বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা
Browsing Tag

ধারাবাহিক উপন্যাস

মিলন হবে কত দিনে

এই ক’মাসে, আঠারো মাসে আঁখিতারা বই বুঝেছে। বই হল সেই তারা, যারা এখন নেই। নেই কিন্তু তাদের কথা সব রয়ে গেছে। আঁখিতারা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে, চোখের পাতা, চোখের মণি ভেজাতে ভেজাতে ডাকল, “ওরে ও মানষিরা সব, কুবির মাঝি, কারামাজভভাইরা, এই দেখে…

মিলন হবে কত দিনে

দুই জার্মানি এক হয়েছে জাতিসত্তার কারণে। ধর্মীয় বিভেদ ছিল না তাদের ভেতরে। ভাষাও ছিল এক। ভারত ভাগ হয়েছে ধর্ম নিয়ে। দাঙ্গা বাঁধিয়ে বাঁধিয়ে, মানুষের ভেতরে বিদ্বেষের বিষ ঢুকিয়ে ঢুকিয়ে পার্টিশন করা হল। সেই বিভেদ চলছে এখনও। সবক’টি দেশেই…

মিলন হবে কত দিনে

সব উর্দুরা কি খানসেনা? রফি সাহেব, সংস অফ সামসাদ বেগম, তালাত মামুদ, মজরুহ সুলতানপুরী, আর দে পাকিস্তানি মিলিটারি লাইক? স্যার, দিলীপকুমার, সায়রা বানু, রাইটার প্রেমচাঁদ, মান্টো, ভীষম সাহনি— সব কি মিলিটারির মতো খারাপ…

মিলন হবে কত দিনে

“ফিফটি টুতে আব্বা গেলেন, নতুন দেশে চাকরি হবে ভাল। আব্বা গিয়েই রেলে চাকরি পেয়ে গেলেন। টিকেট চেকার, কমলাপুর স্টেশনে পোস্টিং। তখন আমি সিক্স ইয়ারস ওল্ড। সেভেন্টি ওয়ানে কুলসুমকে নিয়া পলাই আসছি। আমি কিছুই গোপন রাখতে…

মিলন হবে কত দিনে

বনদেবী বলল, “সব থাকে। থাকে। গানের রিকড কেমন দেখিনি, তা নষ্ট করে দিলেই সব ফুরাই যাবে? যাবে না। বন কেটে দিলেই কি বন যায়? যায় না, লুকোয় থাকে, অন্ধকারে ফিরে আসে, তার পর ফের শিকড় চারিয়ে দেয়।”

মিলন হবে কত দিনে

পূর্ববঙ্গের পদ্মা দেখেছে সে, ভৈরব, রূপসা, কীর্তনখোলা দেখেছে, সেইসব নদী কত বড়, কত ঢেউ, কত উত্তাল। পূর্ববঙ্গ ঘিরে আছে যত নদ, যত নদী। তাদের গাঁয়ে, কাছে বেতনা, একটু দূরে কপোতাক্ষ। সে সাগরদাঁড়িও দেখে এসেছে। কবি…

মিলন হবে কত দিনে

দুপুর  হয়ে  গেল  আসতে।  ট্রেনে শিয়ালদা। শিয়ালদায় নেমে  রহিম আঁতকে  উঠল। কী  ভয়ানক।  পূর্ব পাকিস্তানের  উদ্বাস্তুর  সংসার  স্টেশন  জুড়ে। সব ওপার  থেকে  আসা। হায় রে  মানুষ।  রহিম  নড়তে  পারল  না। বুড়োবুড়ি  থেকে  কোলের  শিশু পর্যন্ত।…

মিলন হবে কত দিনে

“পড়বে কে? সব মরে গেছে। অমর পাল, নির্মলেন্দু চৌধুরী, শচীন কর্তা, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়...। যারা গান শুনত তারাও মরে গেছে। রেডিও উঠে গেছে। পল্লিগীতি, রম্যগীতি, অনুরোধের আসর, আকাশবাণী খাঁ-খাঁ। পড়ার আর শোনার কেউ নেই রে।”

মিলন হবে কত দিনে

ভ্যান গগ কে? রিজিয়াকে একটা বই এনে দিয়েছিল শতাব্দ। বাংলায় অনুবাদ— লাস্ট ফর লাইফ। জীবনতৃষ্ণা। পড়ে চোখে জল এসেছিল রিজিয়ার। দুঃখ, ক্লান্তি সব যেন আতিকুরের মতো। না, অতটা না। হতেই পারে না।

মিলন হবে কত দিনে

মাধব মূর্তি  ঝপ  করে  ফেলে  দিল  জলে। তার পর  ছুটতে লাগল। তার  ভয় হচ্ছিল,  কেউ দেখে  ফেলল   কিনা।   তার  মনে  হচ্ছিল,  পেছনে কেউ আসছে  কিনা।  ঘুরে  দাঁড়িয়ে  সে  জোড়হাতে প্রণাম করল,   “মা,  আমারে ভাল  রেখো,  জ্বর  দিয়ো  না  ফেমিলি রে।”