছে।
বাবা নিশ্চয়ই পৌঁছে যাওয়ার খবর জানতে ফোন করেছিল। অন্য কোনও প্রয়োজনে নয় । অবশ্য তাকে নিয়ে আজকাল খুব কম প্রয়োজনই হয় বাবার। আসলে দাদাকে নিয়ে বাবার মনের আশা আকাঙ্ক্ষার যে তরঙ্গ  সেটা অনুর বেলায় যেন ধাক্কা খায় কোথাও। নীলও কি একইরকম?

ওড়নাটা মুখে চেপেই হলদে-সাদা ঘাসের ওপর দিয়ে হেঁটে বিল্ডিংটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল অনু। দরজাটা আধ ভেজানো। সিলিং ফ্যান ঘোরার বিশ্রী একটা আওয়াজ কানে আসছে। ভেতরে একটা জানলার পাল্লা খুলে দেওয়া হয়েছে। তাতে বাইরের আলো এসে আলোকিত করে রেখেছে ঘরটাকে।
দরজাটা ঠেলে অনু ভেতরে ঢুকে পড়ে।
একটা কাঠের চেয়ার আর একটা ক্ষয়ে যাওয়া কালো ব্ল্যাকবোর্ড। এছাড়া আর কিচ্ছু নেই ঘরের ভেতরে। চারপাশের দেওয়াল জুড়ে অজস্র ঝুল। ধুলোয় প্রায় ঢেকে যাওয়া একটা আলোর বাতি আর সেই কর্কশ আওয়াজ তোলা ফ্যানটা। নীচের মেঝেয়  জায়গায় জায়গায় ফাটল। এককোণে একটা ভাঙা আলমারি।
দরজাটা দিয়ে আবার একবার বাইরে তাকিয়ে দেখে অনু। যেখানে সেখানে লম্বা ঘাস আর আগাছা গোটা চত্বরটা জুড়ে। চৌহদ্দির অসমাপ্ত দেওয়ালটা কবেকার কে জানে!
মনটা খানিক দমে যায় অনুর। শহরের সমস্ত সুযোগসুবিধা বর্জিত এরকম একটা জায়গা, যেখানে মোবাইলের নেটওয়ার্কও ঠিকমতো কাজ করে না, সেখানে সে করবে তার অহংকারের এই চাকরি!
দাদাকে একটা টেক্সট করে ফেলল চট করে। দাদাই খবরটা  দিয়ে দেবে বাবাকে। দাদা মানুষটাকে বরাবর শ্রদ্ধা করে অনু। এখনকার বহু অমানুষের ভিড়ে দাদা যেন মন ভাল করা এক ব্যক্তিত্ব। দাদাকে মন খুলে অনেক কিছু বলা যায় যা নীলকেও যায় না। আসলে যে মানুষটা ছোটবেলা থেকে শুধুই কৃষ্টি আর শিল্পের পূজো করে গেল তার কাছে সামাজিক চিন্তাভাবনাগুলোও বেশ আলাদা। দাদার সঙ্গে কথা বলে অনু শান্তি পায়।
“আরে দিদিমণি… এসে গেছেন আপনি!”
অনন্যার চমক ভাঙে পিছনে একটা অচেনা গলার স্বর শুনে।
লোকটির নাম হরিপদ গুঁই। এই দিগন্তপুর স্কুলে কাজ করেন। গত চার বছর যাবৎ দেখাশোনা করছেন স্কুলটা। পাশের গ্রামে গুঁই ঘরের লোক উনি। সেখানকার একমাত্র শিক্ষিত!
“কালই খবর পেয়েছি দিদিমণি, আপনি জয়েন করছেন। তাই সকাল সকাল ঘরদোর সব ঝেঁটিয়ে সাফসুতরো করে চা আর জিলিপি আনতে গেছলুম এই আর কি।” হরিপদ  মুচকি হেসে বললেন।
অনন্যা লক্ষ করে হরিপদবাবুর এক হাতে দুটো ছোট মাটির ভাঁড় দিয়ে ঢাকা একটা গ্লাস আর অন্য হাতে একটা প্লাস্টিকের প্যাকেট। ওই চা আর জিলিপি।
একটা লাইন টানা অফিসিয়াল খাতায় প্রথমে অনন্যার নামধাম, ঠিকানাপত্তর আর অ্যাকাডেমিক যাবতীয় রেকর্ড সব লিখে মিলিয়ে নেওয়া হল। তার পর অ্যাটেনডেন্স রেজিষ্ট্রার খাতায় অনন্যা তার প্রথম সইটা করল।
খাতাটা বন্ধ করে ভাঙা আলমারিটায় ভরে হরিপদ বললেন, “ব্যাস, কমপ্লিট। ইউ আর ওয়েলকাম ম্যাডাম।”
অনন্যার মনে একটা দোলাচল কাজ করছিল বেশ কিছুক্ষণ। বলল, “আচ্ছা হরিপদবাবু, স্কুলের ছেলেমেয়েরা…।”
হরিপদ আবার  হেসে উঠলেন। বললেন, “দিদিমণি, সবাই আছে। তবে গন্ডগাঁয়ে দিন আনি দিন খাই ঘরের ছেলেপিলে। এদিক-ওদিক হাওয়ার পালে থাকে সব।”
“মানে!” অনন্যা বুঝতে পারে না ঠিক।
“মানে, ওই অভ্যেস নেই তো! তাই স্কুল এক-আধ দিন খোলা থাকলে ওদের একটু ডেকে ধরে নিয়ে আসতে হয়, এই আর কি।”
আঁতকে ওঠে অনন্যা। স্কুল হয় এক-আধ দিন… অভ্যেস নেই… ছেলেমেয়েদের ডেকে নিয়ে এসে স্কুলে পড়ানো হয়… হায় ভগবান! সে হাসবে না কাঁদবে বুঝে উঠতে পারছিল না। তার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। তার ওপর এই ভরদুপুরে চা আর জিলিপি। জাস্ট অসহ্য!

***

কাল রাতেও নীলের সঙ্গে একপ্রস্থ কথা কাটাকাটি হল অনুর। ব্যাপারটা নিয়ে সমর্থন তো দূর অস্ত, নীল হাসাহাসি করল পর্যন্ত। বাবার কথাটাই তাহলে ঠিক? উচ্চশিক্ষিত হয়ে গাঁ-গঞ্জে অ-আ-কখ শেখানোটা বেশ হাস্যকর তাহলে? আর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ডেকে নিয়ে পড়ানোর ব্যাপারটা যেন আরও হাসির খোরাক জোগানো। অনু একটা কথাও বরদাস্ত করতে চায়নি। কী ভেবেছে কী সব! পুনের হাফ লাখের মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানির ফাই-ফরমায়েশ অনেক বেশি সম্মানের? অনেক বেশি যোগ্যতার? গাদা গাদা ডিগ্রিধারী হলেই শুধু যোগ্যতা হয়ে যায় না সবার।
রাগে ফোনটা কেটে দিয়েছিল অনু। তার পর থেকে আর কোনও কথা হয়নি নীলের সঙ্গে।
কিন্তু এই ক’দিন অনু নিজেও তো সেভাবে নিজেকে বোঝাতে পারেনি। ঠিক কাজটাই বেছে নিয়েছে তো সে? কোথাও ভুল করছে না তো? পারবে তো ওই জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নিতে?
এতগুলো জিজ্ঞাসা নিয়ে আজ সকালে ব্যাগ গোছাচ্ছিল অনু স্কুলে যাবে বলে। গত দু’দিন হরিপদ আসেননি। কোন সম্পর্কের বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে গেছেন। আজ  ফিরবেন কিনা পরিষ্কার করে বলেননি কিছু। বিল্ডিংটায় একা বসে বসে শুধু সময় পার করে গেছে  অনু এই ক’দিন। নানা চিন্তায় মাথা ভার হয়ে এসেছে তবু কোনও ছেলেমেয়ের দেখা পায়নি। তাহলে হরিপদবাবুর কথাটাই কি সত্যি?

***

দিগন্তপুরের রাস্তাটায় নেমে আজ আর স্কুলে ঢুকল না অনু। বরং কাঁচা রাস্তাটা ধরে এগিয়ে গেল বসতির দিকে।
মাথার ওপর রোদের তেজ আজ খানিক কম। আকাশে ছিট ছিট জমে কালো মেঘ। হয়তো বৃষ্টি নামবে একটু বাদে।
খানিকটা এগিয়েই অনুর নজরে এল কয়েকটা মাটির বাড়ি পরপর। সামনে পরিপাটি করে নিকোনো মাটির উঠোন। সেখানে দড়ির খাটিয়া পাতা। বাড়িগুলো পেরিয়ে একটা বাঁশঝাড়। অনু লক্ষ করে বাঁশঝাড়ের ওপাশে কয়েকটা ছেলেমেয়ে খেলে বেড়াচ্ছে নিজেদের মধ্যে। সে ধীর পায়ে এগিয়ে যায় সেদিকে।
দুটো পা সামনে এগিয়ে প্রথমে একটার বুড়ো আঙুলে অন্যটার গোড়ালি চাপাল দুটো ছেলে। ওরা সামনাসামনি বসে ছিল। ছেলেদুটো তার পর নিজেদের পাগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে ঠেকিয়ে একটা আকার দিল। ওপরে থাকা পায়ের আঙুলের ওপর নিজেরা নিজেদের হাতের আঙুলগুলোকে চাপাল। এক হাতের কড়ে আঙুল দিয়ে পায়ের ওপর ভর মেরে ওই হাতটার বুড়ো আঙুলের ওপর অন্য হাতের কড়ে আঙুল চাপাল। অন্য হাতটার বুড়ো আঙুলগুলো সবার ওপরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রইল শেষে। এভাবে ওরা একটা অদ্ভুত আকার সম্পূর্ণ করে নিজেরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে উঠল।
অনু দেখল, এর পর বাকি ছেলেমেয়েগুলো ওই অদ্ভুত আকারের ওপর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে একবার করে এপার থেকে ওপারে যাওয়া শুরু করল আর তার পর ওপার থেকে এপারে এসে খিলখিল করে হেসে উঠল।
ভারি অদ্ভুত! এ খেলা অনু খেলেনি কখনও। বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল সে।

***

বেশ কিছুক্ষণ হল অনন্যা দাঁড়িয়ে ছিল মাটির উঠোনে। মালতীর মা জল, বাতাসা আনতে গেছে তাদের গাঁয়ের স্কুলের দিদিমণিটির জন্য।
ওই একরত্তি ছেলেমেয়েগুলোই ওকে এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে একটু আগে। ওদের খেলার মাঝেই হঠাৎ করে অনুর সঙ্গে চোখাচোখি হতে ওরা সব একছুটে এসে হাজির হয়েছিল। ওদের পিছু পিছু অনুও। তার পর মালতীর মায়ের সঙ্গে ওর আলাপ হয়েছে।
জল, বাতাসা হাতে নিয়ে অনু মালতীর মাকে জিজ্ঞেস করে, “তোমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়?”
মালতীর মা হেসে ঘাড় নাড়ায়।
অনু ফের জিজ্ঞাসা করে, “কী কর তোমরা?”
মালতীর মা জবাব দেয়, “মরদ মাঠে গেইছে কুন সকালে। ঘর ফিরবে আবার সাঁঝবেলায়।”
“তোমার মেয়ে কোথায়?”
মালতীর মা বলতে পারে না।

অনু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। পুরনো ভাবনাগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এই পরিবেশে সে কাজ করবে কীভাবে!
নীল আবার ফোন করছিল। পুনেতে ওর চেনাজানা একটা নামকরা কোম্পানিতে অনুর চাকরির কথা বলছিল সেদিন। বিষয়টায় বাবার সায় আছে একশো শতাংশ। আসলে বিয়ের পর একসঙ্গে থাকলে সেটাই হয়তো উচিত হবে। দাদা বলছিল, “মনের মতো সব কিছু সবসময় পাওয়া খুব মুশকিল রে অনু। তবু আমরা নিজেরা অন্তত নিজের মতো চেষ্টাটা তো করতে পারি। তাতে একবিন্দু লজ্জা নেই।”
আচমকা অনুর ভাবনায় ছেদ পড়ে। পিছন ফিরে দেখে, ওর চুড়িদারের ওড়নাটা ধরে টান দিচ্ছে  একটা একরত্তি মেয়ে।
“কিছু বলবি?” অনন্যা গ্লাসের জলটা শেষ করে নিয়ে জিজ্ঞেস করে মেয়েটাকে।
মেয়েটা হাতে একটা স্লেট নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সামনে। সেটা বাড়িয়ে দেয় ওর দিকে। অনু দেখল, সেখানে পরিষ্কার হাতের অক্ষরে একটা নাম লেখা স্লেটে।
“তোর নাম মালতী টুডু?” অনু মৃদু হেসে বলে।
মেয়েটা ঘাড় দুলিয়ে হেসে সায় দেয়।
ওর মা একটু আগে ওর কথাই বলেছিল অনুকে। আজন্মা বোবা মেয়েটা।
বুকের মধ্যে জমাট বাঁধা কষ্টটা হঠাৎ সাঁ করে কোথায় যেন নেমে গিয়েছে একমুহূর্তে! মেয়েটার মুখে কথা ফোটে না কোনও। তবু ওর স্লেটে লেখা নিজের নাম অনেক কিছু বলে দিয়েছে অনুকে। মালতীর মা বলছিল, ওরা ছাড়াও আশপাশে আরও কয়েকটা পরিবার বাস করে এখানে। তারা হেমব্রম। এই টুডু, গুটিকয় হেমব্রম— এরাই অনুর ছাত্রছাত্রী। অনুর আগামীর স্বপ্ন।
একটা দমকা হাওয়া উঠল হঠাৎ। রাস্তার কিছু খড়কুটো সঙ্গে নিয়ে নিকোনো উঠোনটায় পাক খেতে থাকল কয়েক মুহূর্ত। মেঘে একটা মৃদু গুরুধ্বনি উঠল। বোধহয় বৃষ্টি নামবে এবার।
নামুক বৃষ্টি। আজ বৃষ্টিতে ভিজতে বড্ড ইচ্ছে করছে অনুর।

অলঙ্করণ: রাজ রায় 
মতামত জানান

Your email address will not be published.